পোস্টটি পড়া হয়েছে 144 বার

শবে বরাতে হালুয়া-রুটিঃ ইবাদত নাকি বিদআত?

বিদয়াতের সংজ্ঞাঃ
যেটা দ্বীন না সেটাকে দ্বীন হিসেবে পালন করাই বিদয়াত। অর্থাৎ ধরি x একটি কাজ। যার সম্পর্কে ইসলামের কোন বিধান নাই। অর্ধাৎ x কাজ করলে সওয়াব হবে বা এই কাজটি কুরআন-হাদীস দ্বারা শুদ্ধ স্বীকৃত নয়। এখন আমি যদি মনে করি x কাজটা অনেক মর্যাদাপূর্ণ ও সওয়াবের কাজ। এটার উপর আমল করতে থাকি তার মানে আমি দ্বীন ইসলামের মধ্যে একটা নতুন এন্ট্রি দিলাম। অর্থাৎ একটা বিদআত কাজ করলাম।
শবে বরাতের হালুয়া-রুটির উদ্ভবঃ
প্রথমত ইসলাম একটি সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট জীবন ব্যবস্থা। এতে মিথের কোন আশ্রয় নাই। কোন অযৌক্তিক বিষয়াদী এখানে অনুপস্থিত।
মুরুব্বিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে এই দিনে রুটি বানিয়ে বিলানো হলে হাশরের দিন রুটির সম পরিমাণে আরশের নিচে ছায়া পাওয়া যাবে। এজন্য এই দিনের রুটিগুলোকে প্রায়শ অনেক বড় করে বানানো হয়। যেন আরশের ছায়ার পরিমাণ বড় হয়। আমাদের গ্রামে ৪০টা রুটি বানিয়ে দান করে। এতে ৪০ দিন আরশের ছায়া পাবে এই ধারণা পোষণ করা হয়। এই রাতে গোসল করেন অনেকে। তাদের বিশ্বাস গোসলের প্রত্যেক পানির ফোটায় ফোটায় গুনাহ ঝড়ে পরে আর সওয়াব লিখা হয়। এমন মিথও প্রচলিত আছে এই রাতের একটা বিশেষ সময়ে কুয়াশার মত ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সকল সৃষ্টি আল্লাহর জন্য সিজদায় অবনত হন। এক বুজুর্গ এমন একটি সময় দেখেন যে গাছপালা সব মাটির সাথে লেগে আছে। তিনি মনে করেছিলেন ঝড় হয়েছে। তাই গাছের সাথে তার ছাগল বেঁধে রাখেন। সকালে উঠে দেখেন সেই ছাগল গাছের মাথায়। কারণ সিজদা থেকে ওঠার পর ছাগল গাছের মাথায় চলে গেছে। এমন বানোয়াট কেচ্ছা-কাহিনীর সবগুলো আপনি হয়ত শুনে থাকতে পারেন আবার কোনটা হয়ত নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু এর সবগুলোই আমাদের সমাজ থেকে নেয়া।
হালুয়া রুটির আয়োজন করে অনেকে উপরের বর্ণনানুযায়ী আরশের ছায়ার জন্য আবার কেউ কোন কিছুর উদ্দেশ্যে নয় বরং “সবাই বানায় তাই” তারাও বানায়, হালাল খাবার খেলে ক্ষতি কী? উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু একটা বিদয়াতের চর্চা করা হচ্ছে। একে সমর্থন দেয়া হচ্ছে। খাবারটা হালাল। খাবার দান করা বা প্রতিবেশিকে দিলে সওয়াব। কিন্তু প্রসেসটা কিন্তু মনুষ্য নির্মিত। অর্থাৎ আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের দেখানো সিসটেমে না করে মনগড়া সিসটেমে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সম্পর্কে কোন বর্ণনা সহিহ হাদীস কেন, কোন জাল হাদীসেও উল্লেখ নাই।
হালুয়া খাওয়ার ব্যাপারে কথিত আছে ওহুদ যুদ্ধের সময় রাসূল (সাঃ) আহত হন। তখন একটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। দাঁতের ব্যাথার কারণে তিনি নরম খাবার খাওয়ার জন্য হালুয়া দিয়ে রুটি খেয়েছিলেন। তবে ঘটনা হচ্ছে ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় শাওয়ালের ৭ তারিখে। শাবানের ১৫ তারিখ বা তার আশেপাশের সময়ে নয়। শাবানের ১৫ তারিখ নবীজি (সাঃ) হালুয়া খেয়ে থাকলেও সেটা একবারের জন্যেই ছিল। এটাকে রীতি হিসেবে তিনি সারা জীবন পালন করেন নি। সাহাবীরাও পালন করেন নি। তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীরাও এই দিনে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন নি।
এর পরের কথা হচ্ছে “শবে বরাত” বা ‘ভাগ্য রজনী’ এই টার্মটা নিয়ে। ইসলামের আবির্ভাবের প্রায় ৫০০ বছর পরে এই টার্মটা প্রথম ব্যবহৃত হয়। রাসূলের যুগে, সাহাবীদের যুগে, তাবেয়ীদের যুগে, তাবে-তাবেয়ীদের যুগেও এই টাইপের টার্ম বা রেওয়াজ-রসম প্রচলিত ছিল না। ফার্সিতে এর অর্থ হচ্ছে ভাগ্য রজনী। কিন্তু এ রাতে আদৌ ভাগ্য লিখা হয় না। ভাগ্য লিখা সম্পর্কে যে হাদীসগুলোর উল্লেখ করা হয় তার সবগুলোই জাল হাদীস। সূরা আদদুখান এর ৩-৪ নাম্বার আয়াতের ব্যাখ্যায় এই রজনীকে উল্লেখ করেন অনেক মুফাসসির। কিন্তু সেটা মূলত বুঝিয়েছে লাইলাতুল ক্বদরকে। আরবিতে এই রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বারাআত’ অর্থাৎ মুক্তির রজনী। আল্লাহ এই রাত্রিতে শির্ককারী ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকলকে গুণাহ থেকে মুক্তি দিবেন।
সমাজের প্রচলিত ভুল ধারণা হচ্ছে এটা যেহেতু ভাগ্য রজনী তাই এই দিন/রাতে ভাল খাবার খেতে হবে। তাহলে সারা বছর ভাল খাওয়া যাবে। তা না হলে ভাল খাবার নাও জুটতে পারে। এরও কোন ভিত্তি নাই। সারা রাত ভ্যানে করে ঘুরে বেড়ানো, আতশবাজি ফুটিয়ে জনগণের সমস্যা তৈরি করা, মাজারে গিয়ে বাতি জ্বালানো-সিজদা করা ইত্যাদি থেকে অবশ্যই দূরে থাকা উচিত।
এই রাত্রির হাদীস স্বীকৃত আমলঃ
হাদীস দ্বারা যেটা স্বীকৃত তা হচ্ছে এই রাতে আল্লাহ দুই শ্রেণীর মানুষ ব্যাতীত সবাইকে ক্ষমা করে দিবেন। দুই শ্রেণী হচ্ছে ১। যারা আল্লাহর সাথে শির্ক করে ২। যাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ আছে।
একটা দূর্বল হাদীস দ্বারা ৩টি আমলের উল্লেখ পাওয়া যায়ঃ দোয়া করা, নফল সালাত আদায় করা ও কবর জিয়ারত করা।
হযরত আলা ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (স) রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা অথবা বলেছেন, ও হুমাইরা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী জিঞ্চেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। রাসূলুল্লাহ (স) তখন ইরশাদ করলেন, هذه ليلة النصف من شعبان ان الله عزو جل يطلع على عباده فى ليلة النصف من شعبان فيغفر للمستغفرينويرحمالمشترحمين ويؤخر اهل الحقد كماهم ‘এটা হল অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহ প্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।‘ [শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৬৮]
ইমাম বায়হাকী (রহঃ) উক্ত হাদীসটি বর্ণনার পরে একে মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেন।
অর্থাৎ নফল নামাজের উল্লেখ আমরা হাদীস থেকে পাই। আর এটা যেহেতু একটা নেক আমল তাই হাদীসটি দূর্বল হলেও এর উপর আমল করাই উচিত। কিন্তু বিভিন্ন ওযিফা ও পুস্তিকায় বিশেষ নিয়মে এই রাত্রিতে নামাজ আদায়ের কথা উল্লেখ থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সূরা, নির্দিষ্ট সংখ্যক বার তেলাওয়াত করে নামাজের চল সমাজে প্রচলিত। যার কোন উল্লেখ হাদীস দ্বারা সমর্থিত নয়। অনেককেই জিজ্ঞেস করতে দেখি “শবে বরাতের নামাজের নিয়ম কী?” আসলে এই রাত্রির নামাজ আর দশটা রাত্রিতে পড়া নফল নামাজের মতই। ভিন্ন কোন পদ্ধতি রাসূল (সাঃ) অবলম্বন করেন নি। তাই নিজেদের মনগড়া সিসটেমে প্রতি রাকাতে ৭ বার বা ১১ বার সূরা ইখলাসের মাধ্যমে ‘শবে বরাতের নামাজ’ না পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে ২ রাকাত করে যতটুকু পারা যায় পড়া উচিত। উচিত আমাদের নামাজকে দীর্ঘ করা, সিজদাকে দীর্ঘ করা। দুয়া-ইস্তিগফার করা। ঘুমাবার দরকার হলে ঘুমানো। এমন যেন না হয় সারা রাতের নফল ইবাদতের ক্লান্তিতে ফজরের ফরজ নামাজ ছুটে যায়।
পর দিনের রোজাঃ
আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখা নবীজির (সা) সুন্নাহ। আর শাবান মাসে রাসূল (সাঃ) অনেক বেশি রোজা রাখতেন। সে হিসেবে ১৫ তারিখ রোজা রাখাও সুন্নাহ। কিন্তু এর বাইরে শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মতানৈক্য রয়েছে।
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, জ্ঞপনের শাবানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোযা রাখ। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোন রিযিক প্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দেব। এভাবে সুব্‌হে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাঞ্চআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৩৮৪] হাদীসটির বর্ণনার সনদ যয়ীফ হলেও আলেমগণ নেক আমলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীসের উপর আমল করতে বলেছেন।
এজন্য ফিক্‌হের একাধিক কিতাবেই এদিনে রোযাকে মুস্তাহাব বা মাসনূন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অনেকে বিশেষভাবে এ দিনের রোযাকে মুস্তাহাব বা মাসনুন বলতে অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ত্বাকী উসমানী তার ইসলাহী খুতুবাতে বলেন, ‘আরো একটি বিষয় হচ্ছে শবে বরাতের পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শাবানের পনের তারিখে রোযা রাখা। গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদীসে রাসুলের বিশাল ভান্ডার হতে একটি মাত্র হাদীস এর সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, -শবে বরাতের পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ।‘ সনদ বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদীসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোযাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের দিকে তাকিয়ে সুন্নাত বা মুস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতে অনুচিত।’
 
শেষ কথাঃ
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কী পরিমাণ বিদয়াত আর কুসংস্কার ঢুকে আছে ভাবলে গা শিউরে ওঠার জোগাড় হয়। আমাদের গ্রামে বেশ ক’বছর আগে ঈদুল আজহায় গিয়েছিলাম। তখন দেখি সবাই জানে “কুরবানীর দিন দো পায়া জানোয়ার জবাই করা যাবে না”। মানে হাঁস-মুরগি জবাই করে খাওয়া যাবে না। কারণ এদের দুই পায়ের সাথে ইসমাঈল (আঃ) এর দুই পায়ের সাদৃশ্য আছে। একদম হারাম হিসেবে সবাই এটাকে জানে। বহু রকম দলীল-যুক্তি দিয়েও তাদেরকে বুঝাতে সক্ষম হই নাই। তখন মাদরাসার ছাত্র ছিলাম। আমাদের বড় এক হুজুরের সাথে একজনকে ফোনে কথাও বলায় দিলাম। এরপরেও তাদের কথা হচ্ছে “বাপ-দাদার আমল থিকা হুইনা আইতাছি। সবাই কি ভুল আছিলো?”
আপনার নিজের ঈমানের একটা পরীক্ষা করতে পারেন। হতেই পারে কোন বিষয়ে আপনার জানার স্বল্পতা আছে। সঠিক তথ্য জানার পর আপনি কি সেটা যাচাই করে তার উপর আমল করবেন নাকি আপনি এতদিন যেরকম ছিলেন সেরকমই থাকবেন? আপনার ঈমানের জোর নিজেই বুঝতে পারবেন। একটা সহিহ হাদীস জানার পরেও সেটাকে ইগনোর করলেন কিনা। সেটাকে মানতে অস্বীকার করলেন কিনা। নিজের ভুল স্বীকার করলেন কিনা। শির্ক-বিদয়াত থেকে বেঁচে থাকলেন কিনা। একটু নিজেকে যাচাই করেন। নিজের ঈমানকে যাচাই করেন। সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরেও অনর্থক তর্ক করবেন নাকি সত্যকে যাচাই করে মেনে নিবেন পুরোটাই আপনার হাতে।
আপনার বাসায় যদি প্রতিদিন হালুয়া-রুটি বানানোর সিসটেম হয়ে থাকে তাহলে এই দিনেও হালুয়া রুটি খান। সমস্যা কী? যেমন আমাদের বাসায় প্রায়ই সকালের নাস্তায় হালুয়া বানানো হয়। ইন্টারমিডিয়েটের সময় প্রায় সারা বছরই কলেজে হালুয়া আর রুটি টিফিন নিয়ে যেতাম। কিন্তু যদি এই দিনকে কেন্দ্র করে হালুয়া রুটি বানান তাহলে কিন্তু এটাই প্রমাণিত হয় সমাজের একটা ভুল রেওয়াজের সমর্থনে আপনি হালুয়া-রুটি বানিয়ে খেলেন। হয়ত আপনি এটাকে নিছক একটা কালচার হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে ইসলাম একটি complete code of life. অর্থাৎ একটা জীবন কিভাবে চালাতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখানে দেয়া আছে। কিভাবে খেতে হবে, কিভাবে ঘুমাতে হবে, আমার ইনকাম কি রকম হবে, এক্সপেন্স কোন কোন খাতে হবে, আমাদের অর্থনীতি কেমন হবে, রাজনীতি কেমন হবে সকল কিছুর উল্লেখ কিন্তু ইসলামে আছে। তাই শবে বরাত কিভাবে পালন করবেন বা এই দিনের কালচারটা হাদীসের অনুসরণেই হওয়া উচিত। প্রচলিত ভুলের উপর ভিত্তি করে ইসলামী কোন দিবস বা উপলক্ষ্য উদযাপন অনুচিত। কারণ নিজেদের ইচ্ছা মত রীতি বানাতে গেলেই সেটা বিদয়াত হবার আশংকা থেকে যায়।
ছোট বেলায় আশেপাশের বাসায় হালুয়া-রুটি বানানো হত। আমাদের বাসায় হত না। আমরা খেতে চাইতাম। আম্মু সুন্দর করে আমাদের ভাই-বোনকে বুঝাতেন। কেন এই দিনে এটা বানানো উচিত না। আমাদেরকে দুই-একদিন আগে-পরে বানিয়ে খাওয়াতেন যেন আমাদের খাওয়ার ইচ্ছাটা পূরণ হয় একই সাথে যেন বিদয়াত থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর ১০টা দিনের মতই এই দিনে আমাদের রান্নাবান্না হয়। এই নোটটা যখন লিখছি তখন দুপুর ২টা। আজকের দুপুরের মেনুতে দেখতে পেলাম ভাতের সাথে আছে বেসনে ভাজা বেগুনী আর ডাল দিয়ে পাট শাক। ‘সুশিক্ষিত’ বাবা-মা পাওয়া আল্লাহর অনেক বড় একটা নিয়ামত। আলহামদুলিল্লাহ… 🙂
অফ টপিকঃ রমজানের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী, রোজা সংক্রান্ত বেশ কিছু চমৎকার আর্টিকেল, রমজানের খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির সমন্বয়ে আমরা একটা Android App ডেভেলপ করেছি। দারুণ এই এপটি ফ্রি ডাউনলোড করতে পারবেন Google Play Store থেকে।
ফুটনোটঃ
শবে বরাত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে এসব লিংক থেকেঃ
[এটি আমার মৌলিক কোন লিখা নয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলোকে আমি কেবল এক জায়গায় সন্নিবেশ করেছি। আমার জানার স্বল্পতার কারণে লেখার মধ্যে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সেগুলোর ব্যাপারে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃতজ্ঞ থাকব। নোটটাকে জরুরি মনে করলে শেয়ার করতে পারেন। হয়ত অনেকের ভুল ধারণা এর মাধ্যমে ভাংতে পারে। ধন্যবাদ।]

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *