About Me

Hasan Abdullah

১৯৯১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম এই দুনিয়ার আলো দেখি।

প্রথমে নাম রাখা হয়েছিল রশিদুল হাসান সজিব। পরে কিছু কারণে নাম চেঞ্জ করে রাখা হল আবদুল্লাহ আল হাসান।  আর উচ্চারণের সুবিধার্তে ফেসবুকে আমি নাম ব্যবহার করি হাসান আবদুল্লাহ

ঢাকায় থাকি। গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ। ৩ ভাই বোনের মধ্যে আমি সবার বড়।

পড়াশোনা করছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা সিটি কলেজে। কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম। জুন-জুলাই (২০১৭) এর মধ্যে রেজাল্ট হবে।

১০ এপ্রিল, ২০১৭ থেকে Associate Software Engineer (Android) হিসাবে কাজ করছি মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Inovio এর ঢাকা অফিসে।


আব্বুর চাকুরির সুবাদে সরকারি কলোনীতে থাকার সৌভাগ্য হয়েছে এবং এখনো থাকছি। কলোনীর স্কুলে শিশু থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ি। এরপর হাফেজ হবার উদ্দেশ্যে মাদরাসায় চলে যাই। ৩ বছরের কিছু বেশি সময় চেষ্টা করে কুরআন হিফজ করতে ব্যর্থ হই। আমার জীবনের প্রথম ব্যর্থতা সম্ভবত এটাই। ১৩-১৪ বছর বয়সেই হয়ত বুঝে যাই মানুষের জীবনে ব্যর্থতার গ্লানি কতটা লজ্জার, কতটা কষ্টের!

নানান জায়গা ঘুরে মিরপুরের মুহাম্মদাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় ভর্তি হই ক্লাস ফোরে। সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি প্রবল ঝোঁক তৈরি হয় এখান থেকেই। লেখালেখি করা, সাহিত্য আড্ডায় যোগ দেয়া, লিটল ম্যাগ, মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা ইত্যাদির সাথে জড়িত হই। স্বপ্ন দেখতে থাকি লেখক হবার। কবি হবার। এখান থেকে দাখিল (equivalent of SSC) পরীক্ষা দিয়ে পাশ করি ২০০৯ সালে। গোল্ডেন এ+ পেয়ে বাসায় আসলাম। আব্বু ধরে কপালে চুমু খেলেন। এখন চিন্তা করি, সেই শেষবার হয়ত তাদের আনন্দের কারণ হয়েছিলাম। এরপর শুধু ক্রমাগত ব্যর্থতা!

মাদরাসা শিক্ষার সমাপ্তি এখানেই! যদিও প্রায়ই ইচ্ছা করে প্রাইভেটে পড়ে মাদরাসার অন্যান্য ডিগ্রিগুলো নিই।

২০১১ সালে HSC দিলাম BCIC College থেকে। দেখতে দেখতে কেটে গেছিল সময়টা। তেমন কোন স্মরণীয় কিছু মনে পড়ে না কলেজ লাইফের। মাদরাসার ফ্রেন্ড মাসুম বিল্লাহ ছিল কলেজের একমাত্র ফ্রেন্ড। রীতিমত পানসে মানুষ, তাই কারো সাথে সাতে-পাঁচেও হয় না। আবার দহরম-মহরম বন্ধুত্বও হয় না। দ্বিতীয় চরম ব্যর্থতার স্বাদ পেলাম ফাইনালে জিপিএ ৫ না পেয়ে!

কোথাও চান্স না পেয়ে আবারো হোঁচট খেলাম। ইচ্ছা ছিল ফিল্ম মেকার হবার। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবার আর শুভাকাংক্ষীদের পরামর্শে B.Sc in Computer Science & Engineering এ ভর্তি হই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা সিটি কলেজে। নতুন জীবনের শুরু হয়েছিল প্রোগ্রামিং শেখার মাধ্যমে। প্রোগ্রামিং এর হাতেখড়ি হয়েছিল শাওন ভাইয়ার মাধ্যমে। তিনি না থাকলে হয়ত এই ব্লগ সাইটে লেখা হত না। আমার জীবনের সকল সাফল্য (যদি কিছু থাকে) তাহলে তার সকল ক্রেডিট এই মানুষটাকে দিলেও হয়ত কম হয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করি।

কলেজের শুরু থেকেই টুকটাক কোডিং করা শুরু করি। প্রথম কনটেস্টের অভিজ্ঞতা হয় কলেজ কর্তৃক আয়োজিত Intra Dept. Programming Contest 2012 এর মাধ্যমে। সেটাই ছিল জীবনের প্রথম প্রবলেম সাবমিট করার ঘটনা। দিনটি ছিল ২৪/০৬/২০১২। এরপর থেকে চেষ্টা চালাতে থাকি। তেমন কিছু করতে পারি নাই কখনোই। প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এর ব্যাপারে একে অন্যকে সাহায্য করার জন্য একটা গ্রুপ খুলি ফেসবুকে। যার ফলে অনেক বিড়ম্বনার স্বীকার হই। অনেকেই ভাবে আমি না জানি কি! বিনয়ের সাথে বলি, আমি অর্গানাইজার। প্রোগ্রামিং শিখছি। এই যা…

থার্ড ইয়ারে এসে শাওন ভাইয়ার পরামর্শেই Android App Development শেখা শুরু করি। এন্ড্রয়েড এপ ডেভেলপমেন্ট এর হাতেখড়ি হয় শিক্ষক ডট কম এর জুলকারনাইন মাহমুদ ভাইয়ার টিউটোরিয়াল দেখে। ভাইয়ার কাছেও আজীবন কৃতজ্ঞ। এরপর BITM এর SEIP প্রোজেক্টের এন্ড্রয়েড কোর্স করি। তবে যা বুঝেছি, যেখানেই কোর্স করি না কেন আমার অক্ষর জ্ঞান থাকলে সব জায়গায় শব্দগঠন শিখিয়ে সর্বোচ্চ একটা বাক্যগঠন পর্যন্ত শেখাবে। এর বেশি কোন জায়গায় কোর্স করে শেখা সম্ভব না। বাক্যগঠন শিখে আমি কবিতা লিখব নাকি গল্প লিখব সেটা আমার স্কিলের উপর নির্ভর করে। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বাক্যগঠন পর্যন্ত শিখতে চাইলে কোন ট্রেনিং সেন্টারের সাহায্যের প্রয়োজন নাই। নেট ঘেটে নিজে নিজেই শেখা যায়।

এখন অনলাইন জাজে সলভ করা বা কনটেস্ট করার সুযোগ হয় না। আফসোস লাগে খুব। যদি টাকার চিন্তা না করতে হত আর আরেকটু ব্যাসিক ভাল থাকত তাহলে ভার্সিটির চার বছরই কনটেস্ট করতাম। তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় Megaminds Web & IT Solutions নামের একটা টিম ছিল। কিছু সিনিয়র আর বন্ধু-বান্ধবরা মিলে টিম আকারে কাজ করতাম। ব্যাসিক সি প্রোগ্রামিং ও প্রোগ্রামিং কনটেস্টকে উদ্দেশ্য করে ডেটা স্ট্রাকচার-অ্যালগরিদমের কোর্সও চালু করেছিলাম আমরা। লোকাল মার্কেটের ফ্রিল্যান্সিং কাজ কর্ম আর কোর্সগুলো থেকে বেশ ভাল উপার্জন করলেও সেটা থেকে বের হয়ে আসি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। এই টিম ও অফিস ম্যানেজ করতে করতে বুঝতে পারছিলাম যে নিজেদের শেখার সুযোগ কম হচ্ছে। ছাত্র জীবনে টাকার পিছনে ছুটলে যা হয় আর কি! সেই চিন্তার জায়গা থেকেই মেগামাইন্ডসের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে পুরোপুরি পড়াশোনা ও সেলফ ডেভেলপমেন্টে মনোযোগ দিই। আল্লাহর কাছে সব সময় প্রার্থনা করতাম যেন পাশ করে বের হবার পর এক দিনও জব ছাড়া বসে থাকতে না হয়। আল্লাহ দোয়া কবুল করেছেন। ফাইনাল ইয়ারের সবগুলো পরীক্ষা শেষ হবার আগেই মনের মত একটা কোম্পানিতে জব হয়ে যায়।

মানুষ হিসেবে নিজের প্রতি অবজারভেশন হচ্ছে আমি ভাল রকমের স্বার্থপর। আত্মকেন্দ্রীক। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন কারো জন্যেই আমার খুব একটা সময় বরাদ্দ থাকে না। এমন কি নিজের আরাম-আয়েশ, ঘুরে বেড়ানো, একটা গল্পের বই পড়ে আনন্দ পাওয়া, মুভি দেখা, গান শোনা কোন কিছুই আর হয়ে ওঠে না। অতি মাত্রার বোরিং মানুষ আমি। তাই ২-১ জনের বেশি আমার বন্ধু নাই। এমনও দিন যায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমার কোন human being এর সাথে কথা হয় নাই। সামনা-সামনি বা ফোনেও! এক সময় হয়ত এর চরম মূল্য দিতে হবে।

খেতে ভালবাসি, ঘুমাতে ভালবাসি, সাইক্লিং করতে ভালবাসি, কাজ করতেও সম্ভবত ভালবাসি। কোন প্রোজেক্ট আসলে দিনের পর দিন ঘরে বসে থেকে প্রোজেক্ট উঠাই। আমার ঘুম, খাওয়ার চেয়ে ক্লায়েন্টকে দেয়া ডেডলাইন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। পড়াতে ভালবাসি। কুরআন পড়া শেখানো দিয়ে আমার স্টুডেন্ট পড়ানো শুরু। সেই ক্লাস ফোর-ফাইভের ঘটনা। এখন আবার ইচ্ছা করছে কুরআন পড়া শিখাব। টাকা মূল শর্ত হবে না। শর্ত হবে ছাত্রের ডেডিকেশন। মেগামাইন্ডসে সি প্রোগ্রামিং এর তিনটা ব্যাচ পড়িয়েছি আমি সহ কয়েকজন মিলে। অ্যান্ড্রয়েডের একটা ব্যাচ শুরু করব এপ্রিলের শুরু থেকে। পড়াতে যে আনন্দ পাই, অন্য কিছুতে তা পাই না।

লিখতে ভালোবাসি। যখন মন খারাপ থাকে তখন লেখা আসে। হতাশার সময় লেখা আসে। আমার ডায়েরির প্রতিটা লিখা একেকটা মন খারাপের ফলাফল। ব্লগের প্রায় প্রতিটা লিখাও একেকটা মন খারাপের কাব্য। প্রতিটা লিখা রেডি করতে অসম্ভব পরিমাণে পরিশ্রম হয়। মাথা ধরে আসে প্রচন্ড। এরপরেও প্রতিটা লেখা পোস্ট করার পর যে আনন্দ, যে তৃপ্তিটা পাই তার কোন তুলনা হয় না।

মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেই না। যেটা করতে পারব না সরাসরি বলে দেই। কোন বিষয় পছন্দ না হলে বলে দেই “এই বিষয়টা আমার পছন্দ হয় নাই”। ঠোঁট কাটা স্বভাবের কারণে হেটার অনেক বেশি। মানুষকে ভালবাসতে ইচ্ছা করে, ভালবাসি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ভালবাসা প্রকাশ করতে পারি না। মানুষকে খোঁচা দিয়ে কথা বলতে পারি। অনেক বাজে একটা স্বভাব। অনেককেই মনে কষ্ট দিয়েছি জেনে-বুঝে। এখন অনুতপ্ত হই। চেষ্টা করছি আচরণ ভাল করার। আগে মানুষকে ক্ষমা করতে পারতাম না। এখন আস্তে আস্তে পারি। এমন কি বিজনেস পারপাসে যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এমাউন্টের টাকা মেরে দিয়েছে তাদেরকেও মন থেকে মাফ করে দিয়েছি। তারা সেই টাকা ফেরত না দিলেও আমি আখিরাতে তাদেরকে আটকাবো না।

খারাপ গুণ হচ্ছে বেশি কথা বলি। আসলে কথা মুখে বেশি বলি তেমন না, কথা বেশি লিখি। লিখা শুরু করলে কাজের চেয়ে অকাজের জিনিস বেশি লিখি। এ কারণে নিজের উপর দীর্ঘ দিন ধরে বিরক্ত।

ধুর…!!!


Contact with me: