পোস্টটি পড়া হয়েছে 280 বার
কাদিয়ানী মতবাদ বোঝার সহজ উপায়

কাদিয়ানী মতবাদ বোঝার সহজ উপায় [বই রিভিউ – ১৩]

Post updated on 24th October, 2022 at 09:24 pm

কাদিয়ানী মতবাদ ইসলামের অন্য ফিকহী মতপার্থক্যের মত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে কাদিয়ানীদের আক্বিদা ও বিশ্বাসের মূল বিষয়গুলো সুস্পষ্ট কুফর। তাই প্রায় সকল আলেমই একমত যে কাদিয়ানী ইসলামের কোনো দল বা মতের নাম নয়। বরং এটা ভিন্ন একটি ধর্মমত। ধোকাবাজির নিমিত্তে তারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে তারা কাফের।

কী কারণে কাদিয়ানীদেরকে কাফের বলা হয়? যুগ যুগ ধরে আলেম ওলামাগণ কেন এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করছেন? এদের কাফের হওয়ার কারণগুলো অনেক। এই বইটিতে একদম সাদামাটা চারটি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেগুলো বুঝার জন্য ইসলামের গভীর জ্ঞান রাখা জরুরি নয়। ফলে আমরা অনায়াশেই কাদিয়ানীদের কুফরি মতবাদ বুঝতে পারব ইনশাআল্লাহ।

কাদিয়ানী ধর্মের উৎপত্তি

ইংরেজরা যখন ভারতে শোষন নিপীড়ন চালাচ্ছিল, তখন আলেম সমাজ তার প্রতিবাদ করেছিল। ইংরেজদের তাবেদারী মেনে না নিয়ে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছিলেন আমাদের আলেম সমাজ। ইংরেজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে ও লড়াই করতে তারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন।

এমনি একটি সময়ে কাদিয়ানী ধর্মের জন্ম হয় বৃটিশ রাজের হাতে। মুসলিমদের মন ও মগজ থেকে জিহাদের চেতনা মুছে দেয়াই যার উদ্দেশ্য। বৃটিশ শোষকের সরকারি আনুকুল্যে চলতে থাকে কাদিয়ানী ধর্মের প্রচার-প্রপাগান্ডা। এই কুফরি মতবাদের প্রবক্তা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ও তার বাবা ছিল বৃটিশদের আনুগত্যকারী একনিষ্ঠ গোলাম। ইংরেজদের শাসন-শোষণের ভিত মজবুত করার জন্য এরা আজীবন কাজ করে গেছে। ভারত-পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেও এই বিভ্রান্ত কুফরি ধর্মের কার্যক্রম আজও চলমান।

কাদিয়ানী মতবাদ বোঝার সহজ উপায় – বইয়ের প্রেক্ষাপট

এই বইটি মূলত একটি ঘরোয়া আলোচনার মলাটবদ্ধ প্রকাশ। ১৯৫৩ সালে শায়খ মনযুর নুমানী (রহ) একটি ঘরোয়া মজলিসে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। ঐ মজলিসে ছিল সদ্য কাদিয়ানি ধর্ম গ্রহন করা কয়েকজন লোক। এবং তাদের কিছু আত্মীয়, যারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল কাদিয়ানী ধর্ম গ্রহন করবে কি করবে না। তাদেরকে ইসলামে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে তিনি আলোচনা করেন অত্যন্ত সাদামাটা কয়েকটি পয়েন্ট নিয়ে। যেগুলো বুঝার জন্য ইসলামের গভীর জ্ঞান থাকা আবশ্যক নয়।

উর্দু থেকে বাংলায় অনুবাদ হওয়া বইটিতে এমন চারটি মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে বাংলা ভাষা পড়তে পারে এরকম যে কোনো বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারবে, কেন কাদিয়ানিরা কাফের?

কাদিয়ানী ধর্মের প্রবক্তা মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ছিল বৃটিশদের একনিষ্ঠ গোলাম। তার লেখা বিভিন্ন বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়েই প্রমাণ করা হয়েছে যে মির্জা গোলাম মিথ্যাবাদী ও অত্যন্ত শঠ। অন্যান্য বই থেকে এরকম ধারনাও পাওয়া যায় যে মির্জা গোলাম ছিল একজন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত মানসিক রুগি। তার লেখা ও মতবাদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য অসঙ্গতি। একই বিষয়ে পাওয়া যায় তার বিপরীতমুখী ভিন্ন ভিন্ন মত।

মির্জা গোলাম নিজেকে কখনো মুজাদ্দেদ, কখনো নবী, কখনো ঈসা মসিহ ইত্যাদি দাবী করেছে। সে দাবী করত তার কাছে ওহি নাজিল হয়। তাকে অনুসরন না করলে কাফের হয়ে যাবে ইত্যাদি।

কাদিয়ানীরা কাফের কেন?

বইটিতে খুব সাধারন ও বুঝার জন্য সহায়ক চারটি মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা সেগুলো সংক্ষেপে জেনে নিই।

১ম মূলনীতির আলোকে কাদিয়ানীরা কাফের

আল্লাহর প্রেরিত কোনো নবীই (আ), পূর্ববর্তী নবীদের (আ) সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে না। বরং প্রত্যেকেই পূর্ববর্তীদের সত্যয়ন করে থাকেন।

মির্জা গোলাম নিজেকে নবী দাবী করে। তার অনুসারীরা তাকে নবী হিসাবেই অনুসরন করে। কিন্তু পূর্ববর্তী একজন সম্মানীত নবী হযরত ঈসা (আ) সম্পর্কে মির্জা গোলামের বক্তব্য খুবই আপত্তিকর। কোনো নবী-রাসূলের পক্ষে তো নয়ই, কোনো সাধারন দ্বীনদার মানুষের পক্ষেও পূর্ববর্তী কোনো নবীর (আ) ব্যাপারে কটুক্তি করা গ্রহনযোগ্য নয়। এই নীচ ও বিকৃত রুচির লোকটি হযরত ঈসার (আ) ও হযরত মরিয়ম (আ) এর চরিত্র নিয়ে প্রকাশের অযোগ্য ভাষায় মন্তব্য করেছে। আমাদের আলোচ্য বইয়ের লেখক এই বিষয়টিকে প্রথম মূলনীতি হিসাবে উল্লেখ করেছেন। মির্জা কাদিয়ানীর লেখা বিভিন্ন বই থেকে তিনি উদ্বৃতি দিয়েছেন কাদিয়ানীর মিথ্যা অপবাদগুলোর।

২য় মূলনীতির আলোকে কাদিয়ানীরা কাফের

কোনো নবীর পক্ষে এটা অসম্ভব যে, তাঁর বড়ত্ব ও সত্যতা প্রমানের জন্য তিনি কোনো মিথ্যা কথা বলবেন।

মির্জা কাদিয়ানীর জীবনী ঘাটতে গেলে দেখা যাবে তার সারা জীবনই কেটেছে নানা রকম মিথ্যা কথা ও মিথ্যা দাবীর উপর। কোনো সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এই লেভেলের মিথ্যা দাবী করা সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ইতিহাস বইয়ের লেখক ইমরান রাইহানের “ইতিহাসের খলনায়ক” বইটিতে বলা হয়েছে যে কাদিয়ানী ছিল সিজোফ্রেনিয়ার রুগি। মানসিক ভাবে সে সুস্থ্য ছিল না বিধায় তার পক্ষে এত বড় বড় মিথ্যা দাবী ও বেকুবী করা সম্ভব হয়েছে।

কাদিয়ানী তার একটি বইতে উল্লেখ করেছে যেঃ

“মৌলভি গোলাম দস্তগীর কসূরী ও মৌলভি ইসমাঈল আলীগড়ী তাদের কিতাবে লিখেছেন যে, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে সে আমাদের আগে মৃত্যুবরণ করবে। তাদের কিতাব যখন ছড়িয়ে পড়লো তখন দেখা গেল আমার আগেই তারা দ্রুত মৃত্যুবরণ করেছে”।

উপরের বর্ণনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কাদিয়ানীকে যখন চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল যে উক্ত দুইজন আলেমের কিতাব থেকে এই দাবী উপস্থিত করতে। তখন সে বা পরবর্তীতেও তার কোনো অনুসারি এই বর্ণনার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে নাই। অর্থাৎ কাদিয়ানী দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট মিথ্যা কথা লিখে তার মাথামোটা অনুসারিদেরকে আপ্লুত করার চেষ্টা করেছিল। এরকম মিথ্যা কথা ও দাবীর শত শত উদাহরণ পাওয়া যাবে কাদিয়ানীর লেখা বইগুলোতে।

৩য় মূলনীতির আলোকে কাদিয়ানীরা কাফের

কোনো নবী (আ) আল্লাহর পক্ষ থেকে গায়েবী বিষয়ে ভবিষ্যতবাণী করলে তা মিথ্যা হয় না।

সিজোফ্রেনিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার জীবদ্দশায় বহু ভবিষ্যতবাণী করেছে। বহু জায়গায় সে লিখে অমুক অমুক বিষয় ঘটলে বুঝা যাবে আমি সত্য নবী। এইসব এইসব যদি না ঘটে বা মিথ্যা হয় তাহলে বুঝা যাবে সে মিথ্যাবাদী। এরকম বিভিন্ন ভবিষ্যতবাণী সে করত। আল্লাহর ইচ্ছায় তার বেশির ভাগ ভবিষ্যতবাণীই মিথ্যা হয়েছে। তাও যদি তার অনুসারীদের অন্তরের মোহর একটু আলগা হত!

“কাদিয়ানী মতবাদ বোঝার সহজ উপায়” বইয়ের লেখক মাত্র ২টি ভবিষ্যতবাণীর কথা উল্লেখ করেছেন।

কাদিয়ানীর মিথ্যা ভবিষ্যতবাণী – ১

জনৈক খৃষ্টান ব্যক্তি আবদুল্লাহ আথমের মৃত্যুর ব্যাপারে কাদিয়ানী ভবিষ্যতবাণী করেছিল। বলেছিল ৫ জুন ১৮৯৩ থেকে ৫ নভেম্বর ১৮৯৪ এই ১৫ মাসের মধ্যেই ঐ লোকটি মারা যাবে। সে সময় ঐ খৃষ্টান লোকটির বয়স হয়েছিল ৭০ এর কাছাকাছি। এরকম সময়ে মৃত্যু হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ এই মিথ্যুক কাদিয়ানীকে অপদস্থ করেছেন। নির্দিষ্ট তারিখ শেষ হওয়ার পর আরো ২ বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। কাদিয়ানীর অনুসারীদের কাছে হয়ত এর বিভিন্ন অপব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। কিন্তু কমন সেন্স আছে এরকম কোনো ব্যক্তি এসকল কোনো ব্যাখ্যার ধার ধারবেন না, এটাই অনুমেয়।

কাদিয়ানীর মিথ্যা ভবিষ্যতবাণী – ২

কাদিয়ানীর আরেকটি বিখ্যাত ভবিষ্যতবানী হলো মুহাম্মদী বেগমের বিয়ে সংক্রান্ত ভবিষ্যতবাণী। কাদিয়ানীর এক আত্মীয় ছিলেন মির্জা আহমদ বেগ। তার কন্যার নাম মুহাম্মদী বেগম। কাদিয়ানী মুহাম্মদী বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। এজন্য সম্পত্তি ও বাগান উপঢৌকন দেয়ার প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন ভয়ভীতিও দেখাতে থাকে। কিন্তু মির্জা আহমদ বেগ কাদিয়ানীর প্রস্তাবকে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেন।

এক পর্যায়ে কাদিয়ানী প্রচার করতে থাকে যে, মুহাম্মদী বেগমের তার সাথে বিয়ে হওয়াটা খোদা প্রদত্ত ওহী। আল্লাহর হুকুমেই নাকি সে এই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই নাকি কাদিয়ানীকে বলেছেন এ বিয়ে হবেই। (নাউজুবিল্লাহ)। যদি এ বিয়েতে মেয়ের পরিবার সম্মত না হন, তাহলে নানা বিপদ আপদ আসবে। মুহাম্মদী বেগমেরও ক্ষতি হতে পারে। বিভিন্ন চিঠিপত্র, বই ও ইশতিহারে এরকম বিভিন্ন হুংকার ছাড়তে দেখা যায় কাদিয়ানীকে। কিন্তু কন্যার পরিবার কাদিয়ানীর ভন্ডামী ভালো করেই জানতো। তাই তারা বিষয়টিকে মোটেও পাত্তা দেন নি।

পরবর্তীতে মির্জা আহমদ বেগ তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন লাহোরে বসবাসরত সুলতান মুহাম্মদের সাথে। এই বিয়ে ভাঙ্গার জন্য কাদিয়ানী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তার চিরায়ত অভ্যাসবশত ওহী-ইলহামের দাবী করে। সে দাবী করে ইলহামের মাধ্যমে জানতে পেরেছে এই বিয়ের আড়াই বছরের মধ্যে সুলতান মুহাম্মদ মারা যাবে। মুহাম্মদী বেগমের বাবা ৩ বছরের মধ্যে মারা যাবে। এরপর বিধবা ও অসহায় অবস্থায় মুহাম্মদী বেগম কাদিয়ানীর সাথে বিয়ের জন্য ফিরে আসবেন।

সুলতান মুহাম্মদের সাথে মুহাম্মদী বেগমের বিয়ের পরেও বিভিন্ন বইতে কাদিয়ানী একটার পর একটা ভবিষ্যতবাণী করতে থাকে। সে প্রচার করতে থাকে যে মুহাম্মদী বেগমের সাথে তার বিয়ে হবেই। এটা আল্লাহর সিদ্ধান্ত। এটা খন্ডনের ক্ষমতা কারোর নাই। যদি এ বিয়ে না হয় তাহলে সে মিথ্যাবাদী, তার এই হবে সেই হবে ইত্যাদি। মোট কথা নিজেকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন হিসাবে প্রমাণ করার জন্য যা যা করা দরকার, এই লোক তার কোনো কিছুই বাকি রাখে নাই।

এই ঘটনার শেষ অধ্যায় হলো, কলেরায় আক্রান্ত হয়ে টয়লেটে থাকা অবস্থায় কাদিয়ানীর অপমানজনক মৃত্যু। তার মৃত্যুর পর সুলতান মুহাম্মদের আরো ৩০-৪০ বছর বেঁচে থাকা। এ যেন কাদিয়ানীর ধোকাবাজ ও মিথ্যুক হওয়ার জলজ্যান্ত সাক্ষী হয়ে বাকি জীবন পার করা।

৪র্থ মূলনীতির আলোকে কাদিয়ানীরা কাফের

আল্লাহর প্রেরিত কোনো নবীর জন্য এটা কল্পনাও করা যায় না যে, তিনি কোনো কুফরি পরাশক্তির তল্পিবাহক হবেন।

কাদিয়ানী ধর্মের প্রবক্তা ও নিজেকে নবী দাবী করা মির্জা গোলাম ও তার পিতা গোলাম মোর্তজা ছিল বৃটিশ সরকারের একনিষ্ঠ গোলাম। এ কথা সকলের নিকটই সুস্পষ্ট যে, কাদিয়ানী ধর্মের সৃষ্টি করেছিল বৃটিশ সরকার এদেশে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দিতে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সে সময়ের আলেম সমাজ ও মুসলিমরা ছিল সচেতন। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম ও জিহাদের মাধ্যমে ইংরেজদেরকে বিতারিত করতে আলেম সমাজ ছিল বদ্ধ পরিকর। ইংরেজদের এমন টালমাটাল অবস্থাতে মুসলিমদের মাঝে বিভেদ ও জিহাদী চেতনা নষ্টের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কাদিয়ানী ধর্মের সৃষ্টি করেছিল তারা। এবং বৃটিশরা যে এই লোকের মাধ্যমে ধারনারও অধিক উপকৃত হয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। তাদের বপন করা অসংখ্য বিষাক্ত বীজের মত কাদিয়ানী ধর্মও এখন পর্যন্ত তাদেরকে ফল দিয়ে যাচ্ছে।

বছর কয়েক আগে বিবিসি বাংলায় কাদিয়ানী ধর্মের এক আলেমের সাথে মুসলিম একজন আলেমের বিতর্কের মত একটা অনুষ্ঠান দেখেছিলাম। যেই মুসলিম আলেমকে সেখানে আনা হয়েছিল তাকে আমি চিনি না। তিনি কাদিয়ানী ধর্মমত সম্পর্কে ব্যাসিক নলেজ রাখেন কিনা সন্দেহ আছে। বিবিসি পরিকল্পিত ভাবে এমন একজন আলেমকেই এনেছেন যিনি কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে তেমন কিছুই বলতে পারবেন না। মানুষের কাছে যেন প্রমাণের চেষ্টা যে কাদিয়ানীরাই সঠিক মুসলিম।

মির্জা গোলাম তার শাহাদাতুল কুরআন বইতে লিখেছেঃ

আমাদের বংশের উপর বৃটিশ সরকারের অনুগ্রহের ধারা আমার পিতার সময় থেকেই জারি ছিল। তাই এই সরকারের কৃতজ্ঞতা আদায় আমার রক্তের সাথে মিশে আছে।

এই বইয়ের অন্যত্র সে লিখেছেঃ

কিছু নির্বোধ প্রশ্ন করে যে, এই প্রশাসনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যাবে কিনা? এরূপ প্রশ্ন তাদের নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ, যেই প্রশাসনের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা আমাদের উপর ফরজ ও ওয়াজিব, তাদের সাথে আবার জিহাদ করা হবে কিভাবে? এমন অনুগ্রহশীল প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করা নিমকহারামী ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই হলো আমাদের ইতিহাসের অন্যতম খলনায়ক মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। ইংরেজ সরকারের ঝুটা খাওয়া, পা চাটা এক গোলাম ছাড়া আর কিছুই নয়।

শেষ কথা

আফসোসের বিষয় হলো আজও বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এরা নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে। নিজেদেরকে “আহমদীয়া মুসলিম জামাত” বা “আহমদী মুসলিম” বা “আহমদী জামাত” বলে পরিচয় দেয়। অসংখ্য মুসলিমকে এরা ঈমান হারা করে চলেছে। বাংলা ভাষায় “আহমদী” নামে তারা পত্রিকা প্রকাশ করে। বিভিন্ন পুস্তিকা প্রকাশ করে তাদের ধর্মের দিকে মানুষকে টানছে। দেশের সীমান্ত অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চলে এদের অপতৎপরতা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। পুরান ঢাকার বকশী বাজারে কাদিয়ানীদের বিরাট একটি মসজিদ ও প্রচার কেন্দ্র রয়েছে। মিরপুর ২ নাম্বার মসজিদ মার্কেটের আশেপাশের এলাকায় তাদের একটি মসজিদ দেখেছিলাম ২০১১ সালের দিকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কাদিয়ানী মতবাদ, শীয়া মতবাদ ইত্যাদি ভ্রান্ত মতবাদ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

বইটি সম্পর্কে কিছু তথ্য

নামঃ কাদিয়ানী মতবাদ বোঝার সহজ উপায়

লেখকঃ শায়খ মনযুর নুমানী রহ.

অনুবাদঃ উস্তায তানজীল আরেফীন আদনান

প্রকাশনীঃ উমেদ প্রকাশ

প্রথম প্রকাশঃ মার্চ ২০২২

পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৬

মুদ্রিত মূল্যঃ ৫৮ টাকা

ঢাকার নিলক্ষেত, কাটাবন সহ দেশের সকল ইসলামী বইয়ের দোকানে বইটি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। আমি অনলাইনে নিয়ামাহ বুক শপ থেকে বইটি সংগ্রহ করেছিলাম।

কাদিয়ানী ধর্মমত সম্পর্কে আরো জানতে পড়ুন

  1. কাদিয়ানী সম্প্রদায় যে কারণে মুসলমান না – মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
  2. ইতিহাসের খলনায়ক – ইমরান রাইহান
  3. জীবনের খেলাঘরে – মাওলানা মুহিউদ্দীন খান
  4. মির্জা গোলামের মিথ্যা নবুয়ত দাবীর নমুনা – মাসিক আলকাউসার
  5. কাদিয়ানী ধর্মমত – সমস্যা উপলব্ধি ও সমাধানের সহজ পথ – মাসিক আলকাউসার
  6. কুরআনের বিকৃত অনুবাদের প্রদর্শনী করছে কাদিয়ানী সম্প্রদায়
  7. কাদিয়ানী মতবাদ : নবুওতে মুহাম্মদীর প্রতি এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ
  8. কাদিয়ানী এবং অন্যান্য কাফেরের মধ্যে পার্থক্য
  9. মির্যা কাদিয়ানীর বৃটিশ তোষণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *