পোস্টটি পড়া হয়েছে 26,956 বার
ramadan preparation রমজানের প্রস্তুতি কেমন হবে?

রমজান মাসের প্রস্তুতি কেমন হবে?

রমজান মাস শুরু হওয়ার পর ঈদের জন্য আমরা প্রায় এক মাস প্রস্তুতি নিই। কেনাকাটা থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয়ে আমরা প্ল্যান করি। কিন্তু বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত মাস রমজানের জন্য কি আগে থেকে কোনো প্রস্তুতি নিই? আমাদের কি উচিত না সারা বছরের গাফলতিগুলো, সারা বছরের পাপগুলো থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি পাওয়ার এই মাসের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা? আমাদের কি উচিত না আগে থেকে প্ল্যান করে সে অনুযায়ী কাজ করা যেন এই মাসের সবচেয়ে ভাল ব্যবহার আমরা করতে পারি? আমরা কতটুকু কুরআন পড়ব, কতদিন তাহাজ্জুদ পড়ব, কতটুকু তাফসীর পড়ব, কতদিন ই’তিকাফ করব, কত টাকা দান করব ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের উচিত আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া। তাহলে রমজানের সময়গুলোর সর্বোচ্চ উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের জন্য সহজ হবে।

রমজান মাসের আগে কিছু প্রস্তুতির ব্যাপারে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য আজকের এই পোস্ট। আশা করি এর মাধ্যমে আপনি, আপনার পরিবার ও আপনার বন্ধু মহলেও রমজানের প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত করতে পারবেন। লেখাটি শেয়ার করতে পারেন ফেসবুক সহ যে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

রমজানের প্রস্তুতি

আলেমগণ থেকে আমরা রমজানের নানা প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে পারি। আমরা এগুলো ফলো করতে পারি। এছাড়াও অন্যান্য ভাল কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারি এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রমাদানের প্রস্তুতি নিতে পারি। নিচে কয়েকটি কমন প্রস্তুতি, পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো।

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ও মাসনূন আমল বাড়ানো

ইবাদতে প্রশান্তি ও আনন্দপ্রাপ্তির জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরি। কোনো গুনাহ যদি আমরা অভ্যাসে পরিনত করি তখন সেই গুনাহকে আমরা আর পাপ বা খারাপ কাজ মনে করি না। যেমনঃ ধুমপান করা, পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পড়া, ওজনে কম দেয়া, পণ্যে ভেজাল দেয়া, প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া ইত্যাদি।

প্রতিনিয়ত গুনাহ করতে থাকলে নেক আমল করার আকাঙ্ক্ষা লোপ পায়। তাই রমজান আসার আগেই আমাদের জানা মতে যত গুনাহ আছে সেগুলো থেকে তওবা করা একান্ত কাম্য। পাশাপাশি প্রাত্যহিক জীবনে সুন্নতের উপর আমল করার অভ্যাসও বাড়ানো জরুরি। ব্যক্তি জীবনে যত সুন্নাহ রয়েছে যেমনঃ খাবার খাওয়ার সুন্নাহ, ঘুমাতে যাওয়ার আগের সুন্নাহ, রাস্তায় চলার সুন্নাহ ইত্যাদির ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত।

রোজা আসার আগে থেকেই চলুন মানসিক ভাবে প্রিপারেশন নিই যে, এই রোজায় আগের মত ফেসবুক ইউটিউবে অযথা সময় নষ্ট করব না। এই রোজায় প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় কুরআন পড়ব। কয়েক আয়াতের তাফসীর সহ পড়ব। প্রিপারেশনের অংশ হিসাবে এখন থেকে চলুন প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট কুরআন পড়ার জন্য ব্যয় করি। তাতে যে অভ্যাস হবে সেটা রমজান মাসে আমাদের অনেক সাহায্য করবে। 

যারা ধুমপান করেন, তাদের জন্য রমজান হতে পারে এটা থেকে মুক্তির মাস। এখন থেকেই ধুমপানের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে রমজান মাসে ছেড়ে দিন একেবারে। আপনি বিষ খেয়ে নিজের ক্ষতি করলে আল্লাহর কাছে আপনার ব্যাপারে শুধু কৈফিয়ত দিতে হবে। কিন্তু আপনি ধুমপান করে আপনার ও আপনার আশেপাশের অসংখ্য মানুষের ক্ষতি করছেন। তাদের সকলের ক্ষতি করার দায় কিয়ামতের দিন কি আপনি এড়াতে পারবেন? কোনো একজন ব্যক্তির হক্ব নষ্ট করলে তার ব্যাপারে কিয়ামতের দিন ধরা হবে। কিন্তু সরকারী তথা জাতীয় কোনো সম্পদ নষ্ট করা বা পুরো জাতীর হক্ব যারা নষ্ট করে কিয়ামতের দিন কিন্তু সকলের হক্বই আদায় করতে হবে। অন্যথায় সকলের গুনাহের বোঝা নিজ ঘাড়ে নিতে হবে। তাই আসুন আমরা নিজের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকি। ধুমপানের মাধ্যমে আমাদের বা প্রতিবেশীর গর্ভবতী মায়ের পেটে থাকা সন্তানের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকি।

রোজা ও রমজান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় মাসআলা জেনে নেয়া

রোজার বিভিন্ন মাসয়ালা, যেমন রোজা ভঙ্গের কারণ, কী কী কাজ করলে রোজা শুদ্ধ হয় না, কী কী কারণে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না, রোজার খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত ইত্যাদি তথ্যাদি আমরা সাধারণত রোজা শুরু হওয়ার পর খুঁজতে শুরু করি। তাই আমরা যারা রমজান মাসকে সবচেয়ে ভাল ভাবে কাজে লাগাতে চাই তারা আগে থেকে এ বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করা উচিত।

রমজান মাস আসের আগেই যদি প্রাসঙ্গিক মাসআলা ও বিধিবিধান সম্পর্কে জেনে নিতে পারি তাহলে রমজান মাসে আমল করা আমাদের জন্য সহজ হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অনেকেই এমন আছি যে, ৫ ওয়াক্তের নামাজের সময়সীমা বিষয়ক মাসআলাগুলো জানি না। ফরজ ও নফল সালাতের ওয়াক্তগুলো বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে এখান থেকে

রমজানের প্রস্তুতি মানে বেশি খাওয়ার প্রস্তুতি নয়, খাওয়া কমানোর প্রচেষ্টা

আমরা রমজানের প্রস্তুতি মানে ধরেই নিই কী কী খাব? কয় কেজি বেসন কিনব, কয় কেজি ছোলা-মুড়ি কিনব, ঈদে কয়টা ড্রেস কিনব ইত্যাদিকে। এমন কি এই ভোগ-বিলাসিতাকে নেক আমল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে একটা বানোয়াট কথাকে হাদীস হিসাবে প্রচার করেন অনেকে। বানোয়াট কথাটি হচ্ছেঃ “রমজান মাসে কোনো কিছু কিনলে সেই পরিমাণ টাকা সদকা করার সওয়াব পাওয়া যায়।” একজনের ব্যাপারে শুনেছিলাম ২০-২৫ হাজার টাকা দামের স্মার্টফোন তিনি রমজান মাসে কিনেছেন উক্ত ফজিলত হাসিল করার জন্য!

যারা ভোজনরসিক তারা প্রচার করে বেড়ায় “রমজানে সাহরি আর ইফতারে যত খুশি খাওয়া যাবে। এসবের কোনো হিসাব দিতে হবে না।”

এই কথাগুলো ভিত্তিহীন ও মনগড়া বৈ কিছু নয়। যেখানে রমজান মাসে রোজা রাখার কারণে খাবারের প্রয়োজন কম লাগার কথা। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায় বিপরীত চিত্র। অন্য মাসে তেল ৩ কেজি দরকার হলে রমজানে দরকার হয় ৫ কেজি। রমজানের সাহরি আর ইফতারে যে পরিমান মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতা হয় তা অন্য কোনো মাসে হয় না। অন্য মাসগুলোতে সাহরি-ইফতারের মত পেট ভর্তি করে খাওয়া হয় না বললেই চলে। সারা দিন খাওয়া হবে না দেখে সাহরিতে ৩ বেলার পরিমান খাবার যদি খেয়ে ফেলি, তাহলে রমজানের উদ্দেশ্য কতটা হাসিল হবে?

তাই আজই সিদ্ধান্ত নিন আসন্ন রমজানে বাজে একটা ট্র্যাডিশন ব্রেক করার জন্য। তা হচ্ছে ইফতারে হরেক রকমের ভাজা-পোড়া খেয়ে শরীর নষ্ট করা। রোজা রেখে আমাদের শারীরিক যেই উপকার হওয়ার কথা তার পুরোটাই বলা যায় নষ্ট হয় এই অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে। তাই আসুন পেট ভর্তি করে খাওয়ার বাজে অভ্যাসটি ত্যাগ করি। সুস্থ্য থাকি। পেট ভর্তি করে খাওয়ার মাঝে কোনো কল্যান নাই। মু’মিনের জন্য কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট।

রমজানের আগেই কিছু কিছু নফল রোজা রাখা

রমজানের জন্য প্রস্তুতি হওয়া উচিত আগে থেকেই কিছু কিছু করে নফল রোজা রাখা। একটু বেশি নফল-সুন্নত নামাজ পড়া। আল্লাহর রাসূল (সা) রমজানের আগের দুই মাসে অধিক নফল রোজা ও ইবাদত করতেন। নিচে রমজানের আগের দুই মাস রজব ও শা’বান মাসে নফল রোজা রাখা বিষয়ক কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলো।

উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,

‘একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শাবান মাসে যত সিয়াম রাখতে দেখি তত অন্য কোন মাসে তো রাখতে দেখি না, (এর রহস্য কী)?’ উত্তরে তিনি বললেন, “এটা তো সেই মাস, যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, যা হল রজব ও রমযানের মাঝে। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, সিয়াম রাখা অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক।

(আহমাদ ২১৭৫৩, নাসাঈ ২৩৫৭, সহীহ তারগীব ১০০৮, তামামুল মিন্নাহ ৪১২পৃঃ)

উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ)-কে রজব মাসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন,

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনবরত সওম পালন করতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি এ মাসে সওম বর্জন করবেন না। আবার তিনি অনবরত সওম বর্জন করতেন, এমনকি আমরা বলতাম তিনি (হয়তো) আর সওম রাখবেন না।

(সুনানে আবু দাঊদ ২৪৩০)

উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,

আমি শা’বান ও রমযান ছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটানা দু’মাসের রোযা পালন করতে দেখিনি।

(সহীহ ইবনু মাজাহ ১৩৪৮)

আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ সালামার সূত্রে আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শা’বান মাসের অনুরূপ অন্য কোন মাসে এত বেশি (নফল) রোযা পালন করতে দেখিনি। কিছু অংশ ছাড়া এ মাসের পুরো মাসটাই, বলতে কি সারা মাসটাই তিনি (নফল) রোযা রাখতেন।

(হাসান সহীহ, তিরমিজি ৭৩৭)

এ হাদীস প্রসঙ্গে ইবনুল মুবারাক বলেছেন, যদি কোন লোক মাসের বেশিরভাগ দিন রোযা পালন করে তবে আরবী বাগধারা অনুযায়ী বলা যায় সে লোক সারা মাসই রোযা পালন করেছে। যেমন আরবরা বলে থাকে, অমুক লোক সম্পূর্ণ রাত (নামাযে) দাঁড়িয়েছিল। অথচ সে লোক রাতের খাবারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনে কিছু সময় ব্যয় করেছে। ইবনুল মুবারাক এর প্রেক্ষিতে মনে করেন, হাদীস দুটির তাৎপর্য একই। হাদীসটির তাৎপর্য হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট মাসের বেশিরভাগ দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোযা পালন করতেন। আবূ ঈসা বলেন, সালিম আবূ নাযর এবং আরও অনেকে আবূ সালামার সূত্রে আইশা হতে মুহাম্মাদ ইবনু আমরের মতই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

এ সকল হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে রমজান আসার আগের দুই মাসে আমাদের উচিত কিছু নফল রোজা রাখা। রজব ও শা’বান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা এমনিতেই সুন্নাহ। আবার প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা সুন্নাহ। একই সাথে হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজের রোজা রাখাও সুন্নাহ। তাই চলুন আমরা রজব ও শা’বান মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো অন্তত রাখার চেষ্টা করি। তাতে ইনশাআল্লাহ রজব-শা’বানের বিশেষ ফজিলত ও আইয়ামে বীজের ফজিলত উভয়টিই হাসিল হয়ে যাবে। একই রকম ভাবে সোম-বৃহস্পতি রোজা রাখার মাধ্যমেও এই দুটি ফজিলত হাসিলের সুযোগ রয়েছে।

ই’তিক্বাফের জন্য পরিকল্পনা

রমজানের শেষ দশকে মসজিদে ই’তিক্বাফ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। নবীজি (সা) নিয়মিত রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ই’তিক্বাফ করতেন। তাই আমাদেরও উচিত সাধ্যমত এই ১০ দিন ই’তিক্বাফ করা। এজন্য যারা চাকুরিজীবি আছি তারা চাইলে আগের থেকে অফিসে জানিয়ে রেখে ছুটির প্ল্যান করতে পারি। এছাড়াও পুরো ১০ দিন ই’তিক্বাফ না করতে পারলেও সাধ্যমত কয়েক দিন নফল ইতিক্বাফ করতে পারি।

সাদাকাতুল ফিতর এর প্রস্তুতি নেয়া

রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। ফিতরা সম্পর্কে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারনা প্রচলিত আছে। ফিতরা মানেই কেবল ৭৫ টাকা দান করা নয়। আমাদের উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক অর্থ খরচ করে ফিতরা আদায় করা। ফিতরা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। এই পোস্ট থেকে ইনশাআল্লাহ আপনি ফিতরা সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারনা পাবেন। রমজানে যেহেতু সকল নেক আমলের সওয়াব বাড়িয়ে দেয়া হয়। তাই আমরা এখন থেকে ফিতরা ও দান সাদাকার জন্য কিছু কিছু করে টাকা আলাদা করে রাখতে পারি। এই বাড়তি সওয়াব ও হিসাবের সুবিধার্থে অনেকেই রমজান মাসে যাকাত আদায় করে থাকেন। যদিও যাকাত আদায় রমজানের সাথে সম্পর্কিত নয়। তাই যাকাত আদায়ের জন্যও আর্থিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারি।

ঈদ উল ফিতরের প্রস্তুতি ও আমল

রমজানের শেষে শাওয়াল মাসের ১ম তারিখে আমরা ঈদ পালন করি। ইসলামী শরীয়তে ঈদ বলতে কেবল ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আযহাকে বুঝানো হয়। এই ঈদের দিনগুলোতে আনন্দ উদযাপন করা একটি ইবাদত। আল্লাহ আমাদেরকে আনন্দের জন্য যেই দিনদুটিকে দান করেছেন। সেই দিনদুটিতে আল্লাহর রাসূলের (সা) পদ্ধতিতে আমরা আনন্দ উদযাপন করব। ঈদের দিনের জন্য বেশ কিছু মাসনূন আমল রয়েছে। যার মাধ্যমে আমরা দিনটিকে ইবাদত দ্বারা পূর্ণ করতে পারি। ঈদের দিনের আমলগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিলে সেগুলো সময় মত আদায় করা সহজ হবে। ঈদের দিনের আমল সম্পর্কে জানা যাবে এই ব্লগ পোস্ট থেকে

শাওয়াল মাসের ৬টি রোজার জন্য মানসিক প্রস্তুতি

রমজানের মাসের সবগুলো রোজা রাখার পর কেউ যদি শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখেন তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব দান করেন। তাই আমরা চেষ্টা করব শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখার জন্য। শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এই ব্লগ পোস্ট থেকে

আল্লাহ আমাদেরকে রমজান মাসের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়ার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ এই রমজানকে আমাদের জীবন পরিবর্তন করে দেয়ার উপলক্ষ্য বানিয়ে দিন। এই রমজানে ভোগ-বিলাসিতা, পাপ কাজ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দিন। রমজানে আমাদের সকলকে পুরো কুরআন পড়ে শেষ করার তাওফিক দান করুন। এই রমজানে বেশি বেশি ইসলামের জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিক্বাফ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ আমাদের জীবনে বারবার লাইলাতুল ক্বদরের পূর্ণ ফজিলত দান করুন।

12 thoughts on “রমজান মাসের প্রস্তুতি কেমন হবে?

  1. Mash’a Allah. Excellent. It covered all and everything based on the Qur’an and authentic Hadith. Jazaq Allahu Khairan, brother.

  2. আলহামদুলিল্লাহ। অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পারলাম।
    রমজানের প্রস্তুতি নেয়ার যে তাৎপর্য এখানে বর্ণনা করা হয়েছে তা অসাধারণ।
    আল্লাহ আমাকে এসব মেনে চলার তৌফিক দিন।
    শুকরিয়া জানাই লেখক কে।

  3. জাযাকাল্লাহ ভাই। কথাগুলো শেয়ার করছি সাদকাহ জারিয়াহ

  4. JazakAllahu khair. সাদকাহ জারিয়াহ কথাগুলো শেয়ার করছি ভাই। অনুমতি দিন

  5. মুসলিমদের জন্য রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।এই পোস্টটির মাধ্যমে সেটি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

  6. অত‍্যান্ত সুন্দর একটি অ‍্যাপ।মানুষ পড়লে অব‍শ‍্যই তার কাজে লাগবে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে বোজার তওফিক দান করূক আমিন।

  7. জাযাকাল্লাহ ভাই । অনেক সুন্দর হয়েছে । তবে আরো একদুটি পয়েন্ট যোগ করে দিতে পারেন । যেমন, যে কোনো রকম হারাম কাজ হারাম উপার্জন থেকে নিজেকে দূরে রাখা। সদকাতুল ফিতরের পাশাপাশি নফল দানও বেশি পরিমাণে করা । যিকির ও ইস্তেগফার করা ।
    জাযাকাল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *