পোস্টটি পড়া হয়েছে 752 বার
পূজা দেখতে যাওয়ার বিধান

অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের বিধান

ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র গ্রহনযোগ্য দ্বীন বা জীবন বিধান। আল্লাহ আমাদেরকে কুরআনে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহনযোগ্য বা মনোনীত জীবন বিধান হচ্ছে ইসলাম”।[1] এছাড়া অন্যান্য জীবন বিধান বা ধর্ম বাতিল। তাহলে অন্যান্য ধর্মের মানুষদের প্রতি আমাদের মুআ’মালাত বা আচরণ-ব্যবহার কেমন হবে?

কুরআনে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন “তোমরা অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রভুদের গালি দিও না”।[2] তাদেরকে গালি দিলে তারা মনে কষ্ট পাবে এবং আমাদের প্রভু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’লাকেও গালি দিবে। এজন্য অন্য ধর্মের দেবতা, ধর্ম গ্রন্থ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে গালি দেয়া বা হেয় প্রতিপন্ন করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

তাহলে আমরা কি তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাব? তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাব? সেটাও গ্রহনযোগ্য নয়! আজকের এই লেখায় আমরা জানার চেষ্টা করব পূজা দেখতে যাওয়ার বিধান বা অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব দেখতে যাওয়ার বিধান সম্পর্কে।

পূজা, বড় দিন ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উৎসব দেখতে যাওয়ার হুকুম – পূজা দেখতে যাওয়ার বিধান

আমাদের দেশের এক শ্রেণীর মানুষকে বলতে শোনা যায় “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”। এটা একটা অমানবিক ও অযৌক্তিক কথা। কোনো বিবেকবোধ সম্পন্ন ও মানবিক লোক এটা বলতে পারে না। ধর্মীয় বিশ্বাস যেই উৎসবের সাথে জড়িত থাকে সেই উৎসবকে সকলের জন্য সাধারণ করতে চাওয়া একটা হঠকারীতা। কারণ এক ধর্মের উপাসনা বা উৎসব আরেক ধর্মের ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই একমাত্র ধর্মহীন বা নাস্তিক ব্যক্তির পক্ষেই বলা সম্ভব “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”।

খলীফা হযরত উমর রা. বলেছেন “তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাক।”[3] অন্য বর্ণনায় তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন “কারণ এক্ষেত্রে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নাযিল হয়ে থাকে”।

মুসলিমদের জন্য জাস্ট দেখার জন্য বা মজা করার জন্য অন্য কোনো ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেয়া বৈধ নয়।


Give Ad - Click here

পূজা, বড়দিন বা অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান

অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো বৈধ নয়। কারণ আমরা এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে প্রভু বলে স্বীকার করি না। তাই আমরা যদি অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানাই। তাহলে প্রকারান্তে তাদের করা শিরকের উৎসবে আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাদের কাছে যেটা তাদের ধর্মের ইবাদত, আমাদের কাছে সেটা আল্লাহর সাথে শিরক করা। তাই অন্য ধর্মের ইবাদতে আমাদের উপস্থিত থাকা বা তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত নয়।

আমরা কোনো হারাম কাজ হতে দেখলে কোনো মুমিন কি তা সেলিব্রেট করতে পারি? উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কোথাও মদ খাওয়া হচ্ছে বা সুদের কারবার হচ্ছে বা কোথাও শুকরের মাংস খাওয়া হচ্ছে। আমরা মুমিনরা কি বলতে পারি “হ্যাপি ড্রিংকিং”? বা বলতে পারি “আপনাদের সুদ খাওয়া বা শুকর খাওয়া শুভ হোক”? কখনোই না! কারণ এগুলো আমাদের কাছে হারাম। আমরা কোনো হারামের ব্যাপারে শুভ কামনা জানাতে পারি না।

একই ভাবে আমরা অন্য ধর্মের কাউকে বাধ্য করতে পারি না আমাদের নামাজ, আমাদের ঈদে একাত্মতা জানাতে। হিন্দু ধর্মে গরু হত্যা করা নিষেধ। আমরা ঈদুল আজহার সময় গরু কুরবানি করি। তাদের ধর্মীয় অনুসাশনে কিন্তু এটা সাপোর্ট করবে না আমাদের কুরবানির ঈদে আমাদের গরু জবাইয়ের সময় সামনে থাকা বা শুভেচ্ছা জানানো। কারণ আমাদের কাছে এটা ইবাদত, কিন্তু তাদের কাছে এটা পাপ। তাই বলা হয় এক ধর্মের ইবাদত অন্য ধর্মের পাপ হিসাবে গণ্য হতে পারে। এজন্য আমরা বলবো “ধর্ম যার, উৎসবও তার”।

অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব পালনে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব

অন্য ধর্মের ধর্মীয় উপাসনা ও উৎসব পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন তাদের ধর্ম-কর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করা। তাদের প্রতি কটুক্তি বা অসহযোগিতামূলক কোনো আচরণ করা কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। যেমনি ভাবে তাদের উৎসবে অংশগ্রহন ও শুভেচ্ছা জানানোও বৈধ নয়।

এক ধর্মের সাথে অপর ধর্মের অনুসারীদের সহাবস্থান এবং অন্য ধর্মের অনুসারীদের আপন আপন পূজা-আরাধনা নির্বিঘে পালন করতে সহযোগিতার বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। ইসলাম এতে পূর্ণ সমর্থন দেয় ও দায়িত্ব গ্রহণ করে। ইসলামের স্পষ্ট নীতি হচ্ছে, যে কোনো ধর্মাবলম্বী নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে তার ধর্ম পালন করুক। নিজস্ব পরিধির মধ্যে তার ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা তার রয়েছে। ইসলাম এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। বরং তাদের নিজস্ব গণ্ডির ভেতরে থেকে এগুলো পালন করার জন্য ইসলামী সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে।[4]

আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার শিরক ও বিদআত থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন।

তথ্যসূত্র

  1. সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯
  2. সূরা আন’আম, আয়াত ১০৮
  3. আসসুনানুল কুবরা, হাদীস ১৮৮৬২
  4. এক ধর্মের উৎসব অন্য ধর্মের জন্য নয় – মাসিক আলকাউসার
  5. দূর্গাপুজার অনুষ্ঠান দেখা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *