পোস্টটি পড়া হয়েছে 456 বার
cv sample new graduate

ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের সিভি কেমন হবে?

আজকে ট্রেইনি ইঞ্জিনিয়ার পজিশনের জন্য ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের কয়েকটা সিভি দেখতে হয়েছিল। কমন যে সমস্যাগুলো চোখে পড়লো সেটা বলার জন্য এই পোস্ট। হয়ত নতুনদের কাজে লাগতে পারে।

1. Unnecessary personal information

নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, ভাইবোনের সংখ্যা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করে অর্ধেক পেজ ভর্তি করে ফেলে অনেকে। খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয়।

2. Highly focus on SSC, HSC, BSc result

ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের সিভিতে পড়াশোনার বিষয়টা থাকবে। কিন্তু কোন স্কুল, কোন কলেজ, কোন বিভাগ (সাইন্স, আর্টস) ইত্যাদি অনেক ইনফরমেশন দিয়ে আরও আধা পৃষ্ঠা ভরে ফেলে অনেকে। রেজাল্ট খারাপ হলেও সেই খারাপ রেজাল্ট সিভিতে উল্লেখ করেন না বুঝে। এটা অনুচিত।

3. Skilled in MS Word for Programmer

অনেকে প্রোগ্রামার পজিশনের জন্য অ্যাপ্লাই করেন কিন্তু সিভিতে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্টের উল্লেখও করেন। এটা হাস্যকর হয়ে যায়। এটা না করাই ভাল।

4. Skipping the main focus point

অদরকারী অনেক তথ্য দিলেও ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্টে বা নিজের করা কোনো প্রোজেক্টে কোন কোন টেকনোলজি ইউজ করা হয়েছে আর সে কী কী বিষয়ে কনট্রিবিউট করেছে এটার বর্ণনা থাকে না। শুধু নাম পড়লেই রিক্রুটারের ক্ষেত্রে বুঝা কঠিন যে প্রোজেক্টটা কী সংক্রান্ত। তাই কয়েকটা লাইনে যদি “কী পয়েন্ট” উল্লেখ করা যায় তাহলে সহজেই বুঝা যায় ক্যান্ডিডেট কোন ধরণের কাজ আগে করেছে। পুরো সিভির মধ্যে এই পার্টটা খুব বেশি ইম্পর্টেন্ট, অন্তত প্রোগ্রামার হিসাবে জবের অ্যাপ্লাইতে।

5. CEO, CTO, Lead position at Omuk company

রিক্রুটারের জন্য বিষয়টা একটু বিব্রতকর হয় তখন, যখন দেখা যায় পজিশন হচ্ছে ইন্টার্নশিপের। কিন্তু ক্যান্ডিডেট অমুক কোম্পানির সিইও, তমুক কোম্পানির সিটিও। তাই শখের বশে ফেসবুক পেজ খুলে কোম্পানি ফর্ম করলে সেটা স্কিপ করা যেতে পারে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যে দেয়া যাবেই না এমনটা নয়। ক্ষেত্রগুলো বুঝতে হবে।

What should share and what should not? Any rule?

আমার সিভিতে আমি যা ইচ্ছা উল্লেখ করতেই পারি। এর আবার রুলস কী?

রুলস না থাকলেও ইন্টারভিউ কল পাওয়ার জন্য একটু প্রিসাইস তথ্য সিভিতে দিলেই ভাল। যেমনঃ অনেকে NID number সিভিতে দিয়ে থাকেন। এটার আসলে কী দরকার? HR এই নাম্বার দিয়ে কী করবে? ভ্যারিফাই করবে ক্যান্ডিডেট আসলেও এ দেশের জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিক কিনা? জব কনফার্ম হলে তখন আপনাকে হয়ত NID এর ফটোকপি দিতে হবে। কিন্তু সিভিতে এটা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। আরেকটি উদাহরণ দেয়া যায় সিভিতে ছবি সংযুক্ত করার ব্যাপারে। আমি দেখতে কেমন এটা নিয়ে মনে হয় না কোনো রিক্রুটারের কোনো দরকার আছে (অন্তত প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ারে)। একই রকম ভাবে রক্তের গ্রুপ, স্থায়ী ঠিকানা এগুলোও অপ্রয়োজনীয়। বর্তমান ঠিকানাটার এরিয়ার নামটা যোগ করা গেলে খারাপ না। HR ইন্টারভিউতে হয়ত এটা নিয়ে কথা বলতে পারে বাসা অনেক দূরে হলে।

অনেক বেশি কালারফুল, ঝাকানাকা টাইপের সিভি না বানালেই মনে হয় ভাল। সিম্পল-পরিষ্কার ফন্ট, স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট সাইজ ইউজ করা। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে টেক্সট বোল্ড করা।

ফ্রেশারদের সিভিতে রিক্রুটাররা আশা করেন ক্যান্ডিডেটের ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্টের ব্যাপারে ২-১ টা কথা। গিটহাবের লিংক, প্রবলেম সলভিংয়ের প্রোফাইল, লিংকড ইন প্রোফাইল, পোর্টফোলিও সাইট, কিছু অনলাইন-অফলাইনের কোর্স করার ইনফরমেশন। অর্থাৎ রিক্রুটারকে যতটা বুঝানো যায় যে অনার্সের ৪-৫ টা বছর আমি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে আর টিভি সিরিজ দেখে সময় কাটাই নাই। ঘাম ঝড়িয়ে কিছু কাজকর্মও করেছি।

একই সাথে এটাও মাথায় রাখা দরকার, ইন্ডাস্ট্রির যত টপিকের নাম বা buzz word শুনেছি সবই যেন সিভিতে না দেই। এমন জিনিসগুলোই সিভিতে উল্লেখ করি যেগুলো আমার স্ট্রেংথ পয়েন্ট। যেগুলো নিয়ে আমি কাজ করেছি আর কিছুটা হলেও কনফিডেন্ট। টপিকগুলো নিয়ে যেন ২-১ মিনিট আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। অনেক অনেক টপিক কভার করা দেখলে HR মনে করতে পারে যে, ক্যান্ডিডেট আসলে কিছুই পারে না। অন্য কারো সিভি দেখে কপি করেছে বা যা নাম শুনেছে সেটাই সিভিতে তুলে দিয়েছে।

সর্বশেষ টিপসঃ

একটু গুগলে সার্চ করলেই সুন্দর-সিম্পল ফরমেটের সিভির ডেমো পাওয়া যায়। গুগল ডকের রেজুমি টেমপ্লেটও আছে। সিভির জন্য ২-৪ ঘন্টা সময় ব্যয় করা খুব বেশি কঠিন না। এটাকে ঝামেলা মনে করলে আর কি… আপনার জন্য অপেক্ষা করছে লিংকড ইনের দেশীয় শত শত “ইন্টারন্যাশনাল সিভি রাইটার”। যাদের মার্কেটিং দেখে বমি চলে আসে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *