পোস্টটি পড়া হয়েছে 133 বার
golpogulo onnorokom গল্পগুলো অন্যরকম সমকালীন প্রকাশন

গল্পগুলো অন্যরকম – [বই রিভিউ – ৬]

“আর কেউ আপনাকে ভালবাসুক বা না বাসুক, আমাদের রব মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ভালবাসেন”

হাড় কাঁপানো প্রচন্ড ঠান্ডায় বৃষ্টি আর তুষারপাত মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, দশ বছর বয়সী ছেলেটি মিষ্টি হেসে কথাগুলো বলল বাড়ির দরজায় দাঁড়ানো মধ্য বয়সী ভদ্রমহিলাকে। অনেকবার কলিংবেল বাজানোর পর ভদ্রমহিলা দরজা খুলেছেন। বিরক্ত করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তার হাতে একটি বই ধরিয়ে দিল ছেলেটি। সে জানালো বইটি পড়লে সে তার রবের ব্যাপারে জানতে পারবেন। ঘটনার শেষ এখানেই নয়।



পরের জুমআয় নামাজের পর ইমাম সাহেব উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে জানতে চাইলেন কারো কোনো বিষয়ে জানার আছে কিনা। মহিলাদের অংশ থেকে হিজাব আবৃত একজন উঠে বললেন, গত জুমআতেও তিনি ছিলেন একজন অমুসলিম। বছর দুয়েক আগে তার স্বামী মারা গিয়েছেন। এরপর তার আপনজনেরাও তার পর হয়ে যায়। সব কিছু থেকে তাকে বঞ্চিত করে। এক পর্যায়ে তিনি এতটাই ভেঙে পড়েন যে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। সিলিং ফ্যানের সাথে দড়ি ঝুলিয়ে তিনি আত্মহত্যার সব ব্যবস্থা করে চেয়ারে উঠে দাঁড়ান। চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগ মুহূর্তে দরজার কলিং বেল বেজে ওঠে। প্রথমে দরজা না খোলার চিন্তা করলেও ক্রমাগত বেল বাজা আর দরজা ধাক্কানোর শব্দে তিনি চেয়ার থেকে নেমে দরজা খুলেন। দেখেন প্রচন্ড বৈরী আবহাওয়া আর শীতের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি ছেলে তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে “আর কেউ আপনাকে ভালবাসুক না বাসুক, আমাদের রব মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ভালবাসেন। আপনার কেয়ার করেন”। আর দুয়েকটি কথা বলে একটি বই দিয়ে সে বিদায় নেয়। তখনও তার ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে দড়িটি ঝুলছে। আগ্রহ বশত বইটি পড়া শুরু করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল সে। এরপর?

এরপর সে আত্মহত্যার জন্য প্রস্তুত করা চেয়ারটাকে ভেঙে ফেলল লাথি দিয়ে। ছিড়ে ফেললেন ফ্যানের সাথে ঝুলানো দড়িটি। কারণ তিনি পেয়ে গেছেন তার রবের পরিচিয়। তিনি পেয়ে গেছেন তার জীবনে ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট উপকরণ। সেই দিনই তিনি শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন! সুবহানাল্লাহ! বইয়ের পিছনে দেয়া মসজিদের ঠিকানা পেয়ে তিনি এখানে এসেছেন। তার জীবনের গল্প শুনে ততক্ষণে মসজিদ জুড়ে চলছে ‘হু-হু’ শব্দের কান্না। ইমাম সাহেবও কেঁদে চলেছেন। সেই ছেলেটি যে আর কেউ নয়! তারই সামনে বসে থাকা তার নিজেরই সন্তান!



একটি বিদেশী সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা উপরের গল্পটি নেয়া হয়েছে আজকের আলোচ্য “গল্পগুলো অন্যরকম” বই থেকে। গল্পটি লিখেছেন বর্তমান সময়ের সাড়া জাগানো লেখক আরিফ আজাদ। সমকালীন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হওয়া এই বইটিতে রয়েছে ১৯ জন লেখক/লেখিকার লেখা এরকম ৩৫ টি অন্যরকম গল্প। প্রতিটি গল্পই আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যাবে। আমাদেরকে আরেক বার স্মরণ করিয়ে দিবে আমাদের রবের কথা। আরেক বার স্মরণ করিয়ে দিবে সেই শপথের কথা যা আমরা পৃথিবীতে আসার পূর্বেই সকলে করেছিলাম। রুহের জগতের যেই শপথে আমরা বলেছিলাম একমাত্র আল্লাহরই আনুগত্য করব। একমাত্র তাঁর কাছেই আত্মসমর্পন করব।

আমরা বলে থাকি বই হচ্ছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বন্ধু। আর ইসলাম বলেছে “সৎ লোকের সাথী হও” বা সৎ লোককেই বন্ধু বানাও। একটা বই কখন আমার বন্ধু হবে? যখন সেই বইটি আমার জীবনে কোনো ভ্যালু অ্যাড করবে। যখন সেই বইটি আমার ব্যক্তিকে আরো উন্নত করবে। যখন সেই বইটি আমাকে আমার পদস্খলন থেকে রক্ষা করবে। যখন সেই বইটি আমাকে বিপথে নিবে না। যখন সেই বইটি আমাকে নির্মল আনন্দ দিবে। সর্বপরি যখন সেই বইটি আমাকে আমার রবের কথা মনে করিয়ে দিবে। এই সবগুলো গুণে গুণান্বিত গল্পগুলো অন্যরকম বইটি। সে অর্থে এটি আমাদের একটি ভাল বন্ধু হতে পারে।

যারা মানসিক কষ্ঠে আছেন, বিভিন্ন বিপদে আছেন অথবা যারা আল্লাহর রহমতে সুখে আছেন – সকলের জন্য সমান উপকারে আসতে পারে বইটি। যিনি কষ্টে আছেন তিনি ইনশাআল্লাহ এখান থেকে এমন কিছু পাথেয় অর্জন করতে পারবেন যাতে তার কষ্ট লাঘব হয়। ধৈর্য ধরা যেন সহজ হয় এমন কিছু উপাদান এই বইতে পাওয়া যাবে অনেকগুলো গল্পে। আর যিনি সুখে আছেন, তিনি আল্লাহর প্রতি আরো কৃতজ্ঞ হওয়ার শিক্ষা পাবেন ইনশাআল্লাহ।

বইটি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য

বইয়ের নামঃ গল্পগুলো অন্যরকম

লেখকঃ ১৯ জন লেখকের সমন্বয়ে লিখা

প্রকাশকঃ সমকালীন প্রকাশন (প্রথম প্রকাশ – আগস্ট ২০১৯)

গল্প সংখ্যাঃ ৩৫

পৃষ্ঠাঃ ২১১

মুদ্রিত মূল্যঃ ২৯০

কাটাবন, বাংলাবাজার সহ যে কোনো অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। আমি নিয়ামাহ বুকশপ থেকে বইটি কিনেছি। সেখান থেকে কেনার জন্য এখানে ক্লিক করুন

বইয়ের লেখক, প্রকাশক ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদানের দুআ রইল।

সকল পাঠকের কাছে আন্তরিক অনুরোধ, আপনার দুআয় আমাকে রাখবেন। আল্লাহ যেন আমার ও আমার পরিবারের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকে সুখ ও প্রশান্তি দান করেন, যেন সকল পেরেশানী দূর করে দেন। আল্লাহ যেন আমাকে লোক দেখানো কাজ করা থেকে বিরত রাখেন। আল্লাহ যেন আমাকে ঋণগ্রস্থ না করে দেন। আল্লাহ যেন দুনিয়া ও আখিরাতে আমার দোষত্রুটি গোপন করেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি ইলম অর্জন ও সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *