পোস্টটি পড়া হয়েছে 6,177 বার

প্রোগ্রামিং কনটেস্ট করব নাকি ডেভেলপমেন্ট শিখব? ভাল CGPA কি দরকার আছে?

“আমি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে।আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।আমি গত এক বছর ধরে সি প্রোগ্রামিং করছি।আমি UVA তে ১০০ সমস্যা সমাধান করছি। গত তিন মাস ধরে সি প্লাস প্লাস করতেছি। আমার কাছে contest মোটামুটি ভাল লাগে কিন্তু ভবিষ্যতে যদি ভাল না করতে পারি, এই জন্য আমি কি অন্য কোনো language শুরু করব।আমার কাছে প্রোগ্রামিং অনেক ভাল লাগে।আমি যদি প্রোগ্রামিং নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাহলে কোন language আমি এখন শুরু করব।পড়াশোনা শেষ করে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার আমার অনেক ইচছা।পিতার বড় ছেলেত তাই টেনশন বেশি। হয়ত এমন একটা ভাষ শিখলাম পড়াশোনা শেষ করে ভাল জব পাইলাম না। ছোট ভাই মনে করে যদি সাহায্য করতেন।”

উপরের লেখাটা প্রোগ্রামিং সংক্রান্ত একটা গ্রুপে পেলাম। এমন প্রশ্ন প্রায় সকল কনটেস্ট্যান্টদের মাথায় ঘুরপাক খায়। পোস্টের নিচে আবার চমৎকার একটা উত্তরও পেলাম। উত্তরটি দিয়েছেন Tawkir Ahmed Isti ভাইয়া। বেশ ভাল লেগেছে তার কথাগুলো। তার কমেন্ট নিয়ে তাই এই পোস্ট করাঃ

“একটু বড় হবে কমেন্টটা কিন্তু আশা করি আপনি উপকৃত হবেন।

১। প্রথম কথা, পড়াশোনা শেষে যখন আপনি কোন সফটওয়্যার ফার্মে জয়েন করবেন তখন আপনার কাছে ফার্মের এক্সপেটশন খুব সামান্য থাকবে।
যদি ভাল কোম্পানী হয় তাহলে তারা কখনো হিসেব করবে না যে আপনি কোন কোন ল্যাঙ্গুয়েজ ভালো পারেন।
কেন করবে না? কারন হচ্ছে একটা প্রোগামিং ল্যাংগুয়েজ হচ্ছে জাস্ট একটা অস্ত্র। আপনি যুদ্ধ তরবারী নিয়েও করতে পারেন আবার কামান নিয়েও করতে পারেন। কিন্তু গুরুতবপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে রন কৌশল আয়তব করতে পারা। তার মানে হচ্ছে, আপনাকে একটা অস্ত্র দিয়ে হলে আপনি সেই অস্ত্রের ব্যবহার শিখে এক মাসের মধ্যে ময়দানে নেমে যেতে পারবেন সেটা।
কোম্পানিগুলো এইগুনটাই চায়, আর এই গুন আয়ত করার সবচেয়ে সহজ এবং সিউর উপায় হচ্ছে পোগামিং কন্টেস্ট।
প্রোগামিং কন্টেস্ট করার সময় আমরা যে সব সমস্যা সমাধান করি সেগুলো হয়তো বাস্তব জীবনে কোন প্রয়োগ নেই কিন্তু ওসব সমাধান করতে যেয়ে
আপনার ব্যাসিক প্রোগামিং নলেজ খুবই খুবই শার্প হবে যেটা আসলে অন্য কোন ভাবে করা কষ্ট।

২। সো আমার পরামর্শ, ভার্সিটি জীবনের প্রথম দুবছর চোখ বন্ধ করে কন্টেস্ট করতে থাকেন।

৩। তৃতীয় বর্ষে এসে আপনার কাজ হবে যে কোন একটা ওয়েব প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখা যেমন ধরেন পিএচপি, জাভা সার্ভলেট এসব। আপনি যদি প্রথম দুবছর কন্টেস্ট করেন
দেখবেন যে এসব আপনার কাছে পানি ভাত লাগবে।

৪। এসময় এসে আপনি বিডি জবসের সাইটে ঢুকবেন আর দেখবেন যে চাকরীর নিয়োগে কোন কোন ফ্রেমওয়ার্ক বা ল্যাঙ্গুয়েজ চায় এবং আপনি নিজের সাথে তুলনা করে দেখবেন যে এবস ক্ষেত্রে আপনার পারদর্শিতা কেমন।

অনেস্টলি যখন আপনি চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, দেখবেন আপনাকে প্রোগামিঙ্গের ব্যাসিক প্রশ্ন করা হবে, ডাটা স্ট্রাকচার নিয়ে কথা জিজ্ঞেস করবে, এলগোরিদমের কথা প্রশ্নে আসবে। ডিজাইন প্যাটার্ন সম্পর্কে জানতে চাবে।
তখন ওসব আপনি গুলির মতো উত্তর দিতে পারবেন।

৫। সিজিপিএ একটা ফ্যাকটর, সো এসবের পাশে পাশে পড়াশোনা টা চালায় যাবেন। সিজিপিএ খারাপ হলে অনেক কোম্পানী হয়তো আপনার সিভি পড়েও দেখবে না।

৬। এইটা সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট বিষয়, মানুষের সাথে পরিচিত হবেন, ভালো প্রোগামার যারা তাদের সাথে কথা বলবেন। আপনি যাদের সাথে মিশবেন আপনি তাদের মতোই হবেন। দেশে অনেক অনেক ফ্রী সেমিনার হয় সেসবএ
অংশগ্রহণ করবেন। নিজে যা শীখতেসেন সেসব নিয়ে ব্লগ লিখবেন, ইউটিউবে ভিডিও লেকচার দেখবেন।

আপনার উন্নতি কেও ঠেকাতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।”

————————————–
CGPA নিয়ে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কথা বলেছেন Mukit Chowdhury ভাইয়া। সেগুলো হচ্ছেঃ
“বাংলাদেশে জবের জন্য হয়ত cg ফ্যাক্ট না, কিন্তু আপনি যদি বাইরের কোন ভাল ফার্মে জব করতে চান? বা আপনি যদি বাইরে সেটেল্ড হতে চান? তখন কিন্তু cg টা অনেক ইম্পর্টেন্ট। খুব ভাল কোডার না হলে কিন্তু শুধু জব দিয়ে বাইরে যাওয়া পসিবল না। কিন্তু শুধু cg দিয়ে খুব ভাল কোডিং স্কিল না নিয়ে/একদম শূন্য কোডিং স্কিল নিয়েও বাইরে চলে যেতে দেখেছি। smile emoticon সমস্যা হল, যত ভাল কোডারই হোক না কেন, কারো ইচ্ছা করে না, ১৫/২০ বছর একটানা দেশে কোডিং করতে। তখন একটা পর্যায়ে সবাই দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তা করে। কিন্তু পর্যাপ্ত cg না থাকার কারণে, অনেকেই তা পারে না। আপনি বলতে পারেন, জব দিয়ে তো যাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা হল, জবের জন্য প্রতি বছরে ভিসা প্রতিটা দেশের লিমিটেড থাকে, কিন্তু স্টুডেন্ট ভিসা লিমিটেড না। আপনার সব কাগজ-পত্র ওকে, তারপরও আপনি ওয়ার্ক ভিসা নাও পেতে পারেন, কিন্তু কাগজ-পত্র ওকে থাকলে, আপনার স্টুডেন্ট ভিসা মোটামুটি নিশ্চিত।
আর দেশের বেশিরভাগ কোম্পানিই আসলে ওয়েল ম্যানেজড না। যার কারণে একজিন ফ্রেশার বেশিরভাগ সময়ই জবে ঢুকে হতাশ হয়ে পড়ে। এদিক থেকে তুলনামূলকভাবে বাইরে মাস্টার্স/phd এর জন্য গিয়ে এরপর সেখানেই কোন একটা ফার্মে ঢুকে যাওয়া বেটার ক্যারিয়ারের জন্য। এইজন্যও cg ইম্পর্ট্যান্ট।”

হ্যাপি কোডিং… 🙂

10 thoughts on “প্রোগ্রামিং কনটেস্ট করব নাকি ডেভেলপমেন্ট শিখব? ভাল CGPA কি দরকার আছে?

  1. আমি অনেক এর কাছ থেকেই শুনছি যে প্রগ্রামিং নিয়া সেমিনার করা হয়। কিন্তু কোথায় কখন করা হয় তা আমি জানি নাহ , যদি কাউ বলতান তাহলে আক্তু ভাল হত,

  2. আমার সিজিপিএ আছে ৩.৬৭। কিন্তু প্রোগ্রামিং এ স্কিল তেমন ভালো নয়। বলতে পারেন সাপোটের অভাব।
    বন্ধুদের অনেক কে অনেক কিছুই করতে দেখি।
    অনেকের আবার cg কম। তাই চিন্তার ফারাক লক্ষ্য করি। এখন 6th এ আছি। সামনে কিভাবে চললে ভালো হয়?? একটা কর্মপন্থা আশা করছি।

    1. প্রোগ্রামিং ছাড়াও CSE গ্র্যাজুয়েটদের আছে করার মত অনেক কিছু!
      যদি প্রোগ্রামিং এর ব্যাপারে আপনার নিজের প্রতি কনফিডেন্স থাকে তাহলে নিজে নিজেই শেখা শুরু করতে পারেন। একা একা শুরু করতে হলেও আপনি কিন্তু একা না। ফেসবুকে বেশ কয়েকটা গ্রুপ আছে যেখানে মানুষ নিঃস্বার্থ ভাবে আপনাকে সাহায্য করবে। আপনাকে প্রবলেম সলভ করে দিবে না। শিখতে সাহায্য করবে।

      আর যদি মনে করেন প্রোগ্রামিংটা আপাতত না করতে, সেক্ষেত্রে আইটি ইন্ডাস্ট্রির যে কোন একটা সাইটের উপর দক্ষ হউন। “ভাইয়া কী শিখব? কোন সাইটের ডিমান্ড বেশি” এই প্রশ্নটা আশা করি করবেন না। টাকা যে কোন লাইনে গেলেই কামাতে পারবেন। সব লাইনের কাজে হয়ত আপনি আনন্দ পাবেন না। যেটায় আনন্দ পাবেন সেটা করবেন। আর কোনটায় আনন্দ পাবেন সেটাও আপনাকেই বের করতে হবে। কী কী স্কোপ আছে এই সাবজেক্ট থেকে পাশ করে বের হবার পর, সেগুলোর উপর স্টাডি করেন। গুগল সার্চ করে একটা ফিল্ডের কাজের ব্যাপারে হয়ত ৩০% ধারণা পাবেন। এবার এক্সপার্টদেরকে বলেন আপনি এই এতটুকু বুঝেছেন বাকিটা বুঝতে হলে কী করা লাগবে? তখন তারা হেল্প করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *