পোস্টটি পড়া হয়েছে 21,413 বার
শবে বরাতের ফজিলত ও আমল শিরক ও বিদআত

সুন্নাহর আলোকে শবে বরাতের ফজিলত ও আমল – করণীয় ও বর্জনীয়

Post updated on 5th May, 2020 at 05:52 pm

যেই রাতটি আমাদের কাছে শবে বরাত বলে পরিচিত, হাদীস শরীফে এটিকে বলা হয়েছে লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রজনী। শবে বরাত ফার্সী শব্দ, এর অর্থ ভাগ্য রজনী। আর আরবিতে এই রাত্রকে বুঝাতে লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তির রজনী কথাটি ব্যবহৃত হয়। মধ্য শাবানের এই রাত্রিতে কি ভাগ্য লিখা হয়? কুরআনে ভাগ্য লিখার কথা বলা হয়েছে সেটা আসলে কোন রাত? এই রাতের ফজিলতের ব্যাপারে হাদীসের দলিল আছে কী কী? আমরা এই রাতে যা করি আর এই রাত সম্পর্কে যেই ধারণা ও বিশ্বাস পোষণ করি তা কতটা সুন্নাহ সম্মত? এই রাতের আমল কী? পরদিনের রোজা সম্পর্কে হাদীস কী বলে? এ রাতে প্রচলিত শিরক ও বিদআতের কাজগুলো কী কী? এই সকল বিষয় নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হবে এই পোস্টে।

শবে বরাতের রাত নিয়ে এখন প্রতি বছর চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একদল বলে এই রাতের সব কিছুই বাতিল। আরেক দল বলে এই রাতই সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। কেউ বলছেন শবে বরাতের রাতে কোনো আমলই করা যাবে না। কেউ আবার বলছেন সারা রাত জেগে নামাজ পড়তে হবে। কুরআন সুন্নাহর আলোকে আলেমগণের বিভিন্ন লেখনী ও আলোচনা অধ্যয়ন করে এই রাতের সুন্নাহ সমর্থিত আমল ও ফজিলত এবং আমাদের সমাজে যেসব শিরক-বিদআত এই রাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত আছে; সেগুলো বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

শবে বরাতের উপর বেশির ভাগ লেখার সাথে এই লেখার একটা পার্থক্য রয়েছে। তা হচ্ছে এখানে আমি চেষ্টা করব দুই গ্রুপের কথাই তুলে ধরার। অর্থাৎ পক্ষে বিপক্ষের উভয়ের বক্তব্য ও উভয়ের দলিল এখানে উল্লেখ করার চেষ্টা করব। আর এগুলোর ব্যাপারে আলেমদের মত অনুসারে উপসংহার টানব। সবশেষে থাকবে বরেন্য কিছু আলেমদের আলোচনা, আর্টিকেল ও বইয়ের রেফারেন্স। তাই লেখার দৈর্ঘ্য খানিকটা বড়ই হবে। ইনশাআল্লাহ সবকিছু অধ্যয়নের পর আপনার সামনে আলোর পথটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

শবে বরাত আসলে কী? হাদীসে শবে বরাতকে কী বলা হয়েছে?

শবে বরাত শব্দ দুটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। ফার্সিতে শব অর্থ রাত আর বরাত অর্থ হচ্ছে ভাগ্য। একত্রে অর্থ দাঁড়ায় ভাগ্য রজনী বা ভাগ্য নির্ধারিত হয় যে রজনীতে।

ইসলামের আবির্ভাবের প্রায় ৫০০ বছর পরে এই “শবে বরাত” পরিভাষাটা প্রথম ব্যবহৃত হয়। রাসূলের (সা) যুগে, সাহাবীদের যুগে, তাবেয়ীদের যুগে, তাবে-তাবেয়ীদের যুগেও এই পরিভাষাটি প্রচলিত ছিল না। আমরা এই রাতকে যেভাবে উদযাপন করি ইসলামের আবির্ভাবের প্রথম ৫০০ বছরে এভাবে এই রাতকে উদযাপন করা হত না।

হাদীসের পরিভাষায় শবে বরাত

শবে বরাতের সুন্নাহ ভিত্তিক পরিভাষা হচ্ছে “লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান” বা মধ্য শাবানের রাত্রি। আল্লাহর রাসূল (সা) ও সাহাবিরা এই রাতকে উক্ত নামেই অবহিত করতেন। ইসলামের কোনো পরিভাষাকে অন্য ভাষায় নিজস্ব শব্দ দিয়ে বলাতে আলেমগণ আপত্তি করেন না। যেমন আমরা সালাতকে নামাজ বলি। নামাজ কথাটা বললে আমরা ঐসব কাজের সমষ্টিকেই বুঝি যেগুলো হাদীসে সালাত শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে। আমাদের দেশে সালাতকে নামাজ বলা প্রচলিত। কিন্তু আমরা যদি সালাত কথাটা বলি তাহলে নবীজির (সা) মুখের একটা শব্দকে আমরা উচ্চারণ করলাম। এটা আরো ভাল। যদি সালাতকে নামাজ বা সাওমকে রোজা বলি তাতেও অসুবিধা নাই। এটা নাজায়েজ না। কিন্তু পরিভাষাগুলো ব্যবহারগত যেই সুন্নাহ সেটা আদায় হল না। ব্যক্তিগত ভাবে তাই আমি চেষ্টা করি সালাত, সাওম এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে। কিন্তু অনেক সময়ই অভ্যাসগত কারণে নামাজ-রোজা বলে ফেলি। এটা আসলে দোষণীয় কোনো ব্যাপার না।

তাহলে লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাতকে শবে বরাত বলায় আমাদের আপত্তি কেন? এটাও তো নামাজ-রোজার মত ফার্সি শব্দই!

শবে বরাত কথাটা বললে আমরা যদিও শাবানের ১৫ তারিখকেই বুঝাই কিন্তু এই “শবে বরাত” কথাটার মধ্যে একটা বাড়তি উত্তেজনা আছে। একটা বাড়তি গুরুত্ব বহন করে আমাদের সমাজে। কারণ শবে বরাত কথার অর্থ হচ্ছে ভাগ্য নির্ধারণের রাত। কিন্তু হাদীসের আলোকে আমরা জানতে পারি নবী (সা) ও সাহাবিরা (রা) এই রাতকে ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসাবে গণ্য করতেন না।

লাইলাতুন নিসফ মিন শাবানের আরবি আরেকটি পরিভাষা আছে। তা হচ্ছে “লাইলাতুল বারাআত”। লাইলাতুল বারাআত কথাটাও হাদীসে আসে নাই। কিন্তু মধ্য শাবানের রাতের মূল থিমের সাথে আরবি “লাইলাতুল বারাআত” কথাটার মিল রয়েছে। আরবিতে “লাইলাতুল বারাআত” আর ফার্সিতে “শবে বরাত” কথাটা কিন্তু উচ্চারণগত দিক থেকে কাছাকাছি। কিন্তু অর্থের দিক থেকে রয়েছে আকাশ পাতাল পার্থক্য।

আরবির লাইলাতুল বারাআত শব্দের অর্থ হচ্ছে মুক্তির রজনী। অর্থাৎ যে রাত্রে মানুষকে মুক্তি দেয়া হয়, মাফ করে দেয়া হয়। হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি মধ্য শাবানের রাত্রে আল্লাহ তায়ালা সকল মানুষকে মাফ করে দেন, শুধু দুই শ্রেণীর মানুষকে ক্ষমা করেন না। যারা মনে হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করে আর যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে আরবিতে লাইলাতুল বারাআত কথাটা হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী লাইলাতুন নিসফ মিন শাবানের থিমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ এ রাতে আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করে দেন, তাই আরবিতে একে লাইলাতুল বারাআত বা ক্ষমার রজনী বলা হয়।

কিন্তু ফার্সিতে শবে বরাত বললে কথাটার অর্থ হয় ভাগ্য নির্ধারনের রজনী! ক্ষমা করে দেয়া আর পরবর্তী বছরের ভাগ্য লিখার কনসেপ্ট দুইটা তো ভিন্ন জিনিস! তাহলে ক্ষমার রাতকে আমরা কেন বলি ভাগ্য নির্ধারনের রাত? অনেক মানুষ এই দিনে ভাল খাবার খায়। তাদের বিশ্বাস হচ্ছে এতে পরবর্তী বছর ভাল খাওয়া জুটবে। স্বীকার করি বা না করি, আমরা সবাই সম্পদের জন্য লোভী। আমাদের লোভাতুর মন তাই শবে বরাতকে আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ববহ করে তুলেছে। কুরআন হাদীস ও সহীহ মতে ভাগ্য নির্ধারণের কথা থাকুক বা না থাকুক! পাগলের সুখ যেমন মনে মনে, আমাদের মনের অবস্থাও সেরকম। এ রাতকে ভাগ্য নির্ধারনের রাত বানিয়ে বসে আছি!

শবে বরাতকে ভাগ্য রজনী বলার দলিল ও মুফাসসিরগণ কর্তৃক এ মতকে বাতিল করে দেয়ার কারণ

আমাদের দেশের অনেক মানুষকে দেখা যায় শবে বরাতকে ভাগ্য রজনী বলার পেছনে শক্ত বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। শবে বরাতকে যারা বর্তমানে ভাগ্য রজনী হিসাবে বিশ্বাস করে থাকেন, আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি অবজারভেশন হচ্ছে সাধারণত এরা হয় মাজারপন্থী, না হয় কোনো ভন্ড পীরের মুরিদ। এছাড়াও এদের আক্বিদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এমন অনেক আক্বিদা পোষণ করে যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আক্বিদার পরিপন্থি। দেখা যাবে এরা শবে বরাত, শবে মেরাজ, মিলাদুন্নবী এই দিবসগুলো নিয়ে খুব তৎপর। মিলাদুন্নবীর দিন মিলাদ পড়া, নবীর (সা) সম্মানে দাঁড়িয়ে মিলাদ পড়া, তাদের মিলাদের আসরে নবী (সা) উপস্থিত থাকবেন তাই একটা চেয়ার খালি রাখা। পাঠকদেরকে সাবধান করছি এমন বিভ্রান্তিকর গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত না হতে। এদের পোস্টগুলো হবে কুরআন হাদীসের রেফারেন্স বিহীন। রেফারেন্স দিলেও ব্যাখ্যা থাকবে তাদের মনগড়া। বেশির ভাগ কথা থাকবে তাদের কোনো পীর বা গুরুর বক্তব্য। তাদের লেখায় নবীজির (সা) সুন্নাহ, সাহাবাদের (রা) আমল, তাবেয়ী-তাবে তাবীয়ীন, সালফে সালেহীনের আমলের খোঁজ পাওয়া যাবে না। এসব সিম্পটম দেখলে সতর্ক হবেন।

চলুন এবার জেনে নিই শবে বরাতে ভাগ্য নির্ধারনের বিশ্বাসের পেছনের কারণটা কী? কোন দলীলের ভিত্তিতে তারা এই রাতকে ভাগ্য নির্ধারনের রাত বলে অভিহিত করে? আমি যতটা সম্ভব সংক্ষেপে বর্ণনা করার চেষ্টা করছি। যেহেতু দালিলিক তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের ব্যাপার রয়েছে তাই লেখার কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় আশা করি আপনার ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে না।

সূরা আদ দুখানের ৩ ও ৪ নাম্বার আয়াত হচ্ছে তাদের দলীল।

সূরা দুখান শবে বরাত নয় শবে ক্বদরের দলিল এটা
সূরা দুখানের ১-৫ আয়াত

অনুবাদঃ

হা মীম। সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! নিশ্চয়ই আমি এটি (অর্থাৎ কুরআনকে) নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমারই নির্দেশে; নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী।

এখানে আল্লাহ বলেছেন, তিনি কুরআনকে একটি বরকতময় রাত্রিতে নাযিল করেছেন। এই মুবারক রজনীর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন সাহাবী ও তাবিয়ীগণ বলেছেন যে, এ রাতটি হলো ‘লাইলাতুল ক্বদর’ বা মহিমান্বিত রজনী। বিখ্যাত সাহাবী ইবনু আব্বাস (রা), ইবনু উমার (রা) থেকে এরকম ব্যাখ্যা এসেছে। তাবেয়ীগণের মধ্যে থেকে আবু আব্দুর রহমান আল-সুলামী, মুজাহিদ বিন জাবর, হাসান বসরী, ক্বাতাদা ইবনু দি’আমা ও আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা সকলেই বলেছেন যে, লাইলাতুম মুবারাকাহ অর্থ লাইলাতুল ক্বদর।

এ সকল সাহাবী ও তাবেয়ীর মতের বিপরীতে একজন মাত্র তাবেয়ী মত প্রকাশ করেছেন যে, এ আয়াতে বরকতময় রাত্রি বলতে শবে বরাত তথা শাবানের ১৫ তারিখকে বুঝানো হয়েছে। তিনি হচ্ছেন সাহাবী ইবনু আব্বাস (রা) এর খাদেম তাবেয়ী ইকরিমাহ। তিনি বলেন, এখানে মুবারক রজনী বলতে মধ্য শাবানের রাতকে বুঝানো হয়েছে। এ রাতে গোটা বছরের সকল বিষয়ের ফয়সালা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অধিকাংশ বর্ণনাকারী এ বক্তব্যটিকে ইকরিমাহ এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় হিজরি শতকের একজন বর্ণনাকারী একে ইবনু আব্বাসের বক্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন। আন-নাদর বিন ইসলামঈল নামক এক ব্যক্তি বলেন, তাকে মুহাম্মদ বিন সুক্কা বলেছেন, তাকে ইকরিমাহ বলেছেন ইবনু আব্বাস থেকে, তিনি উপরে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন “মুবারক রজনী হল মধ্য শাবানের রাত। এতে মৃত্যু বরণকারীদের নাম বর্ণনা করা হয়, হাজ্বীদের তালিকা তৈরি করা হয়, অতঃপর কোনো বাড়তি-কমতি করা হয় না।”

এ সনদের রাবী আন-নাদর ইবনু ইসমাঈল কুফার একজন গল্পকার ওয়ায়েজ ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে সৎ হলেও হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তার ভুলের কারণে মুহাদ্দীসগণ তাকে দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু হিব্বান তার সম্পর্কে বলেছেন তার ভুল খুব মারাত্মক, যে কারণে তিনি পরিত্যক্ত বলে গণ্য হয়েছেন। এসব কারণে মুহাদ্দীসগণ বলেছেন ইকরিমাহ ব্যক্তিগত ভাবে মুবারক রজনী বলতে শবে বরাতকে বুঝতেন। কিন্তু এই মতকে সাহাবী ইবনু আব্বাসের (রা) মত হিসাবে যে বর্ণনা করা হয়েছে সেটা ভুল। ইবনু আব্বাস (রা) মুবারক রজনী বলতে লাইলাতুল ক্বদরকেই বুঝতেন।

প্রসিদ্ধ মুফাসসিরগণ ইকরিমাহ (রহ) এর এই মতকে গ্রহণ করেন নি। কেউ কেউ তাফসীরে ইকরিমাহ এর মতটিকেও উল্লেখ করেছেন কিন্তু কোনো মন্তব্য করেন নি। আর অধিকাংশ মুফাসসির ইকরিমাহ এর এ মতটি বাতিল বলে উল্লেখ করেছেন এবং অন্যান্য সাহাবী ও তাবেয়ীর মতটিই সঠিক বলে গ্রহণ করেছৈন। তাঁরা বলেন যে, সঠিক মত হলো, এখানে মুবারক রজনী বলতে লাইলাতুল ক্বদরকে বুঝানো হয়েছে। এটিই যে সঠিক মত তার প্রমাণ হচ্ছে কুরআনের অপর কিছু আয়াত ও অসংখ্য সহীহ হাদীস।

এই ভারত উপমহাদেশের যারাই ভাগ্য রজনী বলে শবে বরাতকে বুঝে থাকেন তারা উপরে উল্লেখিত একজন মাত্র তাবেয়ী ইকরিমাহ (রহ) এর মতকে গ্রহন করেছেন। ঐ মতটা বিশুদ্ধ নয় এবং ঐ মতটিকে মুফাসসিরগণ বাতিল করে দিয়েছেন অপরাপর কুরআনের আয়াত ও হাদীসের দলিলের দ্বারা। এরপরেও ঠিক কিসের আশায় কী চিন্তা করে এই মতের উপর তারা অটল আছেন আর মানুষকে তাদের দিকে ডাকছেন আল্লাহই ভাল জানেন। তাদের ভাগ্য রজনীর গল্প শুনে এদেশের মানুষ ঝাপিয়ে পড়ছে কবরস্থানে, মাজারে শিরক বিদআতের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যকে ফেরাতে! আল্লাহ মাফ করুন!

উপরে উল্লেখিত সূরা দুখানের ৩-৪ নং আয়াতে শুধু বলা হয়েছে একটি বরকতময় রাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। আর ঐ রাতেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়। কিন্তু কোন মাসের কোন রাত্রিতে নাযিল করেছেন তা ঐ আয়াতে উল্লেখ হয় নি। কুরআনের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কুরআনের একটা আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য কোনো আয়াতে পাওয়া যায়।

সূরা বাক্বারার ১৮৫ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন কুরআন কোন মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে।

সূরা বাক্বারা ১৮৫ রমজান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে
সূরা বাক্বারা, আয়াত ১৮৫

অনুবাদঃ

রমযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন তাতে রোযা পালন করে। আর যে অসুস্থ অথবা মুসাফির থাকে, তাকে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তিনি তোমাদের কষ্ট চান না। যেন তোমরা (রোযার) নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্য তোমরা আল্লাহর তকবীর পাঠ (মহিমা বর্ণনা) কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার।

ইকরিমাহ এর মতটি যে ভুল, তা প্রমাণের জন্য উপরের আয়াতটি একটা দলিল। কারণ এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কুরআন নাযিল হয়েছে রমজান মাসে। তাই কুরআনের এই আয়াতকে মেনে নিয়ে, সূরা দুখানে কুরআন নাযিলের রাতকে শাবানের ১৫ তারিখ বলার কোনো সুযোগ নাই।

চলুন এবার দেখে নেয়া যাক সূরা ক্বদরে আল্লাহ কী বলেছেন।

সূরা ক্বদর - ক্বদরের রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে
সূরা ক্বদর

অনুবাদঃ

নিশ্চয়ই আমি একে (অর্থাৎ কুরআনকে) নাযিল করেছি লাইলাতুল ক্বদর এ (তথা মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিতে)। তুমি কি জান লাইলাতুল ক্বদর কী? লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাইল) প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। সে রাত আদ্যপান্ত শান্তি – ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।

এখানেও বলা হয়েছে ক্বদরের রাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। আর ক্বদরের রাত যে রমজান মাসের শেষ দশ দিনের কোনো একদিন তা অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদ্‌রের অনুসন্ধান কর।

[সহীহ বুখারী ২০১৭]

এসব আয়াত আর হাদীসের প্রেক্ষিতে মুফাসসীরগণ (অর্থাৎ যারা কুরআনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ব্যাপারে অভিজ্ঞ) তারা এই মর্মে উপনীত হয়েছেন যে, কুরআন রমজান মাসে নাযিল হয়েছে (সূরা বাক্বারা ১৮৫)। আর তা বিশেষ করে লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদাপূর্ণ রাতে নাযিল হয়েছে (সূরা ক্বদর)। আর এই মর্যাদা পূর্ণ রাতই হচ্ছে বরকতময় রাত এবং এই রাতেই ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয় (সূরা দুখান ৩-৪)। অতএব যারা শাবানের ১৫ তারিখকে ভাগ্য রজনী বলে দাবী করছেন বা বিশ্বাস করছেন এই বিশ্বাসটা কুরআন হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু সূরা দুখানের বরকতময় রাতকে লাইলাতুল ক্বদরের রাত বলে ধরে নিলে তা কোনো আয়াত বা হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না। আর এটাই সর্বসম্মতক্রমে বিশুদ্ধ মত যে, সূরা দুখানে উল্লেখ করা বরকতময় রাতে কুরআন নাযিল ও ভাগ্য নির্ধারনের কথার দ্বারা, শবে ক্বদরকেই বুঝানো হয়েছে।

এজন্য একজন ইসলামী প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছিলেন “শবে ক্বদর একটা মজলুম রাত! কারণ এই রাতের ফজিলত ও মাহাত্ম লোকজন শবে বরাতকে দিয়ে দিয়েছে!”। আসলেই তাই! লাইলাতুল ক্বদরের যে মাহাত্ম ও মর্যাদা, সেটা উল্লেখ করে কুরআনে আলাদা সূরা পর্যন্ত নাযিল হয়েছে। কিন্তু এদেশের মানুষজন আদীকাল থেকে কেন যেন শবে বরাত নামে অজ্ঞান! এই রাতে ভাগ্য লেখা হওয়ার কথায় দিশেহারা! কয়শ রাকাত নামাজ পড়তে হবে, কোন রাকাতে কয়বার সূরা ইখলাস পড়তে হবে এ নিয়ে চিন্তা দুশ্চিন্তার শেষ নাই। প্রতি শবে বরাতের আগে অন্তত কয়েক ডজন প্রশ্নের মুখোমুখি হই। “শবে বরাতের নামাজ কয় রাকাত পড়তে হবে? শবে বরাতের নামাজের নিয়ত কী? শবে বরাতের নামাজের নিয়ম কী?” ইত্যাদি! আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আল্লাহ আমাদেরকে কমন সেন্স দান করুন।

শবে বরাতের হাদীস স্বীকৃত ফজিলত ও আমল

এ রাতের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের ব্যাপারে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হাদীসটি হচ্ছে সাধারণ ক্ষমা বিষয়ক। এই রাতে আল্লাহ দুই শ্রেণীর মানুষ ব্যাতীত সবাইকে ক্ষমা করে দিবেন। দুই শ্রেণী হচ্ছে ১। যারা আল্লাহর সাথে শির্ক করে ২। যাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ আছে।

আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন।

(ইবনে মাজাহ ১৩৯০, হাদীসের মানঃ হাসান সহীহ)

অর্থাৎ ক্ষমা করে দেয়ার এই বেনিফিটটা সবাই পেয়ে যাবে। ঐ দুই শ্রেণীর লোক ছাড়া। এটা একটা সাধারণ ক্ষমা। সকলের জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য। শর্ত দুইটা, অন্তরে শিরক থাকা যাবে না এবং হিংসা বিদ্বেষ থাকা যাবে না। এই শর্ত দুইটা মানলে ঘুমিয়ে থাকলেও এই বোনাস পয়েন্ট আমাদের আমলনামায় যোগ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। শবে বরাত সংশ্লিষ্ট এই একটা হাদীস আমার সামনে এসেছে যার মান হাসন সহীহ মানের। আরো অন্য হাদীস থাকতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ ভাল বলতে পারবেন হাসান বা সহীহ মানের অন্য কোনো হাদীস রয়েছে কিনা।

কবর জিয়ারত করা ও গুনাহ মাফ করা বিষয়ের একটি হাদীস উল্লেখ করা যেতে পারে।

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,

এক রাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি জান্নাতুল বাকিতে, তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে আছেন।

তিনি বলেন, হে আয়িশা! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন?

আয়িশা (রাঃ) বলেন, তা নয়, বরং আমি ভাবলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন

(ইবনে মাজাহ ১৩৮৯, হাদীসের মানঃ যঈফ বা দুর্বল হাদীস)

এই হাদীসের দলীল দিয়ে আমাদের দেশে কবরস্থানগুলোতে শবে বরাতের রাতে মানুষের ঢল মানে। প্রতি দলে দলে মানুষ কবরস্থানে গমন করেন এই হাদীসের উপর আমল করার জন্য। শবে বরাতের উপর যতগুলো হাদীস রয়েছে তারমধ্যে এটিই একমাত্র হাদীস যা আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে। রাসূলের (সা) সারা জীবনে এই রাতে কবর জিয়ারতের একটাই মাত্র ঘটনা হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়। তাও সেই হাদীসটা যঈফ বা দুর্বল। আর আমরা এটাকে অনেকে আমাদের সারা জীবনের আমল বানিয়ে ফেলেছি।

দীর্ঘ রুকু-সিজদা বিশিষ্ট নামাজ পড়ার ব্যাপারে নিচের হাদীসটি উল্লেখ করা হলো।

হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন,

একবার রাসূলুল্লাহ (স) রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা অথবা বলেছেন, ও হুমাইরা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন?

আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা।

নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত?

আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন।

রাসূলুল্লাহ (স) তখন ইরশাদ করলেন,

هذه ليلة النصف من شعبان ان الله عزو جل يطلع على عباده فى ليلة النصف من شعبان فيغفر للمستغفرينويرحمالمشترحمين ويؤخر اهل الحقد كماهم

‘এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।‘

[শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৬৮]

ইমাম বায়হাকী (রহঃ) উক্ত হাদীসটি বর্ণনার পরে একে মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ এই হাদীসের সনদে বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে।

অপর একটি হাদীস পাওয়া যায় এই রাতে নামাজ পড়া আর পরদিন রোজা রাখার ব্যাপারে।

আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড় এবং এর দিনে সওম রাখ। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছ এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)।

(ইবনে মাজাহ ১৩৮৮, হাদীসের মানঃ আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানীর তাহক্বীক অনুযায়ী এটি যঈফ জিদ্দান বা মওযূ অর্থাৎ জাল হাদীস)

উপরের কয়েকটি হাদীস দ্বারা আমরা পাই নফল নামাজ পড়ার কথা, কবর জিয়ারতের কথা আর পরদিন রোজা রাখার কথা। যদিও এই বিষয়ে প্রথম হাদীসটি ব্যতীত বাকি সবগুলো হাদীসের মানই আসলে দুর্বল। এরমধ্যে একটি রয়েছে জাল হাদীসের পর্যায়ের। তাই অনেকেই এই রাতকে খুব বেশি মর্যাদা বা এই রাতকে বিশেষ ইবাদতের রাত হিসাবে আমল করতে অনাগ্রহ দেখিয়ে থাকেন। এর পিছনে তাদের মত হচ্ছে, যদি এই রাত্রিটা এত গুরুত্বপূর্ণ হত বা এ রাত্রের বিশেষ ইবাদত থাকত তাহলে এত শত শত সাহাবীদের মধ্য থেকে সহীহ রেওয়ায়েতে কোনো হাদীসের বর্ণনা নাই কেন? সকল সাহাবীরা এই রাতের ইবাদত সম্পর্কে কেন জানলেন না? সব সাহাবিকেই কেন এই রাতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগীর ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হলো না?

আবার যারা এই রাতকে বিশেষ ভাবে ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে চান তারা বলেন যে, নেক আমলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীসের উপর আমল করা জায়েজ আছে। যেহেতু এই হাদীসগুলো দুর্বল হলেও এগুলোর দ্বারা শরীয়তের কোনো বিধি-বিধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাই সাধারণ ভাবে এগুলোর উপর আমল করা যেতে পারে। এগুলো সুন্নাহ হিসাবেই ধর্তব্য হবে ইনশাআল্লাহ।

তবে এই নফল ইবাদত অবশ্যই হতে হবে নিজ বাসগৃহে। বিশেষ করে ঢাকার শহরে এই রাতের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। মানুষজন সব মসজিদে জড়ো হয়। যুবক ছেলেপলেরা ভ্যানগাড়ি ভাড়া করে সেটায় করে ৮-১০ জন ঘুরে বেড়ায়। আড্ডা-গল্প, আতশবাজি পটকা ফুটানো এগুলো তো চলতেই থাকে। বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয় মসজিদের পক্ষ থেকে বা কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে। মাজারগুলোতে মানুষ কয়েক কিলোমিটার লাইন ধরে হলেও ঢুকে। মাজারের ভিতর চলে শিরকের মহোৎসব! মাজারের আসেপাশে বসে ভিক্ষুকদের মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন মাজারকে টার্গেট করে চলে আসে ভিক্ষুক সিন্ডিকেট। রাস্তার মাঝে লাইন ধরে বসে কুপি বাতি জালিয়ে সেখানে চলে ভিক্ষুকদের কুরআন পড়ার অভিনয়! কবরস্থানগুলোতে চলে বিশেষ মোমবাতি প্রোজ্জ্বলন। আগর বাতি জ্বালানো। এসব থেকে আল্লাহর দোহাই লাগে বিরত থাকুন!

সারা বছরের জন্যেই ফরজ নামাজ ব্যতীত সকল সুন্নত ও নফল নামাজ বাসায় পড়া সুন্নাহ। যে কোনো ফরজ নামাজের ক্ষেত্রেও বাসা থেকে সুন্নত পড়ে গিয়ে ফরজ আদায় করে বাকি সুন্নত বা নফল বাড়িতে এসে আদায় করা সুন্নাহ। রাসূল (সা) বলেছেনঃ

তোমাদের ঘরেও কিছু সালাত আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবর বানিয়ে নিও না (বুখারী ৪৩২)

তাই আমাদের মধ্যে কেউ যদি অধিক তাক্বওয়ার অংশ হিসাবে উক্ত যয়ীফ বা দুর্বল হাদীসের উপর আমল করতে চাই, তাহলে অবশ্যই এগুলো নিজ বাসস্থানে করব। জমায়েত হয়ে মসজিদে একত্রিত হয়ে করব না।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ম

অনেককেই জিজ্ঞেস করতে দেখি “শবে বরাতের নামাজের নিয়ম কী?” আসলে এই রাত্রির নামাজ আর দশটা রাত্রিতে পড়া নফল নামাজের মতই। ভিন্ন কোন পদ্ধতি রাসূল (সাঃ) অবলম্বন করেন নি। তাই নিজেদের মনগড়া সিসটেমে প্রতি রাকাতে ৭ বার বা ১১ বার সূরা ইখলাসের মাধ্যমে ‘শবে বরাতের নামাজ’ না পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে ২ রাকাত করে যতটুকু পারা যায় পড়া উচিত। বিভিন্ন নামাজ শিক্ষা বই ও মোকসেদুল মোমিনের মত বানোয়াট মিথ্যা ও জাল বইগুলোতে শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, শবে মেরাজের নামাজের নিয়ম, শবে ক্বদরের নামাজের নিয়ম ইত্যাদি দেয়া হয়ে থাকে। এগুলো সবই তাদের মনগড়া বক্তব্য। কোনো নফল নামাজের ক্ষেত্রেই এরকম বিশেষ কোনো নিয়ম নাই।

তাহাজ্জুদ বা কিয়ামুল লাইলের ক্ষেত্রে আমাদের উচিত দীর্ঘ সময় কুরআন তিলাওয়াত করা। লম্বা সূরা জানা না থাকলে যেই ১০ টা সূরা সবাই জানি সেগুলোই ২ রাকাতে ৫ টা, ৫ টা করে পড়তে পারি। তাতেও কিরআত দীর্ঘ করা হবে। আমাদের উচিত অর্থ বুঝে নামাজ পড়া। দীর্ঘ রুকু করা। সিজদাকে দীর্ঘ করা। দুয়া-ইস্তিগফার করা। ঘুমাবার দরকার হলে ঘুমানো। এমন যেন না হয় সারা রাতের নফল ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের ফরজ নামাজ ছুটে যায়।

সারা বছরই রাতের শেষ ভাবে উঠে তাহাজ্জুদ পড়া আল্লাহর রাসূলের (সা) সারা জীবনের সুন্নত। অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা তাহাজ্জুদের নামাজের ফজিলত প্রমাণিত। ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ঠতম নামাজ হচ্ছে তাহাজ্জুদের নামাজ। এরপর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ নামাজ হচ্ছে সালাতুল দুহা বা চাশতের নামাজ। এগুলো অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আমরা যারা আমাদের ঈমানের যজবার কারণে দুর্বল ও যঈফ হাদীসের উপর আমল করতে এত আগ্রহী। আসুন তারা অন্যান্য সহীহ হাদীসগুলোর উপরও নিজেদের আমল জিন্দা রাখি। সারা বছরই সাধ্য মত ২ রাকাত করে হলেও তাহাজ্জুদ আর চাশতের নামাজ পড়ি।

শবে বরাতের পর দিনের রোজা

প্রতিটি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখা নবীজির (সা) সুন্নাহ। আর শাবান মাসে রাসূল (সাঃ) অনেক বেশি রোজা রাখতেন। সে হিসেবে ১৫ তারিখ রোজা রাখাও সুন্নাহ। কিন্তু এর বাইরে শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত পড় এবং এর দিনে সওম রাখ। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিযিকপ্রার্থী আমি তাকে রিযিক দান করবো। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছ এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)।

(ইবনে মাজাহ ১৩৮৮, হাদীসের মানঃ আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানীর তাহক্বীক অনুযায়ী এটি যঈফ জিদ্দান বা মওযূ অর্থাৎ জাল হাদীস)

এজন্য ফিকহের একাধিক কিতাবেই এদিনে রোযাকে মুস্তাহাব বা মাসনূন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অনেকে বিশেষভাবে এ দিনের রোযাকে মুস্তাহাব বা মাসনুন বলতে অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ত্বাকী উসমানী তার ইসলাহী খুতুবাতে বলেন,

‘আরো একটি বিষয় হচ্ছে শবে বরাতের পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শাবানের পনের তারিখে রোযা রাখা। গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদীসে রাসুলের বিশাল ভান্ডার হতে একটি মাত্র হাদীস এর সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, শবে বরাতের পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ। সনদ বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদীসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোযাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের দিকে তাকিয়ে সুন্নাত বা মুস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতে অনুচিত।’

তাই আমরা সেফ সাইডে থাকার জন্য শাবানের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ তিনটি রোজাই রাখব ইনশাআল্লাহ। এতে নবীজির (সা) সারা জীবনের সুন্নত আইয়ামে বীজের রোজা রাখার উপর আমাদের আমল করা হবে। আবার উপরের দুর্বল হাদীসটিতে ১৫ তারিখ রোজা রাখার কথা এসেছে, সেটার উপরও আমল করা হবে। কারো যদি একান্তই সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে একটি মাত্র রোজা রাখতে চান সেক্ষেত্রে ১৫ তারিখ অর্থাৎ শবে বরাতের পরদিনের রোজা রাখলেও তা দোষণীয় হবে না বলে মুহাদ্দীসগণের একটা অংশ মনে করেন।

শবে বরাত পালন করা কি বিদআত?

কট্টর শবে বরাতপন্থী যেমন দেশে আছেন, অর্থাৎ এই রাতকেই যারা বছরের শ্রেষ্ঠতম রাত হিসাবে উদযাপন করেন। আবার আরেক দলের লোক আছেন যারা এক কথায় বলে দেন “শবে বরাত বলে কিছু নাই। শব বিদআত!” এটাও আসলে বাড়াবাড়ি। কোনো কিছুই ঢালাও ভাবে বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ির মধ্যে যাওয়া উচিত নয়। মধ্যপন্থা অবলম্বন করার নামই ইসলাম। যারা বলেন “শবে বরাত বলে ইসলামে কিছু নাই” তাদের আসলে এভাবে বলা মোটেই উচিত না। আমাদের উচিত হাদীস দ্বারা শবে বরাতের যতটুকু মর্যাদা প্রমাণিত হয়েছে ততটুকুর উপর অবিচল থাকা। এর চেয়ে কমাবো না, এর চেয়ে বাড়াবোও না। সুন্নাহের মধ্যে থাকা সব সময় নিরাপদ। এর কম বা বেশি করতে গেলেই বিদআত ও শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার আশংকা থাকে।

শবে বরাতকে বিদআত বলা যাবে কি যাবে না তার বিস্তারিত ব্যাখ্যার আগে; জেনে নেয়া যাক বিদআত কাকে বলে বা বিদআতের সংজ্ঞা কী?

বিদয়াত কী বা বিদআত কাকে বলে?

যেটা দ্বীন না সেটাকে দ্বীন হিসেবে পালন করাই বিদয়াত।

কোনো একটা জায়েজ কাজ। সেটাকে ইসলাম আলাদা ভাবে ভাল বলে নাই। এমন কোনো কাজকে যদি আমি সওয়াবের কাজ বা ভাল কাজ বলি তাহলে সেটা বিদআত। একটা সাধারন ভাবে বৈধ কাজকে যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, চিন্তা গবেষনা করে বা মুরুব্বিদের শোনা কথার উপর ভিত্তি করে আমি বললাম এটা অনেক ভাল কাজ, এটা করলে সওয়াব হবে তাহলে সেটা বিদআত হবে।

একই রকম ভাবে কোনো একটা কাজকে ইসলাম খারাপ বলে নাই। নবীজির (সা) কোনো হাদীস বা সাহাবিদের কর্ম দ্বারা সেটাকে খারাপ বলা যায় না। আমি যদি ঐ কাজকে আমার উর্বর মস্তিষ্ক প্রসূত জ্ঞান দ্বারা খারাপ বলে মনে করি তাহলে সেটাও বিদআত।

এগুলো কেন বিদআত? কারণ এই কাজগুলো ভাল বা খারাপ হওয়ার জন্য সুন্নাহের কোনো প্রমাণ নাই। কিন্তু আমি বললাম সেটা সওয়াবের কাজ। অর্থাৎ রাসূল (সা) যেই কাজকে ভাল বলে মনে করতেন না, সেই কাজকে আমি রাসূলের (সা) চেয়ে এগিয়ে গিয়ে ভাল ও সওয়াবের কাজ বলে আখ্যা দিলাম। এতে নবীর (সা) প্রতি অবমাননা হয়। আমরা আমলের জন্য নবীজিকে (সা) পুরোপুরি মানার চেষ্টা করব। সবটা পারব না, কিছু কম করব। কিন্তু কখনোই নবীর (সা) চেয়ে বেশি বুঝতে ও বেশি আমল করতে যাব না। তাহলে ঈমান হুমকির মুখে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকবে।

বিদআতের বিষয়ে উদাহরণ দিতে ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ) স্যারের একটা লেকচারের কিছু অংশ উল্লেখ করতে পারি।

আমরা জানি কুরআন দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে শুয়েও পড়া জায়েজ। যদি কেউ বসে বসে পড়তে পড়তে পা ধরে এসেছে এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে কুরআন পড়লো এতে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি মনে করে কুরআন আল্লাহর কালাম, কুরআন তিলাওয়াত করা মানে আল্লাহর সাথে কথা বলা, নামাজে কুরআন দাঁড়িয়ে পড়তে হয় সব মিলিয়ে কুরআনের সম্মানে বসে কুরআন পড়া যাবে না। দাঁড়িয়ে পড়তে হবে বা দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম। এই টেনডেন্সি থেকে যদি সে দাঁড়িয়ে কুরআন পড়ে তাহলে নিঃসন্দেহে সে বিদআত করল।

কারণ তার কাছে যুক্তি আছে, দলীল আছে কিন্তু সুন্নাহ নাই। লক্ষ্য করুন! একই কাজ একজন এমনিতেই করছেন, আরেকজন উত্তম বা ইবাদত মনে করে করছেন। শুধু নিয়তের জন্য বিদআত হয়ে যাবে। আসলে কর্মটি বিদআত নয়। বিদআত হয় মনের নিয়তের কারণে।

বিদআত যাচাইয়ের সূত্রঃ

জায়েজ কোনো কাজকে সুন্নাহের সমর্থন ব্যতীত উত্তম বা অনুত্তম মনে করাটাই বিদআত। কারণ এতে সুন্নাহকে অবমাননা করা হয়। সুন্নাহ যেই কাজকে উত্তম বা সওয়াবের বলে না সেটাকে সওয়াবের কাজ মনে করাই বিদআত। সুন্নাহ যেই কাজকে খারাপ মনে করে না সেটাকে খারাপ বা গুনাহের কাজ মনে করাই বিদআত। বিদআত যতটা না কর্মে তার চেয়ে বেশি মনে!

আরেকটি উদাহরণ দিতে পারি। দাঁড়িয়ে বা ক্বিয়াম করে মিলাদ পড়া। যারা নিজেদের “আশেকে রাসূল” দাবী করেন, তাদের অনেকেই মিলাদ পড়েন। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে মিলাদ পড়েন। তারা বসে মিলাদ পড়া বা বসে বসে রাসূলের (সা) নাম নিয়ে দরূদ পড়াকে বেয়াদবী মনে করেন। তাই তাদের মিলাদের মাঝে যখন নবীজির (সা) নাম আসে তখন তারা দাঁড়িয়ে যান। এই কাজটি তাদের উর্বর মস্তিষ্কের ফসল। এই অদ্ভুত কাজটি রাসূল (সা) নিজে করেন নাই, কোনো সাহাবী করেন নাই, কোনো তাবেয়ী করেন নাই। এই জিনিসটা  আশেকে রাসূল নামধারী এইসব লোকজনের আবিষ্কার। নামাজের মধ্যে দরূদ শরীফ পড়ি আমরা। সেখানে কয়েকবার নবীর (সা) নাম আছে। আশেকে রাসূলেরা সেখানে হয়ত এখনো দাঁড়ানোর আস্পর্ধা দেখায় না। কে জানে, সামনে হয়ত এটাও আবিষ্কার করতে পারে!

বিদআত সম্পর্কে ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের অসংখ্য ভিডিও ইউটিউবে রয়েছে। তার মধ্য থেকে এই সংক্ষিপ্ত ভিডিওটি দেখে নেয়ার আহ্বান রইলো।

শবে বরাত পালন করা কি বিদআত হিসাবে গণ্য হবে?

উপরের বর্ণনা থেকে আমরা আলহামদুলিল্লাহ বিদআত সম্পর্কে জেনেছি। তার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, সুন্নাহের আলোকে যেসব আমল করার প্রমাণ আমাদের সামনে রয়েছে সেগুলো মোটেই বিদআত নয়। এছাড়া এই রাতকে কেন্দ্র করে আরো অনেক রেওয়াজ-রসম রয়েছে। যেগুলো এই উপমহাদেশের মানুষের আবিষ্কার। এগুলো অবশ্যই বিদআত। এগুলোর কোনোটা কোনোটা ভয়ংকর শিরক। তাই শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফ মিন শাবানকে ঢালাও ভাবে বিদআত বলার সুযোগ নাই।

অনেকে “শবে বরাত” এই পরিভাষাটা হাদীসে না থাকার কারণে এভাবে বলেন “ইসলামে শবে বরাত বলে কিছু নাই”। ভাই! তাহলে তো বলতে হবে “ইসলামে নামাজ বলে কিছু নাই, আছে সালাত”। বলতে হবে “রোজা বলে কিছু নাই, আছে সিয়াম”। আমরা সমাজে নামাজ বললে সালাতকে বুঝি, রোজা বললে সাওমকে বুঝি। একই ভাবে শবে বরাত কথাটা প্রচলিত হয়ে গেছে, এর দ্বারা লাইলাতুন নিসফ মিন শাবানকে বুঝাই। তাই “শবে বরাত বলে কিছু নাই” একথা বলা উচিত না। এই পরিভাষাটা নিয়ে আপত্তি থাকলে এভাবে বলা যেতে পারে “হাদীসে শবে বরাত পরিভাষাটা ব্যবহৃত হয় নাই। তাই আমাদের উচিত লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান বলা”।

শবে বরাতকে কেন্দ্র করে অনেক বিদআত ও শিরক কাজ বাংলাদেশে প্রচলিত। কোনো কোনোটা আবার শিরক-বিদআত নয় বরং সাধারণ ভাবেই অনুচিত কাজ। সবগুলো বিস্তারিত না বলে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরছি। আমাদের সকলের উচিত এগুলো থেকে বিরত থাকা।

  1. হালুয়া রুটি বানিয়ে খাওয়া ও দান করাকে এ দিনের বিশেষ ইবাদত মনে করা
  2. কবরে বাতি জ্বালানো
  3. মাজারে গিয়ে সিজদা করা (হারাম! ঈমান চলে যাবে!)
  4. আতশবাজি ও পটকা ফুটানো
  5. এই রাতে গোসল করাকে বিশেষ সওয়াবের কাজ মনে করা
  6. দল ধরে ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে “রাত্রি জাগরণ” সফল করা
  7. মসজিদে জমায়েত হয়ে নফল নামাজ পড়া
  8. মসজিদে জমায়েত হয়ে এ রাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ হালকায়ে যিকিরের আয়োজন
  9. মসজিদে মসজিদে বা মহল্লাহ মহল্লাহ এই দিন উপলক্ষে বিশেষ খানা-দানা ও তবারকের ব্যবস্থা করা
  10. রাতভর মসজিদের মাইক বাজিয়ে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার বা ওয়াজ মাহফিল করা

শবে বরাতের হালুয়া-রুটি বিদআতের উদ্ভব

মুরুব্বিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে এই দিনে রুটি বানিয়ে বিলানো হলে হাশরের দিন রুটির সম পরিমাণে আরশের নিচে ছায়া পাওয়া যাবে। এজন্য এই দিনের রুটিগুলোকে প্রায়শ অনেক বড় করে বানানো হয়। যেন আরশের ছায়ার পরিমাণ বড় হয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোনো মুরুব্বি বা বাপ-দাদাদের রেফারেন্স টেনে ইসলামের কোনো বিষয় আমল করি না। কিন্তু এই হালুয়া রুটির বিদআতী কাজটার জন্য মুরুব্বিদের চেয়ে আর কোনো রেফারেন্স জানা নাই। কারণ এই বিষয়টা কোনো জাল হাদীসের বইতেও নাই।

আমাদের গ্রামে শবে বরাত উপলক্ষে ৪০টা রুটি বানিয়ে দান করার রেওয়াজ আছে। এতে ৪০ দিন আরশের ছায়া পাবে এই ধারণা পোষণ করা হয়। আরশের নিচে ছায়ার বিষয়টা সরাসরি ওহির সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ ওহির মাধ্যমে রাসূল (সা) জানার পর সাহাবীদের বললেই সেটার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে ও মেনে নিতে হবে। কিন্তু গ্রামের মানুষজন এরকম একটা সেন্সিটিভ বিষয়েও কুরআন হাদীসের তোয়াক্কা না করে এসব মিথ্যা বানোয়াট বিশ্বাস নিয়ে আছে যুগের পর যুগ ধরে। তাদের আচরণে অনেক সময় মনে হয় এরাই আসলে অন্ধ ও বধির! শুধু গ্রামের মানুষ না। শহরেরও অনেক মানুষ আছে এই লেভেলের অন্ধ ও বধির। যাদের অন্তরে মোহর মারার মত করে সিল করে রাখা। ভুল-সঠিক যাই জানুক না কেন সেটাই constant! পরিবর্তন করার কোনো সুযোগই নাই। তাদের দলিল একটাই “বাপ-দাদারা কি সবাই ভুল ছিল?” এ কথার সাথে মিল পাই মক্কার মুশরিকদের কথার। যারা ইসলামকে সত্য দ্বীন বলে জানা সত্ত্বেও ইসলামে আসে নাই। তাদের বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করতে হবে বলে! আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন আর সুন্নাহ থেকে জ্ঞান নিয়ে জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। বাপ-দাদারা ভুল পথে থেকে থাকলে তাদের মাফ করুন, আমাদেরকে তাদের ভুল পথ পরিহার করার বুঝ দান করুন।

ফিরে আসি হালুয়া রুটির আলোচনায়। অনেকে হালুয়া রুটির আয়োজন করে উপরের বর্ণনানুযায়ী আরশের ছায়ার জন্য। আবার কেউ কোন কিছুর উদ্দেশ্যে নয় বরং “সবাই বানায় তাই” তারাও বানায়। হালাল খাবার খেলে ক্ষতি কী? উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু একটা বিদয়াতের চর্চা করা হচ্ছে। একে সমর্থন দেয়া হচ্ছে। খাবারটা হালাল। খাবার দান করা বা প্রতিবেশিকে দিলে সওয়াব। কিন্তু এই দানের পিছনে যেই নিয়তটা রয়েছে সেটা ইসলাম থেকে প্রমাণিত নয়, মনুষ্য নির্মিত। অর্থাৎ আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের দেখানো সিসটেমে না করে মনগড়া সিসটেমে। আপনার যদি নিয়মিতই বা মাঝে মাঝে হালুয়া রুটি বানিয়ে প্রতিবেশি ও গরীবদের দান করার প্র্যাক্টিস থাকে, তাহলে হয়ত এই দিনে একই কাজ করলে সেটাকে কো-ইন্সিডেন্স বলে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু তা না করে বছরের এই একটা দিনে যদি আপনার মনে আকাঙ্খা জন্মে যে প্রতিবেশি আর গরিবদের জন্য কিছু করা দরকার আর এটা “হালুয়া রুটি” দিয়েই করতে হবে। তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি একটু গর্হিত বিদআতে নিজেকে জড়ালেন।

তবে এই দিবসে হালুয়া রুটি খাওয়ার পক্ষে একটা নতুন তথ্য কিছুদিন আগে জানতে পেরেছি। শিয়া সম্প্রদায়ের একটা গ্রুপের বিশ্বাস হচ্ছে ঈমাম মাহাদী এখন থেকে অনেক অনেক আগেই জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর চার বছর বয়সে প্রতিকুল পরিবেশের কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। সময় মত তাকে আবার পৃথিবীতে পাঠানো হবে। শিয়াদের এই গ্রুপটা বলেন যে, ঈমাম মাহাদীর জন্ম হয়েছিল এই ১৫ শাবান। তাই এটা তাদের কাছে খুশির দিন। ঈদের খুশিতে আমরা যেমন সেমাই-পায়েশ দিয়ে মিষ্টিমুখ করি, তারা তাদের এই খুশির দিনে হালুয়া রুটি খেয়ে মিষ্টিমুখ করে। যেহেতু এটা তাদের ধর্মবিশ্বাস, আর তাদের অনেক রীতিনীতিই আমাদের থেকে ভিন্ন তাই এটা নিয়ে বলার কিছু নাই। আপনি শিয়া মতাদর্শে বিশ্বাসী হলে এটা খুশির দিন হিসাবে পালন করলে সেটা আপনার বিষয়।

এই দিবসকে কেন্দ্র করে পত্রিকা ও বিভিন্ন মিডিয়াতে পড়বে হালুয়া ও বরফী বানানোর রেসিপির ধুম। আমাদের মুভিগুলোতে ইসলাম বলতে দেখায় মাজারে গিয়ে কপাল ঠোকরাতে। আর শবে বরাত বললে মিডিয়া বুঝে হালুয়ার নানা পদ রান্নার রেসিপি।

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সম্পর্কে কোন বর্ণনা সহিহ হাদীস কেন, কোন জাল হাদীসেও উল্লেখ নাই।

হালুয়া খাওয়ার ব্যাপারে কথিত আছে ওহুদ যুদ্ধের সময় রাসূল (সাঃ) আহত হন। তখন একটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। দাঁতের ব্যাথার কারণে তিনি নরম খাবার খাওয়ার জন্য হালুয়া দিয়ে রুটি খেয়েছিলেন। এই তথ্যগুলো সঠিক নয়। ঘটনা হচ্ছে ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় শাওয়ালের ৭ তারিখে। শাবান মাসের পর আসে রমজান মাস, রমজানের পর আসে শাওয়াল মাস। শাবানের ১৫ তারিখ বা তার আশেপাশের দিনগুলোতে ওহুদ যুদ্ধ হয় নাই। শাবানের ১৫ তারিখ নবীজি (সাঃ) হালুয়া খেয়ে থাকলেও সেটা একবারের জন্যেই ছিল। এটাকে রীতি হিসেবে তিনি সারা জীবন পালন করেন নি। সাহাবীরাও পালন করেন নি। তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীরাও এই দিনে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন নি।

শবে বরাতের রাতে গোসল করার বিদআত

এই রাতে গোসল করেন অনেকে। তাদের বিশ্বাস গোসলের প্রত্যেক পানির ফোটায় ফোটায় গুনাহ ঝড়ে পরে আর সওয়াব লিখা হয়। এই শ্রেণীর মানুষের বিশ্বাস যে, যতক্ষণ পর্যন্ত শরীর থেকে পানি পড়তে থাকবে ততক্ষণ খালি পাপ ঝরে যেতে থাকবে। তাই প্রচন্ড শীত কালেও বিশেষ করে মহিলারা এই রাত্রে গোসল করে ভিজা কাপড় নিয়ে থাকেন। বিশেষ করে মাথা মুছেন না। ভেজা চুল থেকে যত পানি পড়বে সেগুলো পাপ মুছে দিবে। এমন অদ্ভুত বানোয়াট একটা বিশ্বাস অনেকে পোষণ করেন। আসতাগফিরুল্লাহ! আসলে তাদের উদ্দেশ্য ভাল। পাপ ঝরানোর জন্য মাঘ মাসের শীতের রাতেও মানুষ পুকুরে ডুব দেয়। কিন্তু এইরকম কোনো গোসলের ফজিলতের কথা ইসলাম ধর্মে নাই। পাপ মোচনের জন্য এমন উদ্ভট সিসটেম ইসলামে রাখে নাই। বরং হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, এই রাতে শিরককারী ও হিংসাপোষণকারী ছাড়া সবাইকে আল্লাহ মাফ করে দিবেন। ঘুমিয়ে থাকলেও সকলেই এই মাফ পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ, যদি অন্তরে বিদ্বেষ আর শিরক না থাকে।

শবে বরাতের রাতে বৃষ্টি হওয়া ও গাছের সিজদা করার মিথ্যা গল্প

এমন মিথও প্রচলিত আছে এই রাতের একটা বিশেষ সময়ে কুয়াশার মত ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সকল সৃষ্টি আল্লাহর জন্য সিজদায় অবনত হন। এক বুজুর্গ এমন একটি সময় দেখেন যে গাছপালা সব মাটির সাথে লেগে আছে। তিনি মনে করেছিলেন ঝড় হয়েছে। তাই গাছের সাথে তার ছাগল বেঁধে রাখেন। সকালে উঠে দেখেন সেই ছাগল গাছের মাথায়! কারণ সিজদা থেকে ওঠার পর ছাগল গাছের মাথায় চলে গেছে। এমন বানোয়াট কেচ্ছা-কাহিনীর সবগুলো আপনি হয়ত শুনে থাকতে পারেন আবার কোনটা হয়ত নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু এর সবগুলোই আমাদের সমাজ থেকে নেয়া।

আল্লাহ আমাদেরকে এসব উদ্ভট কিসসা কাহিনী থেকে রক্ষা করুন। যেসকল ওয়াজেয়ীন বা বক্তা এসব বলে ওয়াজ করেন আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত ও ইসলামের জ্ঞান দান করুন।

শেষ কথা

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কী পরিমাণ বিদয়াত আর কুসংস্কার ঢুকে আছে ভাবলে গা শিউরে ওঠার জোগাড় হয়। আমাদের গ্রামে বেশ ক’বছর আগে ঈদুল আজহায় গিয়েছিলাম। তখন দেখি সবাই জানে “কুরবানীর দিন দুই পা বিশিষ্ট জানোয়ার জবাই করা যাবে না”। মানে হাঁস-মুরগি জবাই করে খাওয়া যাবে না। কারণ এদের দুই পায়ের সাথে ইসমাঈল (আঃ) এর দুই পায়ের সাদৃশ্য আছে। একদম হারাম হিসেবে সবাই এটাকে জানে। বহু রকম দলীল-যুক্তি দিয়েও তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হই নাই। তখন মাদরাসার ছাত্র ছিলাম। আমাদের বড় এক হুজুরের সাথে একজনকে ফোনে কথাও বলায় দিলাম। এরপরেও তাদের কথা হচ্ছে “বাপ-দাদার আমল থিকা হুইনা আইতাছি। সবাই কি ভুল আছিলো?”

আপনার নিজের ঈমানের একটা পরীক্ষা করতে পারেন। হতেই পারে কোন বিষয়ে আপনার জানার স্বল্পতা আছে। সঠিক তথ্য জানার পর আপনি কি সেটা যাচাই করে তার উপর আমল করবেন, নাকি আপনি এতদিন যে রকম ছিলেন সেরকমই থাকবেন? আপনার ঈমানের জোর নিজেই বুঝতে পারবেন। একটা সহিহ হাদীস জানার পরেও সেটাকে ইগনোর করলেন কিনা। সেটাকে মানতে অস্বীকার করলেন কিনা। নিজের ভুল স্বীকার করলেন কিনা। শির্ক-বিদয়াত থেকে বেঁচে থাকলেন কিনা। একটু নিজেকে যাচাই করেন। নিজের ঈমানকে যাচাই করেন। সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরেও অনর্থক তর্ক করবেন, নাকি আলেম-ওলামাদের মাধ্যমে সত্যকে যাচাই করে মেনে নিবেন, পুরোটাই আপনার হাতে।

আপনার বাসায় যদি প্রতিদিন হালুয়া-রুটি বানানোর সিসটেম হয়ে থাকে তাহলে এই দিনেও হালুয়া রুটি খান। সমস্যা কী? যেমন আমাদের বাসায় প্রায়ই সকালের নাস্তায় হালুয়া বানানো হয়। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় প্রায় সারা বছরই কলেজে হালুয়া আর রুটি টিফিন নিয়ে যেতাম। কিন্তু যদি এই দিনকে কেন্দ্র করে হালুয়া রুটি বানান তাহলে কিন্তু এটাই প্রমাণিত হয় সমাজের একটা ভুল রেওয়াজের সমর্থনে আপনি হালুয়া-রুটি বানিয়ে খেলেন। হয়ত আপনি এটাকে নিছক একটা কালচার হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে ইসলাম একটি complete code of life. অর্থাৎ একটা জীবন কিভাবে চালাতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখানে দেয়া আছে। কিভাবে খেতে হবে, কিভাবে ঘুমাতে হবে, আমার ইনকাম কী রকম হবে, এক্সপেন্স কোন কোন খাতে হবে, আমাদের অর্থনীতি কেমন হবে, রাজনীতি কেমন হবে সকল কিছুর উল্লেখ কিন্তু ইসলামে আছে।

তাই শবে বরাত কিভাবে পালন করবেন বা এই দিনের কালচারটা হাদীসের অনুসরণেই হওয়া উচিত। প্রচলিত ভুলের উপর ভিত্তি বা মনগড়া রেওয়াজের উপর ভর করে ইসলামী কোন দিবস বা উপলক্ষ্য উদযাপন অনুচিত। কারণ নিজেদের ইচ্ছা মত রীতি বানাতে গেলেই সেটা বিদয়াত হবার আশংকা থেকে যায়। অনেকে বলেন একটা বিশেষ দিন পরিবারের সবাই মিলে ভাল-মন্দ খেলে ক্ষতি কী? শবে বরাত উদ্দেশ্য করে বা বিদআত হবার মত নিয়ত না থাকলেই তো হয়! হয়ত হয়, আল্লাহ ভাল জানেন। কিন্তু এর দ্বারা বিদআতীদের কালচারের সাথে আপনার কালচারটা মিলে গেল। আপনার নিয়ত ভিন্ন, কিন্তু কাজ করলেন তাদের মত করে। এতে খানিকটা আশংকা থেকেই যায়।

ছোট বেলায় আশেপাশের বাসায় হালুয়া-রুটি বানানো হত। আমাদের বাসায় হত না। আমরা খেতে চাইতাম। আম্মু সুন্দর করে আমাদের ভাই-বোনকে বুঝাতেন। কেন এই দিনে এটা বানানো উচিত না। আমাদেরকে দুই-একদিন আগে-পরে বানিয়ে খাওয়াতেন যেন আমাদের খাওয়ার ইচ্ছাটা পূরণ হয় একই সাথে যেন বিদয়াত থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর ১০টা দিনের মতই এই দিনে আমাদের রান্নাবান্না হয়। এই নোটটা যখন লিখছি তখন দুপুর ২টা (২০১৬ সাল)। আজকের দুপুরের মেনুতে দেখতে পেলাম ভাতের সাথে আছে বেসনে ভাজা বেগুনী আর ডাল দিয়ে পাট শাক। ‘সুশিক্ষিত’ বাবা-মা পাওয়া আল্লাহর অনেক বড় একটা নিয়ামত। আলহামদুলিল্লাহ… 🙂

অফটপিক

সারা বছরের নামাজের সময়সূচী, সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী, রোজা সংক্রান্ত বেশ কিছু চমৎকার আর্টিকেল, রমজানের খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন জীবনের দুআ-যিকর ইত্যাদির সমন্বয়ে আমরা Muslims Day নামের একটা Android App ডেভেলপ করেছি। এই এপটি ফ্রি ডাউনলোড করতে পারবেন Google Play Store থেকে।

কিছু রেফারেন্স

শবে বরাত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে এসব লিংক থেকেঃ

ভিডিও লেকচারঃ

  1. সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত ও রমাদান – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
  2. শবে বরাত সম্পর্কে জাল ও সহীহ হাদিস, প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনা এবং করণীয় আমল – শায়খ আব্দুল কাইয়ুম
  3. শবে বরাতের ফযিলত ও আমল – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
  4. শবে বরাতের নামাজ ও রোজা, ইসলাম কী বলে? – মাওলানা হাসান জামিল
  5. শবে বরাত নিয়ে আলোচনা – মাওলানা হাসান জামিল
  6. শবে বরাত নিয়ে পরিস্কার কিছু কথা – আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
  7. শবে বরাত ও নিসফে শাবানঃ দলিল সহ মুখোশ উন্মোচন (জুমআর খুতবা) – আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
  8. শবে বরাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
  9. শবে বরাত ভিত্তিহীন নয়ঃ প্রামাণ্যতা, করণীয় ও বর্জনীয় – মাওলানা তাহমীদুল মাওলা
  10. শবে বরাতের ফজিলত – ড. ইমাম হোসাইন

আর্টিকেলঃ

  1. বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে শাবান ও শবে বরাত – মাসিক আলকাউসার , সেপ্টেম্বর ২০০৫
  2. শবে বরাতঃ সীমালঙ্ঘণ ও সীমা সংকোচনমুক্ত মানসিকতা রাখা উচিত – মাওলানা আব্দুল মালেক
  3. হাদীসে শবে বরাতের কোন প্রমাণ আছে কি? – আহলে হক্ব মিডিয়া
  4. শাবান, রমযান, ঈদঃ কিছু প্রশ্নের উত্তর – মাসিক আলকাউসার
  5. শবে বরাত ও শবে ক্বদরে গোসল করার বিধান – আহলে হক্ব মিডিয়া
  6. শবে বরাত ও শবে মেরাজের আমল প্রসঙ্গে – আহলে হক্ব মিডিয়া
  7. শবে বরাতের রাতে মসজিদে সম্মিলিত ইবাদতের বিধান কী? – আহলে হক্ব মিডিয়া
  8. প্রসঙ্গ শবে বারাআতঃ একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা – আহলে হক্ব মিডিয়া

বইঃ

  1. কুরআন সুন্নাহর আলোকে শবে-বরাত – ফযীলত ও আমল – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (Must Read!!!)

[এটি আমার মৌলিক কোন লিখা নয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোকে আমি কেবল এক জায়গায় সন্নিবেশ করেছি। আমার জানার স্বল্পতার কারণে লেখার মধ্যে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সেগুলোর ব্যাপারে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃতজ্ঞ থাকব।]

26 thoughts on “সুন্নাহর আলোকে শবে বরাতের ফজিলত ও আমল – করণীয় ও বর্জনীয়

  1. ধন্যবাদ সুন্দর ভাবে শবে বরাত সম্পর্কে লিখার জন্য।

  2. আসসলামুয়ালাইকুম।
    শবে বরাতের বিষয়ে একজন মাত্র আলেমের লেকচার রেফারেন্স দিয়েছেন। কষ্ট করে যদি আর দুই একজন আলেমের লেকচার রেফারেন্স করেন খুবই উপকৃত হবো।

    1. শবে বরাত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে এসব লিংক থেকেঃ

      ইউটিউবের ভিডিও লেকচারঃ

      1. সুন্নাহর আলোকে শবে বরাত ও রমাদান – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
      2. শবে বরাত সম্পর্কে জাল ও সহীহ হাদিস, প্রচলিত ভ্রান্ত ধারনা এবং করণীয় আমল – শায়খ আব্দুল কাইয়ুম
      3. শবে বরাতের ফযিলত ও আমল – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
      4. শবে বরাত নিয়ে পরিস্কার কিছু কথা – আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
      5. শবে বরাত ও নিসফে শাবানঃ দলিল সহ মুখোশ উন্মোচন (জুমআর খুতবা) – আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
      6. শবে বরাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

      আর্টিকেলঃ

      1. বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে শাবান ও শবে বরাত – মাসিক আলকাউসার , সেপ্টেম্বর ২০০৫
      2. শবে বরাতঃ সীমালঙ্ঘণ ও সীমা সংকোচনমুক্ত মানসিকতা রাখা উচিত – মাওলানা আব্দুল মালেক
      3. হাদীসে শবে বরাতের কোন প্রমাণ আছে কি? – আহলে হক্ব মিডিয়া
      4. শাবান, রমযান, ঈদঃ কিছু প্রশ্নের উত্তর – মাসিক আলকাউসার
      5. শবে বরাত ও শবে ক্বদরে গোসল করার বিধান – আহলে হক্ব মিডিয়া
      6. শবে বরাত ও শবে মেরাজের আমল প্রসঙ্গে – আহলে হক্ব মিডিয়া
      7. শবে বরাতের রাতে মসজিদে সম্মিলিত ইবাদতের বিধান কী? – আহলে হক্ব মিডিয়া
      8. প্রসঙ্গ শবে বারাআতঃ একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা – আহলে হক্ব মিডিয়া

      বইঃ

      1. কুরআন সুন্নাহর আলোকে শবে-বরাত – ফযীলত ও আমল – ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর
  3. আপনি অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখেছেন, তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। বোঝাই যাচ্ছে আপনি এটার জন্য অনেক রিসার্চ করেছেন। সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    1. আমল করার চেষ্টা করি। আমলে ত্রুটি থাকে। আল্লাহর কাছে সেগুলোর জন্য ক্ষমা চাই।

  4. Hasan Abdullah নিচের লেখাগুলো আপনার জন্য আমার তরফ থেকে তুহফা!!!
    “ফুল থেকে মধু আহরণ করার ফলে মৌমাছির পেটে গেলে হয় মধু,
    “আবার ঐ একই ফুল থেকে মধু আহরণ করার পর বল্লা বা বিঙ্গুল পোকার পেটে গেলে হয় জীবন নাষকারী বিষ।
    “অনুরুপ কোরআন, হাদীস নামক ফুল থেকে জ্ঞান আহরণ করার পর মুমিন এর অন্তরে গেলে হয় আলো যা দিয়ে সে ও সঠিক পথে চলতে পারে অন্যকেও সঠিক পথ দেখাতে পারে।
    “আবার কোরআন হাদীসের জ্ঞান মুনাফিকের অন্তরে গেলে হয় অন্ধকার, সে নিজেও সঠিক পথ দেখে না অন্যকেও দেখাতে পারে না।
    বি: দ্র: কেন কথা গুলো বললাম আপনাকে ভালো করে চিন্তা করবেন।

    1. ধন্যবাদ আপনার তুহফার জন্য।
      আপনি উপমার মাধ্যমে পরোক্ষ ভাবে আমার উপর “মুনাফিক” এর অপবাদ দিলেন। ইনশাআল্লাহ, কিয়ামতের মাঠে আপনার সাথে আমার দেখা হবে। সেদিন এটার প্রমাণ চাইব আপনার কাছে। আশা করি আপনি সেদিন যথাযথ প্রমাণ দিবেন যে কী কারণে আপনি আমাকে মুনাফিকের অপবাদ দিয়েছেন।

      আমি কোথাও ভুল বললে কলার চেপে ধরে চোখে আঙ্গুল দিয়ে সেই ভুল ধরিয়ে দেয়ার অধিকার সবার আছে। আমিও অবনত মস্তকে সেই ভুল স্বীকার করে ভুল শুধরে নিব ইনশাআল্লাহ।

      বিঃ দ্রঃ আমি অত ভাল চিন্তাবিদ নই যে আপনার দেয়া মিথ্যা অপবাদের কারণ চিন্তা করে বের করে ফেলব। আমার মস্তিষ্ক এতটা উর্বর নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *