পোস্টটি পড়া হয়েছে 1,419 বার

অভিজ্ঞতা শেয়ার (বিষয়ঃ প্রোগ্রামিং)

অভিজ্ঞতা শেয়ার
(মুরুব্বিদের জন্য অনুপযোগী। প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত কোন উচ্চমার্গীয় কথা এখানে নাই। তাই হাতে সময় কম থাকলে না পড়াই ভাল 😛 )

কোথাও চান্স না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের CSE তে ভর্তি হলাম। ক্লাস শুরুর ১ মাস বাকি থাকতে সি-তে হাতেখড়ি। সিনট্যাক্সগুলো মুটামুটি শেষ হবার পর UVa-তে করা শুরু করলাম। সারা জীবনের ফাঁকিবাজির প্রায়শ্চিত্য স্বরুপ ইজি ইজি প্রবলেম নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন বসে বসে শ’ দুয়েক প্রবলেম সলভ করলাম। আশেপাশের অনেকে এই ফালতু (!) জিনিস বাদ দিয়ে ওয়েব ডিজাইন শেখা শুরু করল। কেউ কেউ App ডেভেলপমেন্ট আবার কেউ ডাটাবেজ/নেটওয়ার্কিং। তখন মনে হত এই কনটেস্ট প্রবলেম সলভ করা বেশি কঠিন। প্রোগ্রামিং এর জিরো নলেজ নিয়ে একটার পর একটা প্রোডাক্ট তারা বাজারে নিয়ে আসতেছে। টুকটাক আয়ও হচ্ছে। আমি শালা কি করতেছি? -_-

৩ বছর পার হবার পর Android App ডেভেলপমেন্ট শেখা শুরু করলাম। দেখলাম “গেবন বড়ই সোন্দর্য্য” ( :'( ) কনটেস্টের জন্য নিয়মিত ভাল কোচ বা সেরকম উদ্যোমী টিমমেট না পেলেও এন্ড্রয়েডে কাজ করার সময় একজন পাগলাকে টিমমেট হিসেবে পেলাম। জগন্নাথ CSE এর Mahadi Hasan Sunny ওরও শ’দুয়েকের মত সলভ করা। আরেক টিমমেট Mainuddin Chisty ভাই। কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড, চাকুরিজীবি একই সাথে অসম্ভব পরিশ্রমী। আমরা The Oak Troop গঠন করি যা এখন Megaminds Web & IT Solutions এর সাথে মার্জ হয়ে গেছে। App Of Ramadan – মাহে রমজানের অ্যাপ ছিল আমাদের প্রথম প্রোজেক্ট।
Play store link: goo.gl/Hv9W6H [Size: 3 MB]




ACM থেকে ডেভেলপমেন্টে…। সেদিন সানীর সাথে গল্প করছিলাম যে, UVa তে যদি প্রবলেম সলভ না করতাম এই এপের প্রোজেক্টটা করা কখনোও সম্ভব হত না। আক্ষরিক অর্থে না, বুঝাতে চাইছি অনলাইন জাজে সলভ করাতে অনেক বেশি হেল্প হয়েছে। আল্লাহর রহমতে মুটামুটি বাগ ফ্রি একটা কাজ হিসেবে প্লে স্টোরে আপলোড দিতে পেরেছি। এরপরেও কোন প্রোডাক্টকেই ১০০% বাগ ফ্রি বলা যায় না।
সিনিয়ররা বলতেন ‘প্রোগ্রামিং হচ্ছে একটা প্যাশন’। সানীর মধ্যে সেটা দেখলাম সেই আকারে। একবার রাত ২টার দিকে স্কাইপে কথা বলার সময় বলল ডিনার করতে ভুলে গেছে। এখন দেখে ভাত পচে গেছে। মেসবাসী হওয়ায় ক্ষুধা পেটেই ঘুমাতে হল।

এই অভিজ্ঞতা শেয়ারটা মূলত CSE তে ভর্তি হওয়া নতুনদের জন্য। প্রথম থেকেই অমানসিক পরিশ্রম করার পরামর্শ রইল ACM প্রবলেম সলভিং এর জন্য। অনেকেই কানের কাছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট/মোবাইল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্যানপ্যান করবে। তাদের কথা উড়িয়ে দিন। ভার্সিটিতে ৩ বছর ব্যাসিক প্রোগ্রামিং, ডাটা স্ট্রাকচার, এলগরিদম প্র্যাক্টিস করুন। এরপর যেই প্ল্যাটফর্মে কাজ করার ইচ্ছা হয় সেদিকে যাবেন। তখনই বলতে পারবেনঃ

“Programmer’s life is so much beautiful…”

Happy Programming… 🙂

2 thoughts on “অভিজ্ঞতা শেয়ার (বিষয়ঃ প্রোগ্রামিং)

    1. ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, ডিগ সবগুলোতেই শেয়ার করতে পারবেন। সবগুলোর আইকনই দেয়া আছে। অন্যথায় পোস্টের লিংক কপি করেও শেয়ার করতে পারেন।
      ধন্যবাদ। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *