পোস্টটি পড়া হয়েছে 1,378 বার
Summary of Google DevFest Bangladesh 2016

Summary of Google DevFest Bangladesh 2016

সফল ভাবে অনুষ্ঠিত হল গুগলের ডেভেলপারদের মিলনমেলা Google DevFest Bangladesh 2016। ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহীর সহ সারাদেশের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ডেভেলপারদের পদচারণায় মুখর ছিল কারওয়ান বাজারস্থ টিসিবি ভবন। সবার বুদ্ধিদীপ্ত চাহনি আর উৎসবের আমেজে মুখরিত ছিল সেশনগুলো।

প্রাণবন্ত ও ঝর্ণার মত উচ্ছল-চঞ্চল ছিল প্রতিটি বক্তার বক্তব্য, প্রতিটি প্যানেল ডিসকাসন। এতগুলো সত্যিকারের বড় মানুষদেরকে একসাথে প্রথমবারের মত দেখলাম। এমন অনেক কথাই বক্তারা বলেছেন যেগুলো যে কোন মানুষকে তার লক্ষ্যের দিকে কয়েক গুণ বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই অমূল্য কথাগুলো সবার শোনার সৌভাগ্য হয় নি। যারা যে কোন কারণেই মিস করে গেছেন তাদের জন্য এই লেখাটি। আমি চেষ্টা করব শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেশনগুলোর সামারি লিখতে। এক্ষেত্রে চেষ্টা করব একই ধরনের কথাগুলোকে একসাথে করে লিখার জন্য। সবগুলো সেশন হয়ত সেভাবে আলাদা আলাদা করে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না। যারা অনুষ্ঠানে ছিলেন তারা পড়ে যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মিসিং মনে করেন কাইন্ডলি কমেন্টে জানাবেন। পোস্টে আমি এড করে দিব।

Google DevFest Bangladesh 2016ঢাকা সিটি কলেজের CSE ডিপার্টমেন্টের আমার ক্লাসমেট বন্ধুদের সাথে DevFest এ তোলা ছবি




Machine Learning Session by Soonson Kwon

soonson kwon
Soonson Kwon

বর্তমান সময়ের অন্যতম হট কেক টপিক হচ্ছে মেশিন লার্নিং। মানুষ পরিবেশ-পরিস্থিতি বা বই-পুস্তক পড়ে শিখে। আমরা একটা ট্যুরে গিয়ে ছবি তুললে সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে সেরা ছবিগুলো সহজেই বের করে নিয়ে আসতে পারি। অথবা স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় ছবিগুলোকে আলাদা আলাদা ফোল্ডার করে অ্যালবাম বানাতে পারি। এই কাজটা যদি মেশিনকে করতে বলি তাহলে মেশিন কিভাবে করবে?

আমরা না হয় পরিবেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে বা চোখ দিয়ে দেখে অবজার্ভ করে বুঝতে পারি। যদি মেশিনকে এই “বুঝ”টা বুঝার ক্যাপাসিটি তৈরি করে দিতে হয় তাহলে তাকেও শিক্ষা দিতে দিতে হবে “কোন ছবিটা ভাল আর কোন ছবিটা খারাপ” এটার জেনারেলাইজড অ্যালগরিদম।

ইনপুট ১ হলে আউটপুট ১, ইনপুট ২ হলে আউটপুট ২, ইনপুট ৩ হলে আউটপুট ৩… ইনপুট ৩৩ হলে আউটপুট কত? আপনি সহজেই বলে দিবেন আউটপুট ৩৩। কিন্তু মেশিনকে এই সহজ জিনিসটা কিভাবে শিখাবেন? কিভাবে তার মাথায় (!) ঢুকিয়ে দিবেন এটা একটা সিরিজ? এটাই মেশিন লার্নিং এর কাজ। আগামীর সময়টা হচ্ছে মেশিন লার্নিং এর সময়। আগামীর সময়টা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সময়। আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্কের সময়। ব্রেইনের নিউরন যেভাবে কাজ করে একই পদ্ধতিতে কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটগুলোকে কাজ করানোই হচ্ছে নিউরাল নেটওয়ার্কের কাজ। অগ্রগামী ডেভেলপারদের তাই এই অ্যাডভান্স লেভেলের টপিকগুলো শিখতে হবে। যারা “কম্পিউটার সায়েন্সে কেন ম্যাথ পড়ানো হয়? কেন স্ট্যাটিসটিক্স পড়ানো হয়?” বলে বিরক্ত হয়েছেন আর ফাঁকি দিয়েছেন তারা এই প্রশ্নের উত্তর পাবেন মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করার সময়।

মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লাই করা হয়েছে এমন কয়েকটি প্রোডাক্ট হচ্ছে Google Photos. প্রথমেই যেই উদাহরণটা দিয়েছিলাম তার সবগুলোই করা যায় এই অ্যাপের সাহায্যে। এছাড়াও মেশিন লার্নিং কাজে লাগানো হয়েছে Google Translator এ। হাজার হাজার ট্রান্সলেশনের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ট্রান্সলেশন কোনটা সেটা প্যাটার্ন অনুযায়ী আউটপুট দেয়া হয় এর সাহায্যে। আরো ব্যবহার করা হয়েছে জিমেইল ইনবক্সের  Smart Reply অ্যাপে।

আরো একটা অ্যাডভান্স টপিক হচ্ছে TensorFlow. কোন একটা পার্কিং লটে কতগুলো গাড়ি এই মুহুর্তে পার্ক করা আছে সেটা ছবি দেখে সেন্স করা যায় এর সাহয্যে। আরেকটা রিয়েল লাইফ উদাহরণ উল্লেখ করা যায় কোন একজন শষা চাষীর কথা। যিনি তার উৎপাদিত শষাগুলোকে ছোট, মাঝারি ও বড় তিনটা ভাগে ভাগ করেন। TensorFlow এর মাধ্যমে শষাগুলোর সাইজ ডিটেক্ট করে সেগুলোকে আলাদা আলাদা করে ফেলা সম্ভব।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, নিউরাল নেটওয়ার্ক, মেশিন লার্নিং এর সফল প্রয়োগ করা হয়েছে সকলের পরিচিত প্রিজমা অ্যাপে। প্রিজমার বিস্তারিত জানা যাবে এখান থেকে

Product for Local Market or Global Market?

আমরা যারা ডেভেলপার তাদের মনের কোণে এই প্রশ্ন সব সময়ই উকি দেয়। আমার প্রোডাক্টটা কার জন্য বানাবো? আমাদের দেশের জনগণের জন্য প্রোডাক্ট বানালে সেটা কি চলবে? এই প্রশ্নগুলো আমাদেরকে কনফিউজড করে দেয়। যেটাই করা হোক না কেন উভয় দিকেই সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে মোট ইন্টারনেটের ৯০%  এরও বেশি ইউজার হচ্ছে মোবাইল ইউজার। তাই আমাদের দেশের জন্য প্রোডাক্ট বানালে সেটা যদি ব্যবহার উপযোগি হয়, সেটা যদি কারো প্রবলেম সলভ করতে পারে তাহলে সেটা চলবে।

উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় a2i এর ই-পুর্জি প্রজেক্ট। যার মাধ্যমে আখ চাষীরা মধ্যসত্ত্বভোগীদের কাছে আখ বিক্রি না করে সরাসরি চিনিকলের কাছে আখ বিক্রি করতে পারে। এ পর্যন্ত ই-পুর্জি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ্য অর্ডার প্রসেস হয়েছে! অর্থাৎ এটা আমাদের চাষীদের একটা সমস্যা সমাধান করতে পেরেছে।

আমাদের চারিদিকে হাজারো সমস্যা আছে যেগুলো টেকনোলজি (সফটওয়্যার) ব্যবহার করে সমাধান করা যায়। আবার অনেক সমস্যা আছে যেগুলো শুধু অ্যাপের মাধ্যমে সমাধানের চিন্তা কার্যকর নয়। যেমন অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকার যানজট কমানোর চেষ্টা বৃথা কারণ আমাদের রাস্তারই অভাব! আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আমাদেরকেই চিন্তা করতে হবে। আমাদের মত সমস্যা অন্য দেশে নাও থাকতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় অন্যরকম গ্রুপের Vehicle Tracking System. আমেরিকা বা জাপানে ব্যবহৃত গাড়ি ট্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশন আমাদের সকল চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। কারণ উন্নত বিশ্বে ড্রাইভারের তেল চুরির সমস্যাটা নাই। তাই তাদের সিসটেমে তেল চুরি প্রতিরোধক কোন ব্যবস্থাও নাই। আর লোকাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে মাহমুদুল হাসান সোহাগ ভাইয়ের অন্যরকম গ্রুপের ভিহিকল ট্যাকিং সিসটেমে যুক্ত করা হয়েছে তেল চুরি প্রটেক্ট করার প্রযুক্তি। তেল চুরি করার সময় গাড়ির মালিককে যে কোন ভাবেই হোক নোটিফাই করা হবে। একই ভাবে উল্লেখ করা যায় অন্যরকম গ্রুপের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার প্রোডাক্ট। বাংলাদেশে যে সকল ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার পাওয়া যায় সেগুলো প্রায় সবই আসে চীন থেকে। কিন্তু দেখা যায় এই প্রোডাক্টটা নিয়ে কোন কোম্পানীই এই বাজারে টিকে থাকতে পারছে না। সোহাগ ভাইদের রিসার্চে উঠে আসে যে, চীনের প্রোডাক্টগুলো বানানো হচ্ছে ওদের গ্রীডলাইনে প্রবাহিত বিদ্যুতের বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু ওদের মানের বিদ্যুত আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। যার কারণে ঐ স্ট্যাবিজাইলারগুলো আমাদের দেশে ভাল সার্ভিস দেয় না। এই প্রবলেমের জন্য অন্যরকম গ্রুপ বাজারে এনেছে আমাদের গ্রীডের বিদ্যুতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্ট্যাবিলাইজার।

Google DevFest Bangladesh 2016

আলোচনার এক পর্যায়ে প্রশ্ন আসে নিকট বা দূর ভবিষ্যতে Amazon এর মত কোম্পানী বাংলাদেশে আসলে অন্যরকমের প্রতিষ্ঠান রকমারি ডট কম কি হুমকির মুখে পড়বে? সোহাগ ভাইয়া হ্যাঁ-না উভয় উত্তর দিয়েছেন যুক্তি সহ। প্রথমত অ্যামাজন চাইলে প্রচুর টাকা ঢেলে, মার্কেটিং করে ইউজারের অ্যাটেনশন নিতে পারে। সেটা হতে পারে রকমারির জন্য হুমকি। কিন্তু অ্যামাজন আমাদের দেশের প্রবলেমগুলোর সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, আমাদের পাবলিক ডিমান্ড। যেমন ফোনে অর্ডার নেয়া, বইয়ের কালেকশনের লেটেস্ট ইনফরমেশন পাওয়া ইত্যাদি।

আলোচনা হয় উবার ট্যাক্সি সার্ভিস নিয়ে। আলোচকগণ বলেন, বাইরের কোম্পানিগুলোকে এভাবে আটকে দিলে বিপদ। ভোক্তা হিসেবে আমার সার্ভিস পাওয়ার অধিকার বন্ধ করে দেয়া যায় না। অপরপক্ষে এটাও দেখতে হবে একই টাইপের স্টার্টআপ নিয়ে কোন দেশীয় কোম্পানি কাজ করছে কিনা। তাদেরকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এজন্য সবাইকে নিয়ে বসে সব পক্ষ রক্ষা হয় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যে কোন স্টার্টআপ বা প্রোডাক্ট ডেভেলপের ক্ষেত্রে প্রথমত বুঝতে হবে আমার ইউজারের need. অথবা তার need তৈরি করা। এমন কিছু করা যেটা আগে তার দরকার ছিল না কিন্তু আপনার প্রোডাক্ট দেখার পর তার মনে হয় “এটা হলে তো ভালই হয়!” সেজন্য গ্লোবাল মার্কেটের কথা মাথায় রেখেও কাজ করা যেতে পারে। ইতমধ্যে বাংলাদেশের অনেক কোম্পানিই বাইরের জন্য কাজ করছে। Joomla Template এর আন্তর্জাতিক বাজারে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের JOOMSHAPER. জুমশেপারের সাফল্য গাঁথা নিয়ে থাকবে আলাদা প্যারা।

আপনি লোকাল বা গ্লোবাল যে ধরণের প্রোডাক্টই বানান না কেন ইউজার যেই প্রবলেম ফেস করে সেটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। ইউজারের প্রবলেম মানে হচ্ছে সেটা আপনার প্রবলেম। আর যেখানেই প্রবলেম সেখানেই বিজনেস। গুগলের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। গুগলে সার্চ করার সময় আমরা অনেক সময়ই বানান ভুল লিখি। এরপরেও কিন্তু আমরা সঠিক রেজাল্ট পাই। গুগল দেখল মানুষ বানান ভুল করে। এটা আমাদের প্রবলেম। এটাকে সলভ করার জন্য গুগল তাদের সিসটেমকে ডেভেলপ করেছে। একই রকম ভাবে বলা যায় স্লো ইন্টারনেট থাকলে পেজ লোড হয় না। এটাও আমাদের সমস্যা। এটাকেও গুগল নিজের সমস্যা মনে করে স্লো ইন্টারনেটেও কিভাবে কাজ চালানো যায় সেটা নিয়ে কাজ করছে। তাই আপনার ইউজারের প্রবলেমের ব্যাপারে সচেতন হউন।

Successful Product and Content Marketing by Refayat Ahmed

Refayat Ahmed
Refayat Ahmed

Digital marketing আর content marketing-কে গুলিয়ে ফেলেন অনেকে। দুইটা আসলে একই জিনিস নয়। একটা প্রোডাক্ট সফল হতে দরকার তার কোয়ালিটি। দরকার পর্যাপ্ত মার্কেটিং। একটা প্রোডাক্টকে সাক্সেস করার জন্য কিছু পয়েন্ট র‍্যান্ডমলি তুলে ধরা হল।

  • যে কোন একটা প্রোডাক্টের সাফল্যের পিছনে থাকে সাধারণত ৭০ ভাগ মার্কেটিং। বাকি ৩০ ভাগ নির্ভর করে প্রোডাক্টের ফিচার/কোয়ালিটির উপর। আর মার্কেটিং এর অন্যতম বড় অস্ত্র হচ্ছে কনটেন্ট। আপনার প্রোডাক্টের কনটেন্ট যদি ভাল হয় তাহলে সেটা মানুষ গ্রহন করবেই। কোন একটা প্রোডাক্টের কনটেন্ট যখন ভাল হবে, তার উপর মার্কেটিং করলে সেই প্রোডাক্ট সফল হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি হয়। মার্কেটিং এর জন্য প্রোডাক্ট উঠে, এটা চিন্তা করে সব এফোর্ট মার্কেটিং এ দিয়ে আসল প্রোডাক্টের জায়গায় দূর্বল হলেও সমস্যা। আপনি হাটে-মাঠে-ঘাটে মার্কেটিং করে ক্যাপিটাল উজাড় করে দিলেন কিন্তু দেখা গেল আপনার প্রোডাক্টটার UX ভাল না বা এটার প্রতি মানুষের ডিমান্ড তৈরি হয় নাই তাহলে বিপদে পড়বেন। আর আপনার প্রোডাক্টটাকে “সকল রোগের ঔষধ” টাইপ বানিয়ে ফেলবেন না। সব কিছু একটার মধ্যে দিলে আপনার প্রোডাক্ট হারিয়ে যাবে। নির্দিষ্ট একটা বা দুইটা মেইন ফিচার রাখতে পারেন। এতে নির্দিষ্ট প্রয়োজনে মানুষ আপনার প্রোডাক্টের কথা মনে করবে। দেখবেন বাজারে সাবান বা তেলের বিজ্ঞাপনে একেকটা কোম্পানি একেকটা কী ওয়ার্ড ব্যবহার করে। কেউ বলে “এটা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ” আবার কোনটায় আছে “জোজবা অয়েল”। আসলে এই উপাদানগুলো সব কোম্পানির প্রোডাক্টেই থাকে। একেক জন একেকটা দিয়ে ব্র্যান্ডিং করে। একেক টুথপেস্টের ট্যাগ লাইন কিন্তু একেকটা, ঘুরে ফিরে দেখা যাবে সবার উপাদান একই। সেরকম ভাবে আপনার এক অ্যাপের মধ্যে অসংখ্য ফিচার দিয়ে ইউজারকে কনফিউজড করে দিবেন না। ইউনিকলি খুঁজে বের করার মত দুই-একটা ফিচার রাখুন।
  • আপনি আপনার প্রোডাক্টের ব্যাপারে বা মার্কেটিং এর ব্যাপারে বা আপনার আইডিয়ার ব্যাপারে কারো সাথে কথা বলতে পারেন। তার কথা শুনবেন। কিন্তু দিন শেষে সিদ্ধান্তটা আপনিই নিন। অনেকটা বানরের খেলা দেখানোর মত। বানর নাচে কিন্তু তার মালিকের ইঙ্গিতেই। এই বানর আরেক জনকে দিলে তার কাছে গিয়ে একই নাচ নাও নাচতে পারে। আপনার আইডিয়াকে আপনি যেভাবে লালন করে সুন্দর শেপ দিতে পারবেন সেটা হয়ত অন্য কেউ নাও দিতে পারে।
  • শুরুটা করুন ছোট থেকে। প্রথমেই অনেক অনেক ফিচার নিয়ে বা কন্ডিশন নিয়ে চিন্তা করবেন না। তাহলে নিজের প্রোডাক্ট ডেভেলপ করে এগুতে পারবেন না। একই সাথে মাথায় রাখুন ইউজারের কোন জিনিসটা দরকার। আপনি অনেক কষ্ট করে একটা অ্যাপ বানালেন কিন্তু এই অ্যাপটা ইউজ করা ছাড়াও মানুষের চলছে। তাহলে মানুষ শুধু শুধু আপনার অ্যাপ ইন্সটল করবে না। কারণ মোবাইলের মেমরি লিমিটেড। হয় ইউজারের ডিমান্ড অনুযায়ী প্রোডাক্ট বানান অন্যথায় ইউজারের ডিমান্ড তৈরি করুন। তাকে বুঝান যে “তোমার তো এটা আসলেই দরকার!” আপনি রিসেন্টলি কোন একটা অ্যাপ দেখে পছন্দ হলেই সেটার কপি করে আরেকটা বানাতে লেগে যাবেন না। চীনের একটা অ্যাপ বাংলাদেশের সাথে খাপ নাও খেতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যেটা দেখে কপি করছেন সেটার অলরেডি মার্কেট তৈরি হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় একই টাইপের প্রোডাক্ট আনতে হলে আপনাকে বের করতে হবে কী জিনিস এইটায় নাই? তার আলোকে নতুন প্রোডাক্ট আনতে হবে।
  • তোমার টিমের সবাইকেই প্রোগ্রামার হতে হবে না। টিমে বিজনেস বুঝে এমন কাউকে নাও। মার্কেটিং বুঝে এমন লোকও নাও। বিজনেস, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টস, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট সব কিছুর দায়িত্ব ডেভেলপার/প্রোগ্রামাররা পালন করলে নিশ্চিত ভাবেই তুমি ফেইল করবে।
  • তোমার প্রোডাক্টের User Experience যেন ভাল হয়। মানুষ সোজা-সাপটা ভাবে প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পছন্দ করে। আপনার প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে দরকার না পড়লে লগিন করতে বাধ্য করবেন না। লগিন/রেজিস্ট্রেশন থাকলেও সেটাকে যতটা সহজ করা যায়। আপনার অ্যাপ খোলার পরেই যদি ৫-৭ টা ফিল্ড টাইপ করে রেজিস্ট্রেশন করা লাগে তাহলে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। খুব বেশি কনটেন্ট দিয়েও ইউজারকে ভরকে দিবেন না। কনটেন্ট ও ফিচার হবে জাস্ট টু দি পয়েন্টে! মানুষ বেশি কনটেন্ট পছন্দ করে না। মূল্যবান ও সংক্ষিপ্ত কনটেন্টই সবাই পছন্দ করে।
  • শুধু ডিজিটাল মার্কেটিং বা পেইড অ্যাডের উপর নির্ভর করবেন না। অ্যাডের কনটেন্ট খুব বেশি ইন্টারেস্টিং না হলে মানুষ আসলে অ্যাডে ক্লিক করে না। তাই মার্কেটিং এর ভাষায় “mouth of word” এর উপরও গুরুত্ব দিন।
  • অনেক বেশি প্ল্যাটফর্মের কথা চিন্তা করার আগে একটা প্ল্যাটফর্মের জন্য ফুল ফাংশনাল সলিউশন রেডি করুন। যেমন আপনার অ্যাপ আইফোনের জন্য হলে আইফোনেরটাই সম্পূর্ণ শেষ করুন। এখানে অর্ধেক, অ্যান্ড্রয়েডে অর্ধেক এরকম হলে বিপদে পড়বেন। যেটাতেই করেন না কেন সম্পূর্ণ শেষ করেন। একটা শেষ করে সম্ভব হলে আরেকটা ধরেন।
  • মানুষের অ্যাটেনশন পাওয়া একটা উপহার। মানুষ যখন আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কথা বলা শুরু করবে, যখন তারা আগ্রহী হবে তখনই আপনার মূল বিজনেসটা করে ফেলা উচিত হবে। অনেকটা হাইপ থাকতে থাকতেই ব্যবসা করে নেয়ার মত আর কি…
  • অ্যাপ একটা ডেভেলপ করে মাঠে ছেড়ে দিয়ে শুধু মার্কেটিং এর পিছনে সময় দিয়েন না। অলরেডি যারা আপনার অ্যাপ ইউজ করছে তাদেরকে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। তাদেরকে নোটিফাই করুন আপনার নতুন অফার সম্পর্কে। লাগলে মাঝে মধ্যে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। অন্তত মানুষের যেন মনে পড়ে আপনার অ্যাপের কথা। সাধারণত একটা মোবাইলে নিয়মিত ব্যবহার হয় ৪-৫ টা অ্যাপ। আপনার অ্যাপ ইন্সটলের পর ইউজারকে আবার এটার কথা মনে করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনারই!

IoT Device by Mahbub Hasan

ছোট্ট একটা সেশনে Google এর একটা IoT Device এর সাথে আগতদের পরিচয় করানো হয়। ইন্টারনেটের সাহায্যে পরিচালিত দূর নিয়ন্ত্রিত ডিভাইসগুলোকে বলা হয় IoT Device. এটাই হয়ত স্বয়ংসম্পূর্ণ সংজ্ঞা নয়। নেট ঘেটে আরো ভাল সংজ্ঞা পাওয়া যেতে পারে।

দুইটা IoT Device এর উদাহরণ বলা হয়েছিল। একটা হচ্ছে Trash Bin সাথে attach করা যায় এমন একটা ডিভাইস। যার কাজ হচ্ছে সেখানে কী কী ধরণের ময়লা ফেলা হচ্ছে সেখান থেকে ডিটেক্ট করা যে কোন কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো আমাদের কেনা দরকার। যেমন জুস খেয়ে জুসের ক্যান ফেলা হল। বিস্কুটের প্যাকেট ফেলা হল। এই ডিভাইসটা ইউজারকে মোবাইলের মাধ্যমে নোটিফাই করবে যে তার এই প্রোডাক্টগুলো শেষ। এগুলো কেনা লাগবে।

আরেকটা উদাহরণ ছিল এ আর রহমানের একটা লাইভ কনসার্টের। যেখানে এ আর রহমান শো করছিলেন আমেরিকাতে আর তার মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ছিল ভারতে। লাইভ এই সিনক্রোনাইজেশনের কাজটা হয়েছিল এই সংক্রান্ত কোন IoT Device এর মাধ্যমে।

দু’টি স্বপ্ন সত্যি হবার গল্প

আয়মান সাদিকের 10 Minute School

Ayman Sadiq
Ayman Sadiq

শুরুতে হোঁচট খেতে খেতে এগুতে হয় আয়মান সাদিক ভাইয়াকে তার 10 Minute School নিয়ে। প্রথমত নিজেকেই সব কাজ করতে হত। তাই তার ভিজিটিং কার্ডে তিনি Chief Executive Officer না লিখে লিখেছিলেন Chief Everything Officer. অর্থাৎ তার কোম্পানির সকল কাজের কাজী তিনি নিজেই। আয়মান ভাইয়ার ভাষ্য মতে মানুষের এটেনশন পাওয়ার জন্য এটা ভাল কাজ করেছে।

তার সেখানোর পদ্ধতি ছিল অন্যান্য টিউটোরিয়ালের চেয়ে ভিন্ন। টার্গেট ছিল প্রথমে ১ মিনিটের ভিডিও বানানো। যেন দর্শক দেখা শুরু করে না দেখার সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই ভিডিও শেষ হয়ে যায়। এর রকম জোর করে আমার পুরো ভিডিও আমি দর্শককে দেখাবো। এভাবে ভিডিও তৈরি করতে করতে সেটা চোখে পড়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক সাহেবের। এগিয়ে আসে টেলিকম কোম্পানি রবি। সরকারি ৩০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমে চলবে 10 minute school এর বানানো ভিডিও কনটেন্ট! তারা আরো কাজ করছে interactive video content নিয়ে। যেখানে কোন একটা টিউটোরিয়াল চলা অবস্থাতেই ভিডিওর মাঝ থেকে পপ আপ এসে প্রশ্ন করবে। সঠিক উত্তর না দিতে পারলে আবারো কয়েক সেকেন্ড/মিনিট আগে নিয়ে গিয়ে ঐ প্রশ্নের উত্তর দেখানো হবে।

এখন আর আয়মান সাদিককে নামের পাশে Chief Everything Officer লিখতে হয় না। তার নিজের গড়া কোম্পানির Chief Executive Officer হিসেবে তিনি এখন কর্মরত আছেন।

কাউসার আহমেদের JoomShaper

Kawshar Ahmed
Kawshar Ahmed

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তির পরে বুয়েটের এক বড় ভাইয়ের টিউশনি করে আয় করা দেখে কাউসার ভাইয়া স্বপ্ন দেখেন বুয়েটে পড়ে ‘টিউশনি’ করে টাকা আয় করার। ইন্টারমিডিয়েটে তাই পড়াশোনা বাড়িয়ে দেন। কিন্তু বুয়েটে পড়া আর হল না। বুটেক্সে ভর্তি হয়ে হলে উঠে টিউশনির চেষ্টা তদবির করতে লাগলেন। পত্রিকার ভিতরে টিউশনির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন কাউসার ভাইয়া। ভাষা অনেকটা এমন ছিল “প্রথম মাস ফ্রি পড়াব। স্টুডেন্ট ভাল রেজাল্ট করলে কন্টিনিউ করব। অন্যথায় পড়ানো লাগবে না আর টাকাও নিব না”! যে কোন ভাবেই হোক টিউশনি পাওয়া গেল।

এক পর্যায়ে কম্পিউটার কিনলেন। স্টোরেজ কম থাকায় আর মনিটরে সমস্যা থাকায় মুভি-টুভি তেমন দেখা হত না। কী করা যায় বোকা বাক্সটা দিয়ে? বই-টই কিনে আর সাইবার ক্যাফেতে বসে কিছু রিসোর্স নিয়ে শুরু হল প্রোগ্রামিং শেখা! এক পর্যায়ে বানালেন একটা ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন। প্রথম আলোতে পিয়াস ভাই করলেন সেটার উপর ফিচার। অনেক অনেক মানুষের শুভেচ্ছা বার্তা ও শুভ কামনায় সিক্ত হলেন কাউসার ভাই। এরপর এক বড় ভাইয়ের হাত ধরে আসেন ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জগতে। চলতে থাকে মার্কেট প্লেসে ফ্রিল্যান্সিং কাজকর্ম। আর ডিজাইন জানার সুবাদে জমতে থাকে কিছু ডিজাইনের আইডিয়া। যেন এক সময় এগুলো সত্যিকারের প্রোডাক্ট হিসেবে আলোর মুখ দেখে।

নিজের ডিজাইন করা বেশ কিছু টেমপ্লেট রেডি হবার পর launch করেন জুমলা টেমপ্লেট বিক্রির সাইট JoomShaper. সাইট চালুর ৩-৪ দিন পর একটা টেমপ্লেট বিক্রি হয় ২৫ ডলারে। সেখান থেকেই গোড়া পত্তন বর্তমান জুমশেপারের ইতিহাসের!

এরপর কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত করতে থাকেন টিম মেম্বার। কোন রকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই লিড দেয়া শুরু করেন তার টিমকে। মাল্টিপ্ল্যানের উপরে নিয়েছিলেন অফিস। বর্তমানে জুমশেপারের অফিস ধানমন্ডি ২৭ এ। কাউসার আহমেদ ভাইয়া বিশ্বাস করেন, ডেভেলপারদেরকে যদি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও কাজের সুন্দর পরিবেশ দেয়া যায় তারা যুগান্তকারী কাজ করে দেখাতে সক্ষম হবে। যার প্রমাণ তার নিজেরই কোম্পানি। তার অফিসকে তিনি সাজিয়েছেন একটা ইনডোর গেম ভেন্যুর আদলে। রীতিমত খেলা দেখার জন্য গ্যালারিও রয়েছে সেখানে! অফুরন্ত খাবারের কথা না হয় বাদই দিলাম! পরবর্তীতে তার ইচ্ছা আছে ৩০-৪০ কাঠা জায়গার উপরে অফিস করার যেখানে বাস্কেটবলও খেলার সুযোগ থাকবে!

বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক প্রায় সবগুলো জুলমা কনফারেন্সে অন্যতম স্পন্সর ছিল জুমশেপার। সম্প্রতি প্রথম আলো পত্রিকার হেডলাইন এ এসেছিল জুমশেপারের ঈর্ষনীয় সাফল্য গাঁথা


লেখার ছন্দ ঠিক রাখার সুবিধার্থে কিছু কিছু কথা নিজের থেকে যুক্ত করেছি। যুক্ত করেছি কিছু উদাহরণ যেগুলো হয়ত বক্তারা বলেন নি। তবে সেগুলো মূল মেসেজের বক্তব্যকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে না। লেখায় কোন রকম ভুলত্রুটি চোখে পড়লে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে না দেখে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন। ধন্যবাদ এত বড় লেখাটা ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য।

উক্ত অনুষ্ঠানকে সফল করতে যারা যেই পর্যায়ে থেকে শ্রম দিয়েছেন, মেধা দিয়েছেন, সময় দিয়েছেন সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *