পোস্টটি পড়া হয়েছে 215 বার

রমজানের ভুল ধারণা – ১ [সেহরি ও ইফতারের সময় সংক্রান্ত]

আমাদের দেশের মানুষের মাঝে ইসলামের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব অত্যন্ত প্রকট। আমরা সাধারনত নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর পড়ালেখা ছাড়াই আধা আধা ধারণার উপর ভিত্তি করে জীবন চালাই। সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ ছাড়াই আমরা আমাদের ‘মুরুব্বি’ বা ‘শোনা কথা’র উপর ভিত্তি করে অনেক ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে থাকি। আর সে বিষয়ে ভুলটা ধরিয়ে দেয়ার পরেও আমরা মানতে চাই না সেটাকে ভুল হিসাবে। আমাদের মানতে কষ্ট হয় যে এতদিন আমাদের সেই ‘মুরুব্বি’দের কথাগুলো ভুল ছিল বা আমরা যা শুনে শুনে জেনে এসেছি সেগুলো ভুল ছিল। এই কষ্ট হবার জায়গা থেকে আমরা ভুলগুলোকে সঠিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লেগে যাই। একটার পর একটা খোড়া যুক্তি দিয়ে যাই যদিও আমাদের কাছে কোন কোরআন বা হাদীসের দলীল না থাকে। হরহামেশাই বলে থাকি “কত নতুন নতুন ফতোয়া শুনতেছি! হুজুরদের যা করলে সুবিধা হয় সে অনুযায়ী নতুন হাদীস বের করে”। যা অত্যন্ত গর্হিত ও অন্যায় কাজ। ইবাদত করছি নাকি বিদআতে নাক ডুবাচ্ছি সেটা আমরা খুব কমই অনুসন্ধান করি। অসংখ্য জাল হাদীস আর ভ্রান্ত ধারণার মাঝে সমাজ নিমজ্জিত। খুব খুব কমন প্রচলিত একটা জাল হাদীসের উল্লেখ করে মূল আলোচনায় যাব। এটা আসলে জাল হাদীসও না বরং মনিষীদের বাণী। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, ডজন খানেক লোক অন্তত পাওয়া যাবে যারা এটা নিয়ে অহেতুক তর্ক করবেন। কথিত হাদীসটি হচ্ছেঃ

জ্ঞানার্জনের জন্য সুদূর চীন দেশ হলেও যাও।

আমাদের অনেকের ভুল ধারণা আছে যে “আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত সেহেরী খাওয়া যায়। আর, ইফতারের জন্য নিজের এলাকার মসজিদের আজান শুনলেই শুধু ইফতার করা যাবে”। আসলে ব্যাপারগুলো এমন না। আমরা কিছু ভুল ধারণার উপর বসে আছি। এই দুটি বিষয়ের উপর এখানে আলোকপাত করব।

ফজরের আযানের সময় সেহরি খেতে থাকলে রোজা শুদ্ধ হবে না

সেহরীর শেষ সময় হচ্ছে সুবহে সাদিক। অর্থাৎ পুব আকাশে হালকা সাদা আলোর আভা দেখা যাবার সাথে সাথেই সেহরীর সময় শেষ হয়। আর এই সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত ফজরের নামাজের সময় থাকে। যেমনঃ আজকের সেহরীর শেষ সময় ছিল 3:42 am. অর্থাৎ সুবহে সাদিক শুরু হচ্ছে ৩টা ৪২ মিনিট থেকে। তার মানে দাঁড়ায় ৩টা ৪২ থেকে ফজরের সময় আরম্ভ হচ্ছে। রোজার সময় সুবহে সাদিক শুরু হবার ৫-৬ মিনিটের মধ্যেই ফজরের আজান হয়ে নামাজের জামাত দাঁড়ায়। কিন্তু অন্যান্য সময় ফজরের আজান ও জামাত হয় আরো পরে। ফজরের জামাত শেষ হয় সূর্য ওঠার ১০-১২ মিনিট আগে। তাই দেখা যাচ্ছে যে ফজরের আজান আগে বা পরে হতে পারে, আজান শুরু হবার আগেই সেহেরীর শেষ সময় পার হয়ে যায়। অতএব এটা মনে করার কোন কারণই নাই যে আজান হবার পূর্ব পর্যন্ত বা আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত খাওয়া যাবে। আজানটা সেহরীর শেষ সময় নির্দেশ করে না বরং সুবহে সাদিকই সেহরীর শেষ সময় নির্দেশক।

আযান দেয়ার সময় পানাহার করলে ঐ দিনের রোজাটা নষ্ট হয়ে যাবে। পরে আবার তার কাজা আদায় করতে হবে

তাই আমাদের সকলেরই উচিত নিজ নিজ এলাকার সুবহে সাদিক বা সেহরীর শেষ সময় অনুযায়ী সেহরী খাওয়া শেষ করা। মসজিদের সাইরেন বা রেডিও-টিভির ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করার থেকে নিজেই সতর্ক হওয়া উত্তম। ভাল হয় সতর্কতার জন্য শেষ সময়ের ২-৩ মিনিট আগেই খাওয়া-দাওয়া শেষ করা।
উল্লেখ্য যে, আবু দাঊদ শরীফের এক হাদীসের বর্ণনায় পাওয়া যায় নবী (সাঃ) বলেছেন “আযান চলাকালীন সময়ে কেউ খেতে থাকলে সে যেন আযানের কারণে খাওয়া বন্ধ না করে। বরং তার প্রয়োজন পুরো হওয়া পর্যন্ত খাদ্যগ্রহন করে।” অনেকেই এই হাদীসের উপর আমল হিসেবে আযানের সময়েও খাদ্যগ্রহনের পক্ষে মত দেন।
তবে এই আজান বলতে ঠিক আমাদের দেশের মত আযানের কথা বুঝানো হয় নি। দুটি আযান দেয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত ছিল। ১ম আযান সেহরী খাওয়ার জন্য এবং ২য় আযান সেহরী খাওয়া শেষ করার জন্য এবং এজন্য দুজন মুআজ্জিনও নিয়োগ করা ছিল। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: « إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ » “বেলাল রাতে আযান দেয়। অত:এব তোমরা বেলালের আযান শুনলে পানাহার করতে থাক ইবনে উম্মে মাকতুমের আযান দেয়া পর্যন্ত।”

সুনানুন নাসাঈর হাদীসে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُوقِظَ نَائِمَكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ وَلَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا يَعْنِي فِي الصُّبْحِ “বেলাল আযান দেয় এজন্য যে, যেন ঘুমন্ত লোক জাগ্রত হয় আর তাহাজ্জুদ আদায়কারী ফিরে আসে অর্থাৎ নামায বাদ দেয় এবং সেহরী খায়।” বুখারী-৫৯৪ :

আহমদ ইব্ন ইউনুস (র) আবদুলাহ্ ইব্ন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে । কেননা, সে রাত থাকতে আযান দেয়- যেন তোমাদের মধ্যে যারা তাহাজ্জুদের সালাতে রত তারা ফিরে যায় আর যারা ঘুমন্ত তাদের জাগিয়ে দেয় । তারপর তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেন: ফজর বা সুবহে সাদিক বলা যায় না, যখন এরূপ হয়- তিনি একবার আঙ্গুল উপরের দিকে উঠিয়ে নীচের দিকে নামিয়ে ইশারা করলেন, যতণ না এরূপ হয়ে যায় । বর্ণনাকারী যুহাইর (র) তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয় একটি অপরটির উপর রাখার পর তাঁর ডানে ও বামে প্রসারিত করে দেখালেন । [ অর্থাৎ আলোর রেখা নীচ থেকে উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে যখন প্রসারিত হয়, তখন প্রকৃতপে ফজরের ওয়াক্ত হয় না । ইহাকে ‘সুবহে কাযিব’ বলা হয় । কাজেই এ রেখা দেখে ‘সুবহে সাদিক’ হয়ে গেছে বলে যেন কেউ মনে না করে । তবে যখন পূর্বাকাশে আলোর রেখা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত হয়, তখনই প্রকৃতপক্ষে সুবহে সাদিক ।]

আযান শুরু আগ পর্যন্ত কী সেহরি খাওয়া যাবে?

উপরের আলোচনার পরে অনেকে মনে করতে পারেন আযান শুরুর আগ পর্যন্ত সেহরী খাওয়া যায়। আসলে সেটাও সঠিক না। আমাদের দেশের আযান শুরু হয় সুবহে সাদিকের পর। আর সেহরীর শেষ সময় হচ্ছে সুবহে সাদিক শুরুর আগ পর্যন্ত। তাই আযান পর্যন্ত সেহরী খেতে থাকলে তার রোযা হবে না। কারণ সুবহে সাদিক শুরু হবার ৪-৫ মিনিট পর আযান দেয়া হয়। এই ৪-৫ মিনিট সময়ের মধ্যেও সেহরি খাওয়া যাবে না। অনেককে আযান পর্যন্ত সময় পান খেতে দেখা যায়। পান মুখে দিয়ে আযান পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলে রোযা হবে না।-শামী:২/৪০৫, উসমানী:২/১৮৬
অনেকে বলে থাকেন আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যায়। তাহলে প্রশ্ন করা যায় কোন মসজিদের আযান শেষ হলে আপনি খাওয়া শেষ করবেন? উত্তরটা কি এমন হবে যে, সর্বশেষ আযান শেষ হবার আগ পর্যন্ত খেতেই থাকবেন? কোন মসজিদে সেহরি শেষ হবার ১০ মিনিট পর আযান দিলে তাহলে আপনার টার্গেট কি এই মসজিদের আযানই হবে? নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন লজিকটা কতখানি দূর্বল!!!

 

 

 
সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময় না জেনে সেহরির সময় শেষে বা ইফতারের সময়ের আগেই ইফতার করলে রোজা শুদ্ধ হবে না। পুণরায় তা আদায় করতে হবে। আপনার জেলার স্থানীয় সময় খুব সহজে জানতে পারবেন আমাদের ডেভেলপ করা একটি এন্ড্রয়েড এপের মাধ্যমে। জেলা অনুযায়ী সেহরি-ইফতারের সময়ের কাউন্ট ডাউন, এলার্ম, প্রয়োজনীয় দোয়া-দরূদ, কুরআন-হাদীসের অর্থ সহ বিষয় ভিত্তিক আর্টিকেল ও মাসআলা রয়েছে এই এপে। এছাড়াও রয়েছে প্রতিদিন একটি করে হাদীসের নোটিফিকেশন যার জন্য কোন ইন্টারনেট বা মোবাইল ব্যালেন্স খরচের ভয় নেই! এপের দারুণ একটি ফিচার হচ্ছে ডিজিটাল তসবীহ! যুক্ত আছে রমজানের খাদ্যাভ্যাসের উপর বেশ কিছু উপকারী লেখা। চমৎকার এই এপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এই লেখাটির উপর।
এছাড়াও বাংলাদেশি এপ কেনা বেচার প্ল্যাটফর্ম AppBajar থেকেও এপটি কিনতে পারবেন। বিজ্ঞাপনমুক্ত ভার্সনটি কেনার জন্য ক্লিক করুন এখানে।

ইফতার করার জন্য এলাকার মসজিদের আযান শোনা বাধ্যতামূলক নয়

ইফতার শুরু হয় সূর্যাস্তের মাধ্যমে। আর মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরুও হয় সূর্যাস্তের পরে। আর মাগরিবের নামাজের সময় যেহেতু সংক্ষিপ্ত তাই সাধারনত সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই আজান দেয়া হয়ে থাকে। অন্যান্য সময় ৪-৫ মিনিট দেরি হলেও রোজার সময় সূর্যাস্তের সাথে সাথেই আজান দেয়া হয়। কেননা আমরা আযান শুনেই ইফতার করতে অভ্যস্ত বা ইফতারের শুরুর সময় ও মাগরিবের শুরুর সময় একই।অনেক জায়গায় দেখি নিজ এলাকার বাইরের কোন মসজিদের আজান শোনা যাচ্ছে অর্থাৎ সূর্য ডুবে গেছে (বা ইফতারের সময় হয়ে গেছে) কিন্তু রোজাদাররা নিজ এলাকার মসজিদের আজান শোনার অপেক্ষায় ইফতার শুরু করছেন না। আসলে এর দরকার নাই। কেননা একই দেশের পাশাপাশি দুই মহল্লার মধ্যে সূর্যাস্তের সময় একই হয়ে থাকে। কোন মসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেবের হয়ত কোন কারণে আজান দিতে দেরি হতে পারে। আবার দেখা যায় রেডিও বা টিভিতে মাগরিবের আজান প্রচারিত হচ্ছে কিন্তু রোজাদারেরা ইফতার করছে না। প্রায় সব টিভি বা রেডিওতেই ঢাকার স্থানীয় সময়ের উপর ভিত্তি করে আজান প্রচারিত হয়ে থাকে। তাই ঢাকার বাসিন্দারা রেডিও-টেলিভিশনের আযান শুনে ইফতার করলে কোন সমস্যা নাই। অনেকে মনে করতে পারেন যে রেডিও-টিভিতে আগে ভাগে আযান দেয়। মসজিদে দেরিতে দেয়। দেরি করে ইফতার করাটাই সেফ। কিন্তু ঘটনা অন্য রকম। মুয়াজ্জিন সাহেবরা সাধারণত রেডিওর আজান শুনে আগে পানি পান করে বা একটা খেজুর খেয়ে ইফতার করেন এবং এরপর আজান দিয়ে থাকেন। লক্ষ্য করে দেখুন, হুজুরই কিন্তু রেডিওর সময়টা ফলো করছেন। কারণ সেটা ভুল হবার আশংকা খুবই কম। টেলিভিশন-রেডিওর আজান আর মসজিদের আজানের মধ্যে কিছু সময়ের পার্থক্য হয়। তবে সেই পার্থক্যটা আধা মিনিটের বেশি না। আর পার্থক্যটা হয়ে থাকে মূলত মুয়াযজ্জিন সাহেবের পানি মুখে দেয়ার কারণেই। বাড়তি সতর্কতার জন্য আমরা একটু পরে ইফতার করতেই পারি। এই প্যারা লিখার উদ্দেশ্য হল আমরা যেন কোন ভুল ধারণা নিয়ে পরে ইফতার না করি। পরে ইফতার করলে যেন সেটা হয় বাড়তি সতর্কতার জন্য। কারণ ইফতারের সময় হয়ে গিয়েছে মনে করে ইফতার করা হল কিন্তু আসলে ইফতারের সময় হয় নাই, তাহলেও রোজাটি নষ্ট হয়ে যাবে। যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ইফতারের সময় হয়ে গেছে তাহলে উচিত ইফতার করে ফেলা। কারণ সময় হয়ে যাবার সাথে সাথেই ইফতার করা রাসূলের (সাঃ) সুন্নাহ।

সেহরি ও ইফতার দুটি ইবাদত। তাই আমাদের উচিত এই ইবাদতের উপর আমল করা। সেহরির খাবার অত্যন্ত বরকতপূর্ণ। এর থেকে বঞ্চিত হওয়া অনুচিত। ঘুম থেকে উঠে যদি দেখা যায় ১-২ মিনিট সময় বাকি আছে তাহলে অন্তত এক গ্লাস পানি হলেও পান করা শ্রেয়। কিন্তু সময় না থাকলে ঐ অবস্থাতেই না খেয়ে রোজা রাখতে হবে। এটা মনে করার কোন কারণ নাই যে সেহরি না খেলে রোজা শুদ্ধ হবে না। রমজান ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে বাড়িতে খাবারের ব্যবস্থা না থাকলে রাসূল (সাঃ) প্রায়ই না খেয়ে ঐ দিনটি রোজা রেখে কাটাতেন।

[এটা কোন মৌলিক লেখা নয়, আর আমিও ইসলামের কোন পন্ডিত ব্যক্তি নই। আমি বিভিন্ন রিসোর্স থেকে কিছু তথ্য একত্রে লিখেছি মাত্র। কোথাও কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে অনুগ্রহ করে জানাবেন। আমি ঠিক করে দিব। দীর্ঘ লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। এতে হয়ত তার কিছু কনসেপ্ট ক্লিয়ার হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান দান করুন]

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *